চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুরে নিদের্শনা ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলাচল : মাস্ক-হেলমেট না থাকায় ১৭ জনকে জরিমানা

স্টাফ রিপোর্টার: সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে প্রশাসন। এরপরেও অনেকেই মানছে নির্দেশনা। ফলে বিভিন্ন এলাকায় পরিচালনা করা হচ্ছে মোবাইল কোর্ট। গতকাল বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গা শহরসহ আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা উপজেলা ও মেহেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় বেশকয়েকজন মোটরসাইকেল চালককে জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়াও মুখে মাস্ক না থাকায় আরও বেশকয়েকজনকে অর্থদ- প্রদান করা হয়। এদিকে, নিদের্শনা অনুযায়ী বিকেল ৪টার মধ্যে দোকান বন্ধ না করায় মেহেরপুরে দু’ব্যবসায়ীসহ চারজনকে জরিমানা করা হয়।

স্বাস্থ্যবিধি না মেনে বাইরে চলাচল করায় চুয়াডাঙ্গায় মোটরসাইকেল চালকদের জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শহরের কবরী রোডের মোড়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের মাস্ক হেলমেট এবং মোটরসাইকেলের কাগজপত্র না থাকায় তাদের জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, লকডাউন শিথিলের পর সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল নিশ্চিত করতে ব্যাপক নজরদারি শুরু করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন। তারই ধারাবাহিকতায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল পরিচালনা করা হচ্ছে। গতকাল বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা শহরের কবরী রোডের মোড়ে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের মুখে মাস্ক, হেলমেট ও কাগজপত্র না থাকায় তাদের অর্থদ- প্রদান করা হয়। আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া মমতাজ।

এসময় মোটরসাইকেল চালক লফর আলীকে ৫শ’, বশির উদ্দীনকে ৩শ’, লাল্টু হোসেনকে ২শ’, আব্দুল মালেককে ৫শ’, আজিজুল ইসলামকে ২শ’ এবং আব্দুস সামাদকে ৫শ’ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আদালতের সহযোগিতায় ছিলেন বেঞ্চ সহকারী জহির উদ্দীন, সার্টিফিকেট সহকারী সাফিউল ইসলাম ও সদর থানা পুলিশ।

আলমডাঙ্গা ব্যুরো জানিয়েছে, আলমডাঙ্গায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল না করায় চারজনকে ৬ হাজার ২শ’ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হুমায়ন কবীর এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। জানাগেছে, মহামারি করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় গণপরিবহণ ও বিভিন্ন মার্কেটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচলের জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. লিটন আলী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হুমায়ন কবীর ও আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হুমায়ন কবীর রেলস্টেশন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এসময় তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুটি ট্রাক ও একটি মোটরসাইকেলসহ ৪টির মামলা প্রদান করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতে ট্রাক ড্রাইভার আসাদ আলীকে ৫ হাজার টাকা, মিলন আলীকে ৫শ’ টাকা, মোটরসাইকেল চালক মাসুদ রানাকে ৫শ’ টাকা জরিমানা প্রদান করা হয়। এছাড়া মাক্স না থাকায় আরও একজনকে ২শ’ টাকা জরিমানা করেন আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা শেষে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হুমায়ন কবীর সকলকে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে, স্বাস্থ্য বিধি মেনে মাক্স পরে চলাচলের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। এসময় আলমডাঙ্গা থানার এসআই আশরাফুল, এসআই সিদ্ধার্থ ম-ল সঙ্গীয় ফোর্সসহ উপস্থিত ছিলেন।

দামুড়হুদা অফিস জানিয়েছে, দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর সড়কে বিভিন্ন যানবাহন চেকিংয়ের সময় তিনজনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিউদ্দিন এ অর্থদ- প্রদান করেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, সড়কে শৃংখলা ফেরাতে ও করোনা দুর্যোগ মোকাবেলায় দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসন দামুড়হুদা-চুয়াডাঙ্গা সড়কের জয়রামপুর শেখপাড়ায় যানবাহন চেকিং অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় দুজন মোটরযান চালককে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ সালের ৬৬ ও ১০৪ ধারায় অভিযুক্ত করে উভয়কে এক হাজার ৫শ’ টাকা করে জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সময় করোনা দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারি আদেশ অমান্য করার অপরাধে দন্ডবিধি ১৮৬০ সালের ১৮৮ধারায় একজনকে ১হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়াও এসময় যানবাহনের যাত্রী-পথচারীদেরকে করোনা দুর্যোগ মোকাবেলায় সামাজিক দূরত্ব বজায় ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেন আদালতের বিচারক। পৃথক দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিউদ্দিন। আদালত পরিচালনা কার্য সম্পাদনে সহযোগিতা করেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসের পেশকার মো. জিহন আলী ও দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশের এএসআই কার্তিক কুমার।

মেহেরপুর অফিস জানিয়েছে, সরকারি আইন অমান্য করে বিকাল ৪টার পর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে রাখার দায়ে মেহেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে মেহেরপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় আদালত বসানো হয়। সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহিদুল হকের নেতৃত্বে এ অভিযান চালিয়ে সংক্রামক রোগ আইন ২০১৮ এর ২৫ ধারা লঙ্ঘনের কারণে ২৫ এর ২ ধারায় দুই ব্যবসায়ীসহ মোট চার ব্যক্তির নিকট থেকে ৪শ’ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More