আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে অসদাচরণ ও চালককে মারধর দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলী : অনির্দিষ্টকালের জন্য টিকাদান বন্ধ ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদের সাথে অসদাচরণ ও তার গাড়ি চালক নূর আলমকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মুন্সিগঞ্জ উপ-স্বাস্থ্য টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় মুন্সিগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের দুই কর্মকর্তা কর্তৃক এ ঘটনা ঘটে। এরা হলেন মুন্সিগঞ্জ ক্যাম্প পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সালাউদ্দিন ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মখলেছুর রহমান। এ ঘটনার পর থেকে আলমডাঙ্গা উপজেলায় অস্থায়ী স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে অনির্দিষ্টকালের জন্য টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে টিকা প্রত্যাশীরা চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। ঘটনার দিন বিকেলেই অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে মুন্সিগঞ্জের পুলিশ ক্যাম্প থেকে আলমডাঙ্গা থানায় বদলী করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিলে কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ’র) নেতারা।
এদিকে রোববার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জেলার তিন উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চুয়াডাঙ্গার সভাপতিসহ জেলার ১৭জন চিকিৎসক টানা এক ঘণ্টা জরুরি বৈঠক করেছেন। সোমবার জেলা প্রশাসকের নিকট বিষয়টি উপস্থাপন করবেন তারা। অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে মানববন্ধনের মাধ্যমে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণার হুশিয়ার দিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চুয়াডাঙ্গার সংগঠনের নেতারা।
অপরদিকে পুলিশের এমন আচরণের বিচার না হওয়া পর্যন্ত এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের নিরাপত্তার অভাবে আলমডাঙ্গা উপজেলার অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, একটি মাত্র আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকাদান অব্যাহত রয়েছে। বাকি অবস্থায়ী পাঁচটা কেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। টিকাদান কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় টিকা প্রত্যাশিরা চরম বিপাকে পড়েছে। যেতে হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতে হচ্ছে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, গত বৃহস্পতিবার সকালে মুন্সিগঞ্জ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রচুর ভিড় হওয়ায় দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার আমাকে বিষয়টি জানায়। এর কিছুক্ষণ পর আমি কেন্দ্রে পরিদর্শনের জন্য যায়। ভিড় সামলে আমি কেন্দ্রে ভেতরে চলে যায়। এসময় আমার গাড়ি চালক নূর আলম টিকা কেন্দ্রে ঢুকতে গেলে দায়িত্বরত পুলিশের এসআই সালাউদ্দিন ও এএসআই মখলেছুর রহমান তাকে বাধা দেন। পরিচয় দেয়ার পরও বাকবিতন্ডতা শেষে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা নূর আলমকে চড়-ঘুষি ও মারধর করে। ঘটনাটি আমার সামনে হওয়ায় আমি এগিয়ে গিয়ে পরিচয় দেয়া সত্ত্বেও আমার সাথে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা খারাপ আচরণ করেন এবং আমাকে মারার জন্য রুখে আসেন তারা। এরপর আমার নাম জিজ্ঞাসা করে খাতায় লিখতে যায়। আমি লজ্জায় আপমানিত হয়ে কেন্দ্র থেকে চলে আসি।
তিনি আরও বলেন, আমার চালকও একজন স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যেই পড়ে। তারা মারধর করতে পারে না। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যেই যদি পুলিশ কর্তৃক মারধর ও লাঞ্ছিতের শিকার হতে হয় তাহলে আমাদের নিরাপত্তা কে দেবে? আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগসহ জেলা মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনকে জানিয়েছি। এছাড়া শনিবার ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সিভিল সার্জন বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছি।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রনি আলম নূর বলেন, ঘটনার পর ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন সাহেব বিষয়টি জানিয়েছেন। আমি আলমডাঙ্গা থানার ওসির সাথে কথা বলেছি। তারা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন।
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ’র) চুয়াডাঙ্গা শাখার সভাপতি ডা. মার্টিন হীরক চৌধুরী বলেন, এটা আসলেই দুঃখজনক ঘটনা। ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদকে মানসিকভাবে লাঞ্ছিত ও তার সাথে অসদাচরন করা হয়েছে। যা একজন চিকিৎসকের জন্য চরম আপমানজনক ঘটনা। এছাড়া তার গাড়ি চালক নূর আলমকে তারই মারধর করেছে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা। স্বাস্থ্য কেন্দ্রেই চিকিৎসকরা নিরাপদ নয়। তাহলে আমরা কোথায় নিরাপদ? রোববার (২১ নভেম্বর) এ বিষয়ে আমরা জেলার ১৭ জন চিকিৎসক সিভিল সার্জনের সাথে বৈঠক করেছি। আগামীকাল সোমবার জেলা প্রশাসকের কাছে যাবো। ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে আমরা কোন কর্মসূচিতে যাবো না। যদি কোনো সুরহা না হয় তাহলে আগামী মঙ্গলবার আলমডাঙ্গা উপজেলায় ও সদর হাসপাতাল চত্বরে ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধনের মাধ্যমে কঠোর কর্মসূচিতে নামবো আমরা। তিনি আরও বলেন, এতো বড় ঘটনার পরও ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। শুধুমাত্র ক্যাম্প থেকে আলমডাঙ্গা থানায় বদলি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমি খুবই বিস্মিত হয়েছি।
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি জেনেছি। ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে ক্যাম্প থেকে বদলি করে আলমডাঙ্গা থানায় নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। ঘটনার সত্যতা পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More