চুয়াডাঙ্গায় নানা আয়োজনে মুক্তদিবস উদযাপিত

আটকবরের অনুষ্ঠানে এমপি ছেলুন জোয়ার্দ্দার

সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে
স্টাফ রিপোর্টার: যথাযোগ্য মর্যাদায় চুয়াডাঙ্গা মুক্ত দিবস উদযাপিত হয়েছে। গতকাল ৭ ডিসেম্বর মঙ্গলবার জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে সকাল পৌনে ৮টায় দলীয় কার্যালয়ে জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন ও অ্যাড. শামসুজ্জোহা, সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আলমগীর হান্নান ও মুফতি মাসুদুজ্জামান লিটু বিশ্বাস, দফতর সম্পাদক এ্যাড. আবু তালেব বিশ্বাস, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক নুরুল ইসলাম মালিক, দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল আলম ঝন্টু ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মুঞ্জু, পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন হেলা, জেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক আরেফিন আলম রঞ্জু, সাবেক যুবলীগ নেতা আব্দুল কাদের, রাসেদুজ্জামান বাকী, সিরাজুল ইসলাম আসমান, জেলা যুব মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আফরোজা পারভীন, সাধারণ সম্পাদক গিণি ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলিজা বেগম ও জাহানারা বেগম, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মোহাইমেন হাসান জোয়ার্দ্দার অনিক, সহ-সভাপতি মো. সাহাবুল হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ক্রিড়া বিষয়ক সম্পাদক ও যুবলীগ নেতা মো. ফিরোজ জোয়ার্দ্দার, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও যুবলীগ নেতা তানিম হাসান তারেক, ছাত্রলীগ নেতা আলিফ নূরসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
দুপুরে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও পৌরসভার মেয়র শহীদ বেদীতে পুষ্প্যমাল্য অর্পণ করে। এ সময় জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার, পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম ও পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিকসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাজিয়া আফরীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শারমিন আক্তার ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত রহমান উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টরের সদর দপ্তর ছিলো এই চুয়াডাঙ্গা। এখান থেকে ৮ নম্বর সেক্টরের যুদ্ধ পরিচালনা হতো। শুধু মুক্তিযুদ্ধ নয়, সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গার মানুষ সোচ্চার। এজন্য মুক্তিযোদ্ধাসহ এ জেলার মানুষকে স্যালুট জানায়।
দামুড়হুদা অফিস জানিয়েছে, চুয়াডাঙ্গায় শত্রুমুক্ত দিবস উপলক্ষে দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদহ ইউনিয়নের আটকাবরে আট শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদহ আটকবরে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে দোয়া কামনা করা হয়। যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন উপলক্ষে নাটুদাহের আট করবে শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ, পতাকা উত্তোলন ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলাইমান হক জোয়ার্দার ছেলুন এমপির নেতৃত্বে নাটুদহ আটকবরে পুষ্প স্তবক অর্পণ করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দার টোটন, চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হান্নান, মাসুদুর রহমান টিটু, দামুড়হুদা উপজেলা আ.লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ঝন্টু, সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান মন্জু, জেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক আরেফিন আলম রঞ্জু, জেলা যুবলীগনেতা সিরাজুল ইসলাম আসমান, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাইমেন হাসান জোয়ার্দ্দার অনিক, সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল কাদের, নাটুদহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হামিদুল্লাহ বিশ্বাস, দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি হাজি শহিদুল ইসলামসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্র লীগ নেতা কর্মীবৃন্দ প্রমুখ।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে আলোচনা সভায় সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন বলেন, আজ খুশির দিন চুয়াডাঙ্গা জেলাকে শত্রুমুক্ত করে একটি স্বাধীন জেলা ও বাংলাদেশ পেয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধুর ডাকে নিরস্ত্র বাংলার দামাল ছেলেরা এবং পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সেনাবাহিনীর যৌথ আক্রমণ চালিয়ে পাক হানাদার বাহিনীর কবল থেকে দেশকে শত্রুমুক্ত করা হয়। ২৫ মার্চের রাতেই বঙ্গবন্ধু ইপিআর’র ওয়্যার্লেসের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধে নেমে পড়ার জন্য সকল পেশাজীবি এবং সকল ধর্ম, বর্ণের মানুষকে আহ্বান জানান। সে যুদ্ধে পাক-হানাদার বাহিনী বাংলার মানুষকে হত্যা, অকথ্য নির্যাতন, অত্যাচারসহ নানা ধরণের নিপীড়ন শুরু করে এবং বঙ্গবন্ধুকে আটক করে পাকিস্থানের কারাগারে আটক করে রাখে। তাদের ভয় ছিলো বঙ্গবন্ধুকে পূর্ব বাংলায় আটক রাখলে এ দেশের মুক্তকামী মানুষ তাকে জেল থেকে মুক্ত করবেই, একই সাথে বাংলাদেশে অবস্থানরত কোন পাকসেনা আর জীবিত থাকবে না-এমনটা পাক সরকার জানতো। দুঃসহ এসব দিনের মধ্যে দিয়ে দেশ স্বাধীন করা হয়েছে। ৫ আগস্ট এ যুদ্ধে আমিও ছিলাম, ভাগ্যগুনে আমিসহ ৭জন সেদিন বেঁচে আছি। সেদিন বাকি ৮জন মুক্তিযোদ্ধা মারা যান। স্বাধীনতার এতো বছর পর যখন বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাচ্ছে, তখন পাকিস্থানের দোষর জামায়াত শিবির ও বিএনপি দেশকে অস্থিতিশীল করতে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। পাক বাহিনীর মত করে দেশ থেকে সকল ষড়যন্ত্রে মুছে ফেলতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদহের কাছে বাগোয়ান গ্রামে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে তার সহযোদ্ধা পিন্টু, হাসান, খোকন, কাশেম, রবিউল, রওশন, তারিক ও আফাজউদ্দিন নামে আটজন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। তাদের জগন্নাথপুর গ্রামের দু’টি কবরে দাফন করা হয়। যা এখন আটকবর নামে পরিচিত। এছাড়াও ৭ আগস্ট জীবননগর থানার ধোপাখালি সীমান্তে নিয়মিত বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধা ও পাকিস্তানি বাহিনীর মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাঁচজন শহীদ হয়।
এদিকে সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে চুয়াডাঙ্গা মুক্ত দিবস উপলক্ষে কবিতা পাঠ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি কবি নজমুল হেলালের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম মালিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক, চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের অন্যতম উপদেষ্টা এবং সহয়োগী অধ্যাপক মুন্সি আবু সাইফ, জাতীয় শ্রমিকলীগের চুয়াডাঙ্গা জেলার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজালুল হক বিশ্বাস। প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম মালিক স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ের স্মৃতিচারণ করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ সম্মুখ সমরে তাঁদের অংশগ্রহণের স্মৃতিচারণ করেন। জীবন বাজি রেখে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা জেলার মা বোনের সহযোগিতার কথা তিনি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সংরক্ষণে জেলাবাসীকে আরো যতœশীল হবার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নজির আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে স্মৃতিচারণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক, সহযোগী অধ্যাপক মুন্সি আবু সাইফ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজালুল হক বিশ্বাস। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট নিয়ে বক্তব্য দেন অরিন্দমের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম সৈকত, অধ্যক্ষ শাজাহান আলী বিশ্বাস, ইদ্রিস মন্ডল প্রমুখ। মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন আনছার আলী, ইদ্রিস মন্ডল, ডাঃ তোফাজ্জেল হোসেন,সুমন ইকবাল, নটরাজ হারুন,জুবায়ের হাসান, আশিকুজ্জামান আসাদ। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংলাপের সাধারণ সম্পাদক আহসান খান, সদস্য শাহীন,অরিন্দমের সদস্য ইয়াকুব জোয়ার্দ্দার সুমন, আহাদ আলী মোল¬া, রিচার্ড রহমান, গোলাম কবির মুকুল, কাজল মাহমুদ, হোসেন মোঃ ফারুক,হোসেন জাকির প্রমুখ। এই অনুষ্ঠানের সভাপতি কবি নজমুল হেলাল জাতির বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে ঐতিহাসিক মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ভবন ও স্থাপনা রক্ষা করেও বিজ্ঞান সম্মত প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংরক্ষণ করা যায় এবং উপস্থিত সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে সমাপ্তি ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আনছার আলী।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More