চুয়াডাঙ্গার কুন্দিপুরে ৩৭ বিঘা সরকারি খাসজমি অবৈধ দখলদারদের কবলে

সরকার দুই কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি থেকে ৯৪ বছরেও পায়নি কোনো রাজস্ব
নজরুল ইসলাম: চুয়াডাঙ্গার কুন্দিপুর গ্রামের ১৬ নং মৌজার আর এস ২৭৯ নং দাগের ৩৭ বিঘা জমি অবৈধ দখলদারদের কবলে। বন্দোবস্ত নিয়ে হাত বদল হয়ে তা বিক্রিও করেছেন অনেকেই। ফলে দীর্ঘ ৯৪ বছর ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি কাগজপত্র ছাড়াই বিলের এ জমি ভোগদখল করে এলেও দুই কোটি টাকার মূল্যের এ সম্পত্তি থেকে সরকার একটি টাকাও রাজস্ব পায়নি। সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত হওয়া দরকার বলে এলাকাবাসী মনে করছেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের কুন্দিপুর ১৬ নং মৌজার আর এস ২৭৯ দাগে ১২ একর ২৪ শতক অর্থাৎ প্রায় ৩৭ বিঘা সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানাধীন দাবি করে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভোগদখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। অন্তত ২ কোটি টাকার এ স¤পত্তি থেকে ৯৪ বছর ধরে সরকার যেমন কোনো রাজস্ব পায়নি তেমনই দখলদার কেউ কেউ হাত বদল করে বিক্রিও করে দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, কুন্দিপুর ১৬ নং মৌজার সিএস ৪০ খতিয়ানের ১৪৩ দাগে জমির পরিমাণ ১২ একর ২৪ শতক। যার মালিক ছিলেন জমিদার শরৎকুমার। ১৯২৭ সালের রেকর্ড অনুযায়ী এসএ বিল শ্রেণি হওয়ায় ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত আইনে সরকারি এসএ ১নং খতিয়ানভূক্ত হয়। পরবর্তীতে সেটেলমেন্টস সেলামি কেস অনুযায়ী আলমডাঙ্গা উপজেলার মাজু গ্রামের আবু মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের স্ত্রী হামিদা খাতুন গং ৭ একর ১৮ শতক, দর্শনা ইদ্রিস আলী মিয়ার স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন আরএস ২৯ খতিয়ানে বলে ৩ একর ৩০ শতক, দর্শনার শেখ মিঠু মিয়ার ছেলে আব্দুল জব্বার ৪৭ ও ১৯১নং খতিয়ানে ৪ একর, কুন্দিপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে ইয়াছিন আলী ৬১নং খতিয়ানে ৯৯ শতক, কুন্দিপুর গ্রামের আবুল হোসেন জোয়ার্দ্দারের ছেলে কাশেম গং ৭২ নং খতিয়ানে ৬৬ শতক, উকতো গ্রামের নুরবক্স ম-লের ছেলে মোবারেক আলী ১৬৭নং খতিয়ানে ১ একর ৩২ শতক, কুন্দিপুর গ্রামের মফিজ উদ্দিনের স্ত্রী মায়মানা খাতুন ১৭০নং খতিয়ানে ১ একর ৬৫ শতক ও ২০৪ নং খতিয়ানে অজ্ঞাত ব্যক্তি ভোগদখলে আসছে। কাগজপত্র এদের নামে থাকলেও এদের মধ্যে অনেকেই বিক্রিও করে দিয়েছে। বর্তমানে কেউ কেউ নিজ নামে পুকুর খনন করে নিয়েছে। এদিকে ২০১৯ সালে সরকার ভূমি ও স্থাপনাদি (দখল পুনরুদ্ধার) আইন চুড়ান্ত করেছে। যেখানে সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল রাখলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দু’বছরের কারাদ- বা দু’লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দ-ে দ-িত রাখার বিধান রয়েছে। তবে অবৈধ দখলদারদের শাস্তি আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন ভূমি বিশেষজ্ঞ ও ভুক্তভোগীরা। সূত্রে জানাগেছে, ইজারা বা লিজ নেয়ার নামে নতুন করে দখল হচ্ছে সরকারি খাসজমি। ইজারার মেয়াদ শেষ হলেও অনেকেই তা আর নবায়ন করছেন না। বছরের পর বছর ধরে আইনি মারপ্যাচে ফেলে তা দখলে রাখছেন। এভাবেই সরকারি জমি বেদখল হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বেগমপুর ইউনিয়ন (ভূমি) সহকারী কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, শুধু কুন্দিপুর না সরকারি সম্পত্তি ইউনিয়নের যেখানেই আছে তার তথ্য সংগ্রহ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট পেশ করা হবে। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি (অ্যাসিল্যা-) মাজাহারুল ইসলাম বলেন, সরকারি সম্পতি উদ্ধার ও দখলমুক্ত করা একটি চলমান প্রক্রিয়া। সরকারি সম্পত্তির সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করে তা জেলা প্রশাসকের নিকট হস্তান্তর করার পাশাপাশি দখলদার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাই যেখানেই সরকারি সম্পত্তি আছে তার অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

 

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More