চুয়াডাঙ্গায় একদিনে সর্প দংশনে বৃদ্ধসহ তিনজন হাসপাতালে

স্টাফ রিপোর্টার: বৃষ্টির মরসুমে চুয়াডাঙ্গার গ্রাম-গঞ্জে জলবদ্ধ সৃষ্টি হওয়ায় সাপের উপদ্রব বেড়েছে। এতে প্রায়ই ঘটছে সর্প দংশনের ঘটনা। গতকাল রোববার রাত সাতটা থেকে দশটা পর্যন্ত তিন ঘন্টায় পৃথকস্থানে তিনজন সাপের দংশনে আহত হয়েছে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর আগে ১ সেপ্টেম্বর সকালে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় বড়দুধপাতিলা গ্রামে চকলেট কিনতে যাওয়ার সময় সর্প দংশনে হিমেল বাবু নামের তিন বছরের এক শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। ২৭ আগস্ট চুয়াডাঙ্গায় পৃথকস্থানে তিনজন সর্প দংশনে আহত হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। এছাড়া প্রায়ই সর্প দংশনে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিতসা নিচ্ছেন।
ভুক্তভোগীরা জানায়, বর্ষার মরসুমে খেলার মাঠ, বসতবাড়ি কিংবা বাড়ির উঠোনে পানি জমা হচ্ছে। গর্ত থেকে বেরিয়ে আসছে বিষধর সাপ। ফলে নানা রকম বিষধর সাপের প্রাদুর্ভাব বেড়ে গেছে। সাপগুলো লোকালয়ে চলে আসছে। এতে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। গতকাল রোববার সন্ধার সাতটা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত সর্প দংশনে তিনজন আহত হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র গ্রামের গাইটঘাট গ্রামের মাঝেরপাড়ার লিয়াজ হোসেনের ছেলে ইমরান হোসেন (২৫) সর্প দংশনে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গতকাল রোববার রাত সাড়ে সাতটার দিকে বাড়ির পাশে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার সময় ডান পায়ে সর্প দংশন করে। বিষয়টি পরিবারকে জানায় ইমরান। পরে দ্রুত ইমরানকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে পরিবারের সদস্যরা।
অপর দিকে, গতকাল রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে গোপাল চন্দ্র দাস নামে (৬০) নামে এক বৃদ্ধ সর্প দংশনে আহত হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বেলগাছি গ্রামের দাসপাড়ার শ্রী. নিলা চন্দ্র দাসের ছেলে।
গতকাল রাতে বাজার থেকে বাড়ি ফিরে জামা-কাপড় খুলে আলনায় রাখার সময় সেখানে লুকিয়ে থাকা একটি সাপ থাকে দংশন করে। পরে তার পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
অপর দিকে, দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুর ইউনিয়নের ইব্রাহীমপুর গ্রামে উত্তরপাড়ার মনির উদ্দিনের ছেলে বাবুল (৪৮) সর্প দংশনে আহত হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গতকাল রাত ১০টার দিকে নিজ বাড়ির পাশে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, গতকাল রাতে বাড়ির পাশে মল-মুত্র ত্যাগ গ পাশের একটি পুকুরে ধৌত করতে যায় বাবুল। এ সময় যেখানে থাকা একটি বিষধর সাপ তাকে দংশন করে। পরে দ্রুত বাড়িতে এসে পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, সর্প দংশনে আহত দুইজনের অবস্থা শঙ্কামুক্ত। গোপাল চন্দ্র দাসের শারীরিক অবস্থা আশংকাজনক। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদেরকে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিক চুয়াডাঙ্গায় বৃষ্টির কারণে গ্রাম-গঞ্জের বিভিন্নস্থানে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সাপের উপদ্রপ বেড়ে যাওয়া আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সাধারন মানুষের মধ্যে। বিশেষ করে যারা গ্রামাঞ্চলে বসবাস করেন তাদের সাপ ভীতি প্রকট হয়েছে। রাতে চলাফেরা করতে হচ্ছে মেপে মেপে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. এএসএম ফাতেহ আকরাম বলেন, এখন বৃষ্টির কারণে মাঠে, ঘাটে, বসত বাড়িতে পানি জমছে। এ সময় গর্ত থেকে সাপ বেরিয়ে আসছে। যে কারণে এসময় মানুষ অনেক বেশি সাপের কামড়ে হয়ে আক্রান্ত থাকে। সাপে কাটা রোগীকে ওঝা বা কবিরাজের নিকট না নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হয়ে এন্টিস্নেক ভেনম নিতে হবে। এ সময় তিনি মানুষের বাড়ির আশপাশে কার্বলিক অ্যাসিড ছিটিয়ে রাখাসহ সতর্ক হয়ে রাতে চলাফেরার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়াও সদর হাসপাতালে এন্টিভেনমের মজুদ আছে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More