চুয়াডাঙ্গার সাতগাড়ীর চাল কেলেঙ্কারীর ঘটনায় অনিয়ম- দুর্নীতি পায়নি তদন্ত কমিটি

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গায় দুটি গুদাম থেকে সরকারি কাবিখা প্রকল্পের ১ হাজার ২৬৬ বস্তা চাল জব্দের ঘটনায় প্রতিবেদন দাখিল করেছে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। ঘটনার সাতদিন পর গতকাল সোমবার বিকেলে ওই তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেন তারা। গত ১১ জুন বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা ছিলো ওই ঘটনায় গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির। কিন্তু তদন্ত সম্পন্ন না হওয়ায় প্রতিবেদন জমা দিতে বিলম্ব হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। ওই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেজাউল ইসলাম জানান, ওই ঘটনার সাথে পার্শ¦বর্তী জেলা মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সংশ্লিষ্টতা থাকায় তদন্ত সম্পন্ন করতে বিলম্ব হচ্ছিলো। গতকাল সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের চাল কেলেঙ্কারীর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা পারভীন। দুজন সদস্য হিসেবে ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) রেজাউল ইসলাম।
তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত না বললেও জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার জানান, সরকারি চাল জব্দের ঘটনায় ওইদিনই অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা পারভীনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। গতকাল বিকেলে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে ওই ঘটনায় গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদনে ওই ঘটনায় কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি পরিলক্ষিত হয়নি। পাকাকরণ বা এলাকার উন্নয়ন কাজের জন্য মেহেরপুরের গাংনীতে কাবিখা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি (পিআইসি) ৭ ভাগ চাল নিয়ম অনুযায়ী বিক্রি করতে পারেন। এটা কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি নয়। সিলগালা করা চুয়াডাঙ্গার সাতগাড়ি এলাকার ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামের সাতগাড়ীস্থ গুদাম দুটি অবিলম্বে খুলে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান বিশ্বাস জানান, চুয়াডাঙ্গায় প্রশাসনের অভিযানে জব্দ চালগুলো কাবিখা প্রকল্পের যা গাংনী খাদ্য গুদাম থেকে গত ৭ জুন রোববার বিকেলে দুটি ট্রাকে ভর্তি করা হয়েছিলো। মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এলাকার উন্নয়নে বামুন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম ও ছয় ইউপি সদস্যকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি (পিআইসি) হিসেবে চালগুলোর ডিও দিয়েছিলেন। ওই বরাদ্দপত্র যারা এনেছিলেন তাদের চাল বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত : গত ৮ জুন চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সাতগাড়ীতে সদর উপজেলা প্রশাসন গোপন সূত্রে খবর পেয়ে টিআর কাবিখা প্রকল্পের ১ হাজার ২৬৬ বস্তা চাল জব্দ ও দুটি গুদাম সিলগালা করে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেজাউল ইসলাম জানান, গুদাম দুটির মালিক ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম। নজরুল ইসলামের দাবি জব্দকৃত চালগুলোর মালিক আলমডাঙ্গার অসীম সাহা ও গৌতম সাহা। অসীম সাহা জানান, চালগুলো মেহেরপুরের গাংনী এলাকা থেকে কেনা। গাংনী খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান বিশ্বাস জানান, চালগুলো ডিওর বিপরীতে ছাড় করা হয়।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More