চোরাচালান পণ্য ও মাদক উদ্ধারে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের সাফল্য

বিভিন্ন উদ্ধার অভিযানে বিজয়ীদের মাঝে পুলিশ সপ্তাহ’র দ্বিতীয় দিনে পুরস্কার বিতরণ
স্টাফ রিপোর্টার: ২০২০ ও ২০২১ সালে বিভিন্ন অভিযানে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও চোরাচালানী পণ্য উদ্ধারে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। পুলিশ সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন সোমবার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও চোরাই মালামাল উদ্ধারের জন্য তারা বিজয়ী হন।
বাংলাদেশ পুলিশের সকল ইউনিটের উদ্ধার অভিযান বিবেচনায় ২০২০ সালে মাদকদ্রব্য উদ্ধারে ‘গ’ গ্রুপে প্রথম হয়েছে জয়পুরহাট জেলা পুলিশ, দ্বিতীয় লালমনিরহাট জেলা পুলিশ ও তৃতীয় চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ। ২০২১ সালে চোরাচালান মালামাল উদ্ধারে ‘গ’ গ্রুপে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ প্রথম, পঞ্চগড় জেলা পুলিশ দ্বিতীয় ও লালমনিরহাট জেলা পুলিশ তৃতীয়।
চোরাচালান মালামাল ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারে প্রথম ও তৃতীয় স্থান অধিকার করায় উত্তম কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলামকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রেস্ট ও প্রশংসাপত্র প্রদান করেন আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার)।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘২০৪১ সালের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে পুলিশ। ২০৪১ সালে আমরা ধনী রাষ্ট্র হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। সেই রাষ্ট্রের জন্য পুলিশকেও প্রস্তুত হতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আমরা ইতোমধ্যে স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান করছি। আমরা চাই না পুলিশের কোনো সদস্য অপকর্মে লিপ্ত হোক। পুলিশের কোনো পর্যায়ের সদস্য যদি অপকর্মে লিপ্ত হয়, পুলিশ বাহিনীর জন্য অসম্মান বয়ে আনে, শরীরের কোনো অংশে পচন ধরলে যেমন কেটে ফেলা হয়, একইভাবে আমরা তাদের পরিত্যাগ করব।’
ড. বেনজীর বলেন, ‘যারা পুলিশে আসবে তাদের মনে রাখতে হবে এটা পেশা নয়, সেবা। আমরা পুলিশ বাহিনীর জন্য সৎ, দেশপ্রেমিক ও সাহসী লোক খুঁজছি। যাদের মধ্যে এ তিনটি গুণ ও সেবার মনোভাব থাকবে তারাই পুলিশে আসবে।’ মাদক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০৪১ সালে যারা সমাজের ভূমিকা রাখবে সেই প্রজন্ম যেন মাদকে আসক্ত হয়ে না থাকে সে ব্যাপারে তরুণসমাজকে আরও সচেতন থাকতে হবে। আমরা সবাই মিলে এ কমিউনিটি মুভমেন্টের মাধ্যমে মাদককে দেশ থেকে বিতাড়িত করব। নতুন প্রজন্ম যেন মাদকের ফাঁদে না পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে বাংলাদেশ পুলিশ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্তদের উদ্দেশ্য করে আইজিপি বলেন, ‘এটা শুধু নামমাত্র উপহার নয়, এটা শোকেসে রেখে দেয়ার পুরস্কার নয়। এটা অহংকার করার মতো একটি বিষয়। শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও উত্তম কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার।’
এসময় চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সমগ্র ইউনিটের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ ‘গ’ গ্রুপে ২০২১ সালে চোরাচালান মালামাল উদ্ধার অভিযানে প্রথম স্থান এবং ২০২০ সালে মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযানে তৃতীয় স্থানের কৃতিত্ব অর্জন করেছে। চুয়াডাঙ্গা জেলার এই কৃতিত্ব জেলা পুলিশের সকল অফিসার ফোর্স ও চুয়াডাঙ্গাবাসী সকল সচেতন সম্মানিত জনসাধারণের আন্তরিকতার জন্য সম্ভব হয়েছে। এই কৃতিত্বের অধিকারী আমার সকল অফিসার-ফোর্স ও চুয়াডাঙ্গাবাসী। জঙ্গি, সন্ত্রাস, চোরাচালান ও মাদকমুক্ত সোনার বাংলাদেশ বিনির্মানে সকলের আন্তরিকতা ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

 

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More