চুয়াডাঙ্গা পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারি ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন

অনিয়ম তুলে ধরায় আ.লীগ নেতাদের লাঞ্ছিত করে মেয়রের লোকজন
স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গায় ভিজিএফের চাল বিতরণ নিয়ে পৌর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা মোড়ের কালেক্টরেট স্কুলের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে পৌর আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে কাজ প্রত্যক্ষ করতে গেলে দুই ওয়ার্ড সভাপতিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে পৌর মেয়রের লোকজন। এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বুধবার মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের মানববন্ধন কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন। তিনি বলেন, গরীবের জন্য বরাদ্দকৃত চাল পৌর মেয়র ও তার পক্ষের লোকজন লুটপাট করছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে স্থানীয় সাংসদের দুই প্রতিনিধি পৌরসভায় গেলে তাদেরকে মারধর করে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় সাংসদ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পৌরসভায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, আজকের মানববন্ধনের মাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ সম্মেলনের তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এর জবাব অবশ্যই আমরা দেবো তবে সেটা নিয়মতান্ত্রিকভাবেই। টোটন জোয়ার্দ্দার আরও বলেন, বর্তমানে পৌরসভায় কোনো সেবা পাওয়া যায় না। এখন সন্ত্রাসীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। অচিরেই পৌরসভা থেকে এসব আড্ডা ভেঙে দেয়া হবে। গরীবের জন্য বরাদ্দকৃত চাল সঠিকভাবে বিতরণ করতে হবে।
মানববন্ধনে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বলেন, চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে কাজ প্রত্যক্ষ করতে যান চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি আলাউদ্দিন হেলাসহ নেতাকর্মীরা। এসময় ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মতিন ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুদ হাসান অলোককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে পৌর মেয়রের লোকজন। গতকাল বুধবার চুয়াডাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি জহুরুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন হেলার নেতৃত্বে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আরশাদ উদ্দিন আহমেদ চন্দন, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদিকা জেলা পরিষদ সদস্য নুরুন্নাহার কাকলী, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গরীব রুহানি মাসুম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাদী মিলি, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাইমেন হাসান জোয়ার্দ্দার অনিকসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।

এমপির প্রতিনিধিদের দাবিকৃত চাল না দেয়ায় পৌরসভায় হামলা-মারপিট
স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ কর্তৃক পৌরসভায় অতর্কিত হামলা ও মারপিটের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পৌর ভবনের সামনের সড়কে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ভিজিএফের চাল বিতরণে স্থানীয় সংসদের প্রতিনিধিরা বরাদ্দের অর্ধেক পরিমাণ চাল দাবি করেন। চাল দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে ক্ষুদ্ধ হয়ে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারপিট করা হয়। মানববন্ধনে এমনটিই দাবি করেন পৌর মেয়র।
মানববন্ধনে চুয়াডাঙ্গা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু বলেন, মঙ্গলবার নিয়ম মেনেই চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায় ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হচ্ছিলো। ওইসময় হঠাৎ চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার স্বশরীরে পৌর কার্যালয়ে এসে চাল নিতে আসা হতদরিদ্রদের সামনে দায়িত্বরত কয়েকজনকে লাঞ্ছিত করেন। তিনি চিৎকারও করেন। একইসাথে পৌরসভায় উপস্থিত জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদককেও লাঞ্ছিত করেছেন, বের করে দিয়েছেন। এর আগে ডিসি অফিসের মিটিংয়ে সবার সামনে পৌরসভায় তালা দেয়ার হুমকিও দিয়েছেন। জিপু চৌধুরী আরও বলেছেন, দাবিকৃত চাল না পেয়েই মূলত এগুলো করা হয়েছে। আমি সরকারি নিয়ম ব্যাতীত কাউকে একমুঠো চালও দেবো না বলে জানান মেয়র। তিনি আরও বলেন, ভোটে হেরে যাওয়ার পর থেকেই তারা নানাভাবে পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে পৌরসভা চত্বরে দুস্থ, অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে চাল বিতরণ করছিলেন পৌর কর্মকর্তা কর্মচারীরা। চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ এনে স্থানীয় সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংঠনের নেতাকর্মীরা পৌরসভায় পৌঁছান। এসময় নেতাকর্মীদের সাথে পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে পৌর পরিষদ। বক্তারা আরও বলেন, গরীব দুস্থ ও অসহায় মানুষদের জন্য পৌরসভার বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চালের অর্ধেক দাবী করেন স্থানীয় সাংসদের মনোনীত দুই প্রতিনিধি। চাল দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে সাংসদের নেতৃত্বে পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের লাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয় পৌর পরিষদের পক্ষ থেকে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সচিব কাজী শরিফুল ইসলাম, প্যানেল মেয়র মুন্সী রেজাউল করিম খোকন, নির্বাহী প্রকৌশলী আয়ুব আলী বিশ্বাস, ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মনি, জাহাঙ্গীর আলম, রাশেদুল ইসলাম, আবুল হোসেন, গোলাম মোস্তফা শেখ মাস্তার, সুলতান আরা রতœা, শেফালি খাতুন, নাসরিন পারভিন, শাহীনা আক্তার, সহকারী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান কাওছারসহ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। এছাড়াও মানববন্ধনে অংশ নেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আসাদুল হক বিশ্বাস, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জানিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হুসাইন জ্যাকি প্রমুখ।
অপরদিকে, মঙ্গলবারের উদ্ভুত ঘটনার প্রতিবাদে দু’পক্ষই পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ-মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। বুধবার পৌরসভার সামনে দু’পক্ষই এ কর্মসূচী পালন করে। এ সময় গোটা শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শহরের একাধিক স্থানে সংসদ সদস্য ও পৌর মেয়রের সমর্থকরা অবস্থান নিলে শহরে দাঙ্গা পুলিশ মোতয়েন করা হয়।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More