আলমডাঙ্গায় শিক্ষকের উত্ত্যক্তায় প্রবাসির স্ত্রীর আত্মহত্যা

আত্মহত্যা প্ররোচণার মামলা : এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে অভিযুক্তরা
আলমডাঙ্গা ব্যুরো: আলমডাঙ্গা উপজেলার কামালপুর গ্রামে শাকিল নামের এক শিক্ষকের উত্ত্যক্তের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন প্রবাসির স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার ভোরে উপজেলার কামালপুর গ্রামে এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। চিহ্নিত ওই শিক্ষকসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল ঘুরে জানা যায়, কামালপুর গ্রামের নাজমুল ইসলাম গত প্রায় ৫ মাস পূর্বে সৌদি আরব গেছেন। ৫ বছরের শিশুকন্যা নিয়ে স্বামীর বাড়িতে থাকেন স্ত্রী সোনিয়া খাতুন (২৫)। আগে থেকেই রূপবতী সোনিয়া খাতুনের ওপর নজর পড়েছিলো একই গ্রামের শাকিল হোসেনের। কামালপুর গ্রামের মঙ্গল আলীর ছেলে শাকিল হোসেন (৪৫) আঠারোখাদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। স্বামী বিদেশ চলে যাওয়ার পর থেকেই শাকিল হোসেন খুব বেশি উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন।
গ্রামসূত্রে জানা যায়, স্বামী বিদেশ চলে যাওয়ার পর প্রতিবেশী ছোট ভাইয়ের বউ সোনিয়া খাতুনের সাথে শাকিল হোসেন প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। গত এক মাস পূর্ব থেকে সোনিয়া খাতুন ওই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেন। শাকিল হোসেনের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন শাকিল হোসেন। তার সাথে সোনিয়ার পরকীয়ার সম্পর্ক আছে বলে গ্রামে প্রচার শুরু করেন শাকিল। পরে শাকিলের সাথে একই গ্রামের মৃত খবিরের ছেলে বয়স্ক কলিম উদ্দীন, ফনির ছেলে দোকানি রনি, আবুল কাশেমের ছেলে উজ্জ্বলও সোনিয়া খাতুনকে উত্ত্যক্ত শুরু করেন। এই ৪ ব্যক্তির অপকর্মের বিষয়ে গ্রামের অনেকেই এখন বলাবলি করছে। এসব কথা সোনিয়া শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে জানালেও অজ্ঞাত কারণে তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। শাকিল হোসেনের পরিবার এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় প্রতিবাদ করার সাহস ছিলো না সোনিয়ার শ্বশুরের পরিবারের। এরই এক পর্যায়ে ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোরে ঘরের আড়াই গলায় ওড়নায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন সোনিয়া। এ আত্মহত্যার পরপর অভিযুক্ত ৪ ব্যক্তিই নিরুদ্দেশ রয়েছেন।
এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাকিল হোসেন বিবাহিত ও দুই সন্তানের জনক। ৭-৮ বছর পূর্বে শেফালী খাতুন নামের পাঁচলিয়া গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করেছেন। শেফালী খাতুনও শিক্ষক। তারা স্বামী-স্ত্রী আঠারখাদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করেন।
এ ঘটনায় সোনিয়া খাতুনের বাবা সকির উদ্দীন বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা দায়ের করেছেন।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More