চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন স্থানে কালবোশেখীর তাণ্ডবে লণ্ড-ভণ্ড ঘরবাড়ি

ঝড় বজ্রপাত ট্রলারডুবিতে নিহত ৮ : গাছ উপড়ে সড়ক ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

মাথাভাঙ্গা ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন স্থানে শনিবার সকালে তাণ্ডব চালায় কালবোশেখী। ভোরের দিকে এ ঝড়ের সময় বজ্রপাত ও ট্রলারডুবিও ঘটে। বজ্রপাতে ৮জন ও ট্রলারডুবিতে দুজন নিহত হয়েছেন। মাত্র ১০-১৫ মিনিট স্থায়ী এ ঝড়ে ল-ভ- হয়ে যায় গ্রামের পর গ্রাম। ভেঙে পড়ে শত শত গাছপালা। উড়ে যায় বহু ঘরের টিনের চাল। কয়েকটি স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে ও তার ছিঁড়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কোথাও সড়কে গাছের ডাল ভেঙে পড়ায় বন্ধ হয়ে যায় যোগাযোগ। গাছ ভেঙে রেললাইনের ওপর পড়ায় পোড়াদহ-খুলনা রুটে প্রায় ৫ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিলো। ঝিনাইদহের শৈলকুপায় এক গৃহবধূ ও দিনাজপুরে মারা গেছেন আরও একজন। বগুড়ায় ঘর ও গাছচাপা পড়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঝড়ের কবলে পড়ে ভোলা ও লৌহজংয়ে দুটি ট্রলার ডুবে গেছে। এতে দুই জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। শনিবার ভোরে চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, বগুড়া, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, মুন্সিগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, ভোলা এবং নওগাঁসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবোশেখী ঝড় বয়ে যায়। ঝড়ে সময় বজ্রপাতও হয়।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় তা-ব চালিয়েছে কালবোশেখী ঝড়। কালবোশেখী ঝড়ের আঘাতে উপজেলার বেশকিছু এলাকায় বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে শতশত গাছ পালা, বাড়িঘর, আধা-পাকা স্থাপনা। বড় বড় গাছ ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। ঝড়ের তা-বে ট্রেন চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। খুলনার সাথে সারাদেশের রেল যোগোযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে গাছগুলো অপসারণ করা হলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
গতকাল শনিবার ভোর ৫টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে আধাঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তা-ব চালায় কালবোশেখী ঝড়। এতে ল-ভ- হয়ে যায় বসত বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফসলের মাঠ। উড়ে গেছে বাড়িঘরের চালা। সড়কের ওপর ভেঙে পড়েছে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি। এতে ব্যাহত হয়েছে চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বিদ্যুত ব্যবস্থা। খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা সড়কে ওপর থেকে গাছ অপসারণ করলে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল। দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা মেরামতের পর চালু হয়েছে বিদ্যুত ব্যবস্থা।
আলমডাঙ্গা ব্যুরো জানিয়েছে, কালবোশেখীর তা-বে ল-ভ- হয়েছে আলমডাঙ্গার কালিদাসপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম। কালবোশেখী ঝড়ের সাথে বৃষ্টি ও ভারি বজ্রপাতও হয়েছে। উপড়ে পড়েছে সড়কের বহু গাছ। গাছ ভেঙে বিপর্যস্তু হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। গতকাল শনিবার ভোর ৫টার দিকে শুরু হওয়া এই ঝড় প্রায় ১৫ মিনিট স্থায়ী হয়। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এ সব এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কালিদাসপুর ইউনিয়নের কালিদাসপুর, আসাননগর, নওদাপাড়া, ডম্বলপুর, চর শ্রীরামপুর, জগন্নাথপুর, শ্রীরামপুর, রেল জগন্নাথপুর, পাইকপাড়াসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কালবোশেখীর তা-বে বহু গাছপালা, ভেঙে পড়ে। শ’ শ’ হেক্টর জমির আম, কাঁঠাল, লিচুসহ বিভিন্ন মরসুমি ফল ও ধানসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে দিনের অধিকাংশ সময়। জেএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুটি টিনসেডের ছাউনি ঝড়ে উড়িয়ে নিয়ে গেছে। এ সময় একটি পানি ট্যাঙ্ক ঝড়ে উড়িয়ে নিয়ে কয়েশ গজ দূরে জিকে খালের মধ্যে ফেলেছে। বিদ্যালয়ের কয়েকটি গাছের ডালপালা ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আসাননগর গ্রামের আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বাগানের সব আম ঝড়ে পড়ে গেছে। আর এক সপ্তাহ পর আম পাড়া শুরু হতো। কিন্তু ঝড়ের তা-বে আমার ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেল।’ আলমডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মোখলেছুর রহমান জানান, কালবোশেখীর কারণে সড়কের দু’পাশে বেশ কিছু গাছের ডালপালা ভেঙে পড়েছে। গাছ উপড়ে বিদ্যুত লাইনের ওপর ও সড়কের ওপর পড়েছিল। সকাল থেকে বিকেল অবধি আলমডাঙ্গা কুষ্টিয়া সড়কে বড় ধরনের কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। কিছু কিছু জায়গায় এলাকাবাসীর সহায়তায় আবার কোথাও কোথাও ফায়ার সার্ভিসের টিম গাছগুলো সড়ক থেকে সরিয়ে নেয়া হয়। বিকেলে সড়ক থেকে গাছ সরানো হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আলমডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সোহেল রানা জানান, ‘ঝড়ে আম, লিচুসহ বিভিন্ন মরসুমি ফল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জেনেছি। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা যায়নি। আমাদের কৃষি অফিসের লোকজন মাঠে গিয়ে ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করতে কাজ করছে।
গতকাল দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান। পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, আলমডাঙ্গা উপজেলার ওপর দিয়ে বড় ধরণের ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেছে। এতে প্রায় দেড়শ ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অনেক গাছ উপড়ে গেছে। আমরা সরেজমিনে কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছি। বেশ কয়েকজন মানুষ আহত হয়েছেন। আমরা তালিকা প্রস্তুত করছি। ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহযোগিতা করা হবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রনি আলম নূর, আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতা এনামুল হক, কালিদাসপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আশাদুল হক মিকা, ইউপি সচিব আব্দুস সামাদসহ ইউপি সদস্যরা।
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঝিনাইদহে কালবোশেখী ঝড়ে তিন উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বজ্রপাতে এক গৃহবধূ ও দুটি মহিষের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকাল ৬টার দিকে হঠাৎ করেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে মুহূর্তেই বৃষ্টির সঙ্গে প্রচ- ঝড় ও বজ্রপাত শুরু হয়। এতে শৈলকুপা উপজেলার কুলচারা গ্রামের স্বামী-স্ত্রী মাঠে বেগুন তুলতে গিয়ে বজ্রপাতের আঘাতে স্ত্রী রুপসী খাতুনের মৃত্যু হয় এবং স্বামী গোলাম নবী আহত হন। এছাড়াও সদর উপজেলার ডেফলবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আশরাফুল ইসলামের দুটি মহিষ বজ্রপাতে মারা যায়। সদর উপজেলার ৬নং গান্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুল হাসান মাসুল জানান, গতকাল শনিবার সকাল ৬টার দিকে হঠাৎ করেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। মুহূর্তেই বৃষ্টির সঙ্গে শুরু হয় প্রচ- ঝড়। ১০ মিনিটের এই ঝড়ে বাড়িঘর, আম, কলা, ফসল, বিদ্যুতের খুঁটি ও বিভিন্ন গাছ ভেঙে গেছে। ফলে এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাতের কারণে আমার নির্বাচিত এলাকার ডেফলবাড়ি গ্রামের কৃষক আশরাফুল ইসলামের দুটি মহিষ বজ্রপাতের আঘাতে গোয়াল ঘরেই মারা যায়। তার দুটি মহিষের দাম আনুমানিক ৬ লাখ টাকা। কৃষকের এমন ক্ষতি কোনোভাবেই পুষিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।
ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মনিরা বেগম বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করছি। তালিকা শেষ হলে তারা যেন সহযোগিতা পায় সে ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠানো হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে শুকনো খাবারসহ খাদ্য উপকরণ পাঠানো হয়েছে।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানিয়েছেন, কুষ্টিয়ায় কালবোশেখী ঝড় ও বৃষ্টিতে অনেক গ্রাম ল-ভ- হয়ে গেছে। আম, লিচুসহ বিভিন্ন মরসুমি ফলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উড়ে গেছে শত শত ঘরের টিনের চালা। উপড়ে গেছে অনেক গাছ। ভেঙে ও বেঁকে গেছে শতাধিক পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি সেই সাথে গাছের ডাল পড়ে তার ছিঁড়ে অনেক স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৫টার দিকে ঝড় শুরু হয়। প্রায় ১৫ মিনিট স্থায়ী ছিলো এ ঝড়।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ঝড়ের তা-বে শত শত গাছপালা ভেঙে রাস্তায় পড়ে আছে। শত শত হেক্টর জমির আম, কাঁঠাল, লিচুসহ বিভিন্ন মরসুমি ফল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক জানে আলম বলেন, কালবোশেখী ঝড়ের কারণে সড়কের দুপাশে শত শত গাছের ডালপালা ভেঙে পড়েছে। কিছু কিছু জায়গায় এলাকাবাসীর সহায়তায় আবার কোথাও কোথাও ফায়ার সার্ভিসের টিম গাছগুলো সড়ক থেকে সরিয়ে নিচ্ছে। কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (টেকনিক্যাল) মো. মোকসেমুল হাকিম বলেন, কালবোশেখী ঝড়ের তা-বে পুরো জেলা ল-ভ-। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে এবং গাছের ডাল পড়ে তার ছিঁড়ে অনেক স্থানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে আছে। আমরা মেরামতের কাজ করছি। কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুশান্ত কুমার প্রমানিক বলেন, ঝড়ে আম, লিচুসহ বিভিন্ন মরসুমি ফল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাৎক্ষণিক ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা যায়নি। তবে কৃষি বিভাগের লোকজন মাঠে গিয়ে ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ে কাজ করছে।
বগুড়া প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বগুড়ায় কালবোশেখী ঝড়ে গাছ ও ঘরের দেয়াল চাপা পড়ে দুজন নিহত হয়েছেন। তার মধ্যে শাজাহানপুরে বৃষ্টি কুষ্টিয়া গ্রামে আবদুল হালিম (৫০) গাছচাপায় এবং কাহালু উপজেলায় গাছ পড়ে ঘর ধসে যাওয়ায় মাটিচাপায় মারা গেছেন শাহিন (৪৫) নামে এক দিনমজুর।
জানা গেছে, ভোররাতের ঝড়ে একটি বড় গাছ ভেঙে আবদুল হালিমের ঘরের ওপর পড়ে। এরপর সেই গাছের ডাল কাটতে গেলে চাপা পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে দুপুরে তিনি মারা যান। হালিম শাজাহানপুর বৃষ্টি কুষ্টিয়া গ্রামের আনছার আলীর ছেলে। এছাড়া ঘরধসে মাটিচাপায় মারা যাওয়া শাহিন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ী গ্রামের মৃত গুলজারের ছেলে। তিনি প্রায় সাত বছর আগে থেকে কাহালুতে দিনমজুরের কাজ করছিলেন। এখানেই তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাস করছিলেন।
বগুড়া আবহাওয়া অফিসসূত্র জানান, ভোর ৪টায় কালবোশেখী ঝড় ৮৮ দশমিক ৬ কিলোমিটার বেগে বয়ে যায়। বগুড়া জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসার গোলাম কিবরিয়া জানান, ঝড়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে গাছপালা ও বৈদ্যুতিক লাইনের। বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ওপর গাছ উপড়ে পড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ভোর ৪টায় বগুড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ফলে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল না।
দিনাজপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বজ্রসহ বৃষ্টির সময় চিরিরবন্দর উপজেলার বাড়ির পাশের জমিতে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে আলতাফ হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের আতারবাজার কাকপাড়ায় খলিল উদ্দীনের ছেলে। গতকাল দুপুর ২টার দিকে আতারবাজার কাকপাড়ায় এ বজ্রপাত হয়।
মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, লৌহজংয়ের শিমুলিয়া ঘাট বরাবর পদ্মা নদীর মাঝে ঝড়ের কবলে পড়ে ৩৫০ মণ ধান নিয়ে একটি মালবাহী ট্রলার ডুবে গেছে। সকাল ৬টায় হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে মাওয়া থেকে শিবচরগামী ধানবোঝাই ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারে ১৫ জন শ্রমিক ছিলেন। এর মধ্যে দুজন নিখোঁজ। তারা হলেন হেলাল (৩৮) ও কাজল (২৮)। সন্ধ্যায় এ খবর লেখা পর্যন্ত তাদের সন্ধান না পাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে ট্রলারডুবিতে তারা মারা গেছেন।
কক্সবাজার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, চকরিয়ায় গাছচাপা পড়ে আবদুস শুক্কুর (৩৭) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকাল ১০টার দিকে উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের শান্তিনগরে এ ঘটনা ঘটে। শুক্কুর ওই এলাকার নুরুল হোসাইনের ছেলে। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে হারবাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহরাজ উদ্দিন মিরাজ জানান, সকালের দিকে প্রচ- বেগে কালবোশেখী বাতাস শুরু হয়। এমন সময় বাইরে কাজ করছিলেন আবদুস শুক্কুর। প্রচ- বাতাসে উঠোনের একটি গামারি গাছ ভেঙে তার মাথায় পড়ে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
ভোলা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মেঘনা নদীতে কালবোশেখী ঝড়ে বালুবোঝাই বাল্কহেড ডুবে গেছে। এছাড়া ঝড়ের কবলে পড়ে অন্য একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় নদীপাড়ের তিনটি দোকানঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। সকালে ভোলা সদর উপজেলর ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতলী মাছঘাট এলাকায় মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দুপুরে ডুবে যাওয়া বাল্কহেড উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। স্থানীরা জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কালবোশেখী ঝড়ে হঠাৎ মেঘনা নদী উত্তাল হয়ে ওঠে। এ সময় ঝড়ের কবলে পড়ে তুলাতলী ঘাটের কাছে অবস্থানরত এমভি তামিম শামিম নামে একটি বালুবোঝাই বাল্কহেড ডুবে যায়। বাল্কহেডটিতে থাকা ছয়জন স্টাফ নিরাপদে তীরে উঠে আসেন। এ সময় ঘাটের কাছে নোঙর করা এমভি হৃদয় নামে অন্য একটি খালি বাল্কহেড প্রচ- বাতাস ও নদীর উত্তাল ঢেউয়ের তোরে এসে নদীতীরবর্তী দোকানপাটে ধাক্কা দেয়। এতে তুলাতলী মাছঘাটের একটি চায়ের দোকান ও দুটি মাছের আড়ত দুমড়ে মুচড়ে বিধ্বস্ত হয়। তবে কেউ হতাহত হয়নি।
নওগাঁ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, কালবোশেখী ঝড়ে নওগাঁয় আম, ধান, গাছ, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন গ্রামে বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার ৩টার দিকে শুরু হয় কালবোশেখী। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ঝড়বৃষ্টির কারণে উড়ে গেছে ঘরের চালা, উপড়ে গেছে গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি। গাছের ডাল পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে ও তার ছিঁড়ে অনেক স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে আম ও ধানের। বিভিন্ন রাস্তায় গাছপালা ভেঙে পড়ে আছে। শত শত হেক্টর জমির আম ও ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, খাগড়াছড়িতে ঝড়ো হাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ৭টায় হঠাৎ ঝড়ো হাওয়ার প্রভাবে বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছপালা ভেঙে ঘণ্টাখানেক যান চলাচল বন্ধ ছিল। বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়ে ও তার ছিঁড়ে গিয়ে পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল বিভিন্ন এলাকা। খাগড়াছড়ি বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বাগত সরকার জানান, ঝড়ো হাওয়ায় ৩৩ কেভি ও ১১ কেভি লাইনে গাছ ভেঙে ও ডালপালা পড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, কালবোশেখীর তা-বে ঘরবাড়ি, দোকানপাটসহ শত শত গাছপালা ভেঙে ল-ভ- হয়ে গেছে কাজিপুর। গতকাল ভোরে এ অঞ্চলে কালবোশেখী ঝড় হানা দেয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সোনামুখী বাজার। এ বাজারের বেশ কয়েকটি দোকানঘরের চাল উড়ে গেছে। সেই সঙ্গে বৈদ্যুতিক লাইনও বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More