চুয়াডাঙ্গার খাদ্যগুদাম পরিদর্শনে আঞ্চলিক কর্মকর্তা

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা জেলার ৫টি খাদ্যগুদাম পরিদর্শন করেছেন খুলনা আঞ্চলিক কর্মকর্তা সহকারী রসায়নবিদ ইকরামুল কবির। গুদামে মজুত থাকা মালামালের পরিমাণ ও গুণগতমান দেখার পাশাপাশি সংগ্রহ করেছেন নমুনা। যোগদান করলেও সদর গুদামের দায়িত্বভার গ্রহণে নানা টালবাহানা শুরু করে দিয়েছেন মেহেরপুরের গাংনী থেকে আসা বিতর্কিত ও সমালোচিত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এলএসডি নজরুল ইসলাম। সেই সাথে সদর গুদামের লেবার সর্দার বিল্লাল হোসেন সুযোগ বুঝে বিভিন্ন সময় বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে তিক্ততা সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
চুয়াডাঙ্গায় বিভিন্ন সময় খাদ্যগুদামের সরকারি চাল নিয়ে নানা ঘটনার জন্ম দিয়েছে। এ নিয়ে দৈনিক মাথাভাঙ্গা পত্রিকায় একাধিক রিপোর্ট প্রকাশ পেয়েছে। এরই সূত্র ধরে খুলনা আঞ্চলিক খাদ্য অধিদফতরের সহকারী রসায়নবিদ ইকরামুল কবির জেলার সরোজগঞ্জ, আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা সদর, দামুড়হুদার দর্শনা ও জীবননগর উপজেলায় অবস্থিত খাদ্যগুদামগুলো শুক্রবার ও শনিবার পরিদর্শন করেন। পরিমাণ দেখার পাশাপাশি গুণগতমান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে গেছেন। চুয়াডাঙ্গা সদর খাদ্যগুদাম সূত্রে জানাগেছে, সদর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসিএল এসডি) খুলনায় এবং মেহেরপুরের গাংনী থেকে বিতর্কিত এবং সমালোচিত নজরুল ইসলামকে তার জায়গায় বদলি করা হয়েছে। নজরুল ইসলাম চলতি মাসের ৪ তারিখে যোগদান করলেও দায়িত্বভার গ্রহণ করতে নানা টালবাহানা শুরু করে দেন। তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ না করলেও জোর করেই গুদামগুলোতে তালা লাগিয়ে দেন। আর নতুন কর্মকর্তা আসতে না আসতেই লেবার সর্দার বিল্লাল হোসেন তার কানভারি করে জলঘোলা করার অপচেষ্টা চালায়। এ নিয়ে আবুবক্কর সিদ্দিক এবং নজরুল ইসলামের মধ্যে বাকবিত-াও হয়। একপর্যায় রসায়নবিদ ইকরামুল কবিরের সামনে সুর পাল্টে আবুবক্করের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নজরুলের পক্ষে ছাপায় গাইতে থাকেন। ইকরামুল কবির বলেন, কোনো তদন্তে আসেনি। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গোডাউনগুলো পরিদর্শন করে পরিমাণ ও গুণগত মান ঠিক আছে কি-না তা দেখতে এসেছি। সেই সাথে প্রত্যেকটি গোডাউনের মালামাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। দায়িত্বভার হস্তান্তরের ব্যাপারে আবুবক্কর সিদ্দিক বলেন, বদলির চাকরি বদলি হবে এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আর নিয়ম নীতি মেনে যেভাবে হস্তান্তর করার কথা সেভাবেই করতে গেলে বদলি হয়ে আসা কর্মকর্তা শিষ্টাচার বর্হিরভূত আচরণ করেছে। সদ্য যোগদান করা কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের কাছে যোগদান এবং দায়িত্বভার গ্রহণের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি ভিন্ন সুরে কথা বলেন। লেবার সর্দার বিল্লাল হোসেনের নিকট দ্বিমুখি নীতির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি উত্তর না দিয়ে চুপ থাকেন। নামপ্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন লেবার বলেন, সদর গোডাউনে যতো ঘটনা ঘটেছে তার পেছনে কোনো না কোনোভাবে তিনি জড়িত। তার কাজ হচ্ছে নতুন কেউ এলে তার কানভারি করে সুবিধা নেয়া। একপর্যায় কোনো ঘটনা ঘটলে সুর পাল্টে কথা বলা তার নীতি। খাদ্য মান নিয়ন্ত্রণ কারিগরি পরিদর্শক আনিছুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনিও সুর পাল্টে কথা বলেন। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম বলেন, কেউ কেনোপ্রকার অপরাধ করলে অপরাধ অনুযায়ী তার শাস্তি হবে এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কারো বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবার মালিক আমি নয়। অভিযোগ উঠেলে যথাযথ কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকেন। তবে অন্যায়ের সাথে আমার কোন আপস নেই।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More