চুয়াডাঙ্গায় নবগঙ্গা নদীর ৮টি বাঁধ অপসারণ

স্টাফ রিপোর্টার: প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা মাছ আহরণ ও কৃষকের ফসলের জমির জলাবদ্ধতা নিরসনে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা সদরের বালিয়াকান্দী ব্রিজ থেকে ধুতুরহাট ব্রিজ পর্যন্ত নবগঙ্গা নদীর ৩ কিলোমিটার এলাকার ৮টি অবৈধ বাঁধ অপসারণ করা হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সাদিকুর রহমানের নির্দেশে নবাগত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাজহারুল ইসলাম এ অভিযান পরিচালনা করেন। উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, পুলিশ ও বিজিবির যৌথ অভিযানে এ সকল বাঁধ অপসারণ করা হয়।
অভিযোগ আছে, এলাকার কিছু প্রভাবশালীরা দীর্ঘদিন যাবৎ নবগঙ্গা নদীতে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে আসছেন। ফলে সাধারণ মানুষ যেমন প্রাকৃতিক মাছের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলো, তেমনি বর্ষা মরসুমে নদীতে বাঁধ দেয়ায় নদীর পানি ফেপে কৃষকদের জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। গতকাল এ সকল বাঁধ অপসারণ করায় সাধারণ মানুষ, কৃষক ও সচেতনমহল উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একই সাথে মাছ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহকারী ও মাছ শিকারীরা আনন্দ করে মাছ শিকার করছেন। সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে নবগঙ্গা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে হত দরিদ্র মৎস্যজীবী সমিতির নামে মাছচাষকারীদের পক্ষে আব্দুর রউফ, হিমু, আব্দুল হান্নান, সাজিদ ও হেবা নামে কয়েকজন মৎস্যচাষি বলেন, আমারা চুয়াডাঙ্গার তৎকালীন জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুস ও মৎস্য অফিসের মৌখিক অনুমতি নিয়ে মাছচাষ করে আসছি। কিন্তু আমারদেরকে সংক্ষিপ্ত সময়ের নির্দেশে বাঁধ উঠিয়ে দিয়ে ব্যাপক ক্ষতি করা হয়েছে। তাছাড়া নদীতে পানি জমে কৃষকদের ফসলের কোনো ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি। আমাদের এক সপ্তাহ মতো সময় দিলে কিছু মাছ ধরতে পারলে আমাদের পরিশ্রম ও মাছের দামটা অন্তত ওঠানো যেতো। হতদরিদ্র মৎস্যজীবী সমিতির অধীনে ৬-৭টি প্রজেক্ট আছে। আমাদের সকলের মিলে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More