আলমডাঙ্গার বলেশ্বপুর বিলের মাছ ধরা কেন্দ্র করে দু’পক্ষের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার আইলহাস ইউনিয়নের বলেশ্বরপুর গ্রামের একটি বিলে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বিবাদমান দু-পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ফোর্সসহ আলমডাঙ্গা থানার অফিসার্স ইনচার্জ আলমগীর কবীর উভয়পক্ষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান এবং দু’পক্ষের কথা শুনে তাদেরকে নিজ নিজ গৃহে ফেরত পাঠান।
বিবাদমান ১ম পক্ষের গোলাম কিবরিয়া পবন বলেন, আমরা আদালত থেকে রায় পেয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশকে জানিয়ে বিলে মাছ ধরার জন্য যায়। কিন্তু রাসেল গং আমাদের বাঁধা দিলে দুপক্ষের মধ্যে বাক-বিতন্ডার সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা আমাদের উভয়পক্ষকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানালে আমরা পুলিশের কথামতো ঘটনাস্থল ত্যাগ করি। এছাড়া চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাজিয়া আফরিন স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, ১ম পক্ষ সাক্ষ্য প্রমাণ দ্বারা ২য় পক্ষের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। বিধায় নালিশী জমিতে ২য় পক্ষের প্রবেশ বারিত করে প্রসিডিংস চুড়ান্ত করা হলো। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আলমডাঙ্গার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর রায়ের কপি প্রেরণ করা হোক।
এদিকে বিবাদমান ২য় পক্ষের নুরু মিয়ার ছেলে রাসেলুজ্জামান রাসেল বলেন, ভূমিদস্যু গোলাম কিবরিয়া আলমডাঙ্গা থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে তাদের সহায়তায় আলমডাঙ্গা এলাকা থেকে জাল-দড়াসহ ১০-১২ জনের একদল জেলে এনে মাছ ধরার চেষ্টা করে। আমরা খবর পেয়ে আমাদের পক্ষের লোকজন নিয়ে তাদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করি। আলমডাঙ্গা থানার অফিসার্স ইনচার্জ আলমগীর কবীরের সাথে কথা বলে আমরা তার আশ্বাসে ঘটনাস্থল ত্যাগ করি। আর আদালতের রায়ে ৩ বিঘা পরিমাণ জমির পক্ষে গোলাম কিবরিয়া গং পেয়েছেন। কিন্তু ওই বিলের মোট জমির পরিমাণ প্রায় ১৭ বিঘা। যার অধিকাংশ জমি আমাদের নামীয় রেকর্ডিয় সম্পত্তি, যা আমাদের দখলে। এছাড়া রায়প্রাপ্ত ওই ৩বিঘা জমির মধ্যে গোলাম কিবরিয়া পবনের কিছু জমি খরিদ করা, কিছু জমি লীজ গ্রহণ করা ও কিছু জমি মৌখিক লিজ গ্রহণ করা। আর চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে যে রায় দেয়া হয়েছে সেই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা আপিল করবো।
আলমডাঙ্গা থানার ওসি আলমগীর কবির জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ফোর্সসহ দু-পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কায় উভয়পক্ষকে ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানায় এবং দু-পক্ষের কথা শুনে তাদেরকে নিজ নিজ গৃহে ফেরত পাঠানো হয়েছে। নুরু মিয়া পক্ষের একজন মুরুব্বী বলেন, আমরা আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় চাচ্ছি। যদি আমরা আমাদের পক্ষের যথাযথ কাগজপত্র দেখাতে না পারি তাহলে আপনারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আমাদের কোনো আপত্তি থাকবে না। এছাড়া ঘটনাস্থলে কিছু বয়স্ক পুরুষ-মহিলা থাকায় দু-পক্ষকেই আমরা শান্ত হয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বলি। শেষ পর্যন্ত উভয়পক্ষ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More