গাংনীতে টাকা নিয়ে উধাও `গণ উন্নয়ন প্রচেষ্টা’

গাংনী প্রতিনিধি: সমবায় কার্যালয়ের নিবন্ধন নেই। ব্যাংকিং কার্যক্রম চালানোরও অনুমতি নেই। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বেশি মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৪ মার্চ থেকে গাংনী পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রবিউল ইসলামের একটি বাড়ি ভাড়া নেয় ‘গণ উন্নয়ন প্রচেষ্টা’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। পরে অফিস সাজানোর জন্য কয়েকটি চেয়ার ও দুটি টেবিল বসিয়ে গড়ে তোলা হয় প্রতারণার ফাঁদ। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গাংনীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে গঠন করেন সমিতি। স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার নামে সঞ্চয় গ্রহণ করেন তারা। গাংনীর চিৎলা গ্রামে ৭ জন, নিত্যানন্দনপুরে ১৩ জন ও বিলধলা গ্রামে ১০ জনের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে জমা নেন তারা। বাকিদের কাছ থেকে দুই হাজার থেকে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত জমা নেয়া হয়। গত শনিবার সকালে সমিতির সদস্যদের ঋণ দেয়ার কথা ছিলো। ঋণ নিতে আসেন বিভিন্ন গ্রামের অর্ধশত মানুষ।
ভুক্তভোগী কয়েকজন বলেন, কুষ্টিয়া জেলার মোহাম্মদ আলী, জিয়ারত শেখ ও কালু মিয়া মিলে গণ উন্নয়ন প্রচেষ্টা নামের একটি এনজিও খুলে বসেন। তারা বেশি মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে বিনিয়োগ করার প্রস্তাব দেন। প্রথম প্রথম কেউ সাড়া দেননি। তবে গত এক মাসে তারা নানা কৌশলে কিছু লোককে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হন। পর্যায়ক্রমে তারা উপজেলার বিলধলা, চিৎলা, বেতবাড়িয়া, রাইপুর গ্রামে প্রচার চালাতে থাকেন। চলতি মাসে এসব এলাকার কিছু গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহের পর ১২ মার্চ সকালের দিকে হঠাৎ কর্মকর্তারা উধাও হয়ে যান।
প্রতারণার শিকার চিৎলা গ্রামের আসমা খাতুন বলেন, তার কাছে থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়েছে ওই প্রতিষ্ঠান। শনিবার ঋণ দেয়ার কথা ছিলো। ওই দিন তার মতো অনেকে ওই প্রতিষ্ঠানের সামনে এসে কার্যালয়ে তালা ঝুলতে দেখেন। এক পর্যায়ে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করলে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বেতবাড়িয়া গ্রামের সুরাইয়া, রেহেনা, হুসনিয়ারাও একই রকম প্রতারণার শিকার হন। নিত্যানন্দনপুরের রোজিনা, সবিতা, লতা ছাড়াও ১৩ জনের কাছ থেকে নেয়া হয় ১০ হাজার টাকা করে। তারাও এসেছিলেন ঋণের টাকা নিতে। একই কথা জানালেন বিলধলা গ্রামের দুলাল হোসেনের স্ত্রী মরিয়ম খাতুন। তারা এলাকার বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ধারদেনা করে টাকা দিয়েছেন এনজিওর ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলীর কাছে। সমিতির কার্যালয় বন্ধ দেখে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। বাড়ির মালিক রবিউল ইসলাম বলেন, এনজিও কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে কুষ্টিয়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী নামের একজন বাড়ি ভাড়া নেন। ছুটির দিন ছাড়া তাদের দাফতরিক কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। অনেকে সহজ কিস্তিতে ঋণ দেয়ার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি যে প্রতারণা করছিলো, তা বোঝার উপায় ছিলো না।
গাংনী উপজেলা এনজিও ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবু জাফর বলেন, গণ উন্নয়ন প্রচেষ্টা নামের কোনো সংস্থা নেই। এছাড়া কোনো উপজেলায় কাজ করতে হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানিয়ে কাজ করার নিয়ম। কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠান তা করেনি। গ্রামের মানুষ সচেতন না হলে এর মাত্রা বাড়বে।
ইউএনও সেলিম শাহনেওয়াজ বলেন, এ ধরনের কোনো এনজিও আছে বলে জানা নেই। এমনকি ঋণ দেয়ার নাম করে সঞ্চয় হাতিয়ে নিয়েছে, এমন কোনো খবরও তিনি জানেন না। তবে এনজিও সমিতির সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেবেন তিনি।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More