চুয়াডাঙ্গায় এবার পেঁয়াজের আবাদ বেড়েছে প্রায় দেড়গুন 

লোকসানের শঙ্কায় অনিশ্চয়তার মাঝে থাকা চাষিদের দাবি সংরক্ষণের সু-ব্যবস্থা

আনোয়ার হোসেন : গতবার পেঁয়াজের চড়া দাম পেয়ে এবার চাষিদের অনেকেই ওই আবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ে লোকসানের আশঙ্কায় দিন গুনছেন। তবে অভিজ্ঞ অনেকের অভিমত, এবার পেঁয়াজের আবাদ গতবারের মতো আশাতীত লাভ না হলেও লোকসান হবে না। লাভের পরিমাণ কমবে।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগসূত্রে জানা গেছে, গতবারের তুলানায় এবার চুয়াডাঙ্গায় পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে ১ হাজার ২শ ২৭ হেক্টর জমিতে। যা গতবারের তুলনায় ৪শ ১৭ হেক্টর বেশি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের চুয়াডাঙ্গা উপ-পরিচালক আলী হাসান বলেছেন, পেঁয়াজের আবাদ করে লাভবান হওয়ার কারণে এবার চুয়াডাঙ্গায় ওই আবাদ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। জেলায় মোট ১ হাজার ২শ ২৭ হেক্টরের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ২শ ৭৯, দামুড়হুদা উপজেলায় ৫শ ৭১, জীবননগর উপজেলায় ২শ ৫০ ও আলমডাঙ্গা উপজেলায় ১শ ২৭ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যেই পেঁয়াজের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নেমে এসেছে। যেহেতু পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে, সেহেতু বাজারদর নিচের দিকে। পেঁয়াজচাষি অহিদুল ইসলাম, খায়রুল ইসলাম, জিয়া, ওহিদুল ইসলামসহ অনেকেই অনেকটা অভিন্ন অভিমত ব্যক্ত করে বলেছেন, পেঁয়াজ চাষে খরচ বেশি। ফলন নিয়ে ঝুঁকিও থাকে। এবার গতবারের তুলানায় বিঘাপ্রতি পেঁয়াজের আবাদে খরচ পড়েছে প্রায় দ্বিগুন। কারণ বীজ কিনতে হয়েছে আকাশ ছোঁয়াদামে। অথচ পেয়াজ যখন উঠতে যাচ্ছে তখন বাজার নিচের দিকে। ফলে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। যদিও অভিজ্ঞ অনেকে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, আমাদের দেশে কৃষকদের একদিকে ঝুঁকে পড়ার রেওয়াজ রয়েছে। এ কারণে হুট করে একবার বেশি লাভ পেলে পরেরবার আরও অনেকেই ওই আবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ফলে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হয়, দামও নিচের দিকে নেমে আসে। যদিও এবার জেলায় যতোই পেঁয়াজের আবাদ হোক, চাহিদার তুলনায় তা বেশি নয়। পেঁয়াজ সংরক্ষণের সুব্যবস্থা থাকলে চাষিদের লোকসানের কোনো ঝুঁকিই থাকতো না। কিছু চাষি অবশ্য নিজেরা কিছুদিন সংরক্ষণ করেন। পেয়াজ একটু পাকিয়ে তুলে সংরক্ষণ করে বাজার বুঝে বিক্রি করতে পারলে লোকসান হবে বলে মনে হয় না। কেনো না, প্রতিবারই আমাদের দেশে পেঁয়াজ কম বেশি আমদানি করতে হয়। যখনই প্রতিবেশী দেশ পেঁয়াজ রফতানি কমিয়ে দেয় তখনই পেঁয়াজ নিয়ে দেশে যাচ্ছেতাই অবস্থার সৃষ্টি হয়। সরকারি বেসরকারিভাবে সংরক্ষণে আন্তরিক হতে পারলে পরনির্ভরতা হ্রাস পেতে বাধ্য।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More