জীবননগর আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জবর দখল!

জীবননগর ব্যুরো: প্রভাবশালী একটি মহল কৌশলে সরকারি খাস খতিয়ানের জমি খারিজ দেখিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ও জমি দখল করেছে। স্কুল নির্মাণের ৬৪ বছর পর গত শনিবার একদল ভূমি দস্যু দখল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এদিন তারা শিক্ষকদের বাঁধার মুখে বিদ্যালয়টি কাটা তারের বেড়া দিয়ে ঘিরে নেয়ার কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়। তবে তারা ইতোমধ্যে তাদের দখলদারিত্ব সম্পন্ন করেছে। গতকাল সোমবার আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দখলকারীদের বিরুদ্ধে ইউএনওর বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন।
আলীপুর গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানায়, ১৯৫৭ সালে এলাকার শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিরা জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামে আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলেন। চুয়াডাঙ্গার ডেপুটি কমিশনারের অনুকূলে থাকা ৮২৬ সিএস খতিয়ানের ৩৩০ দাগের ২৭ শতক জমিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়। ওই সালেই পিইডিপি-২ প্রকল্পের আওতায় সেখানে স্কুলভবন নির্মাণসহ স্কুল সীমানার চারপাশে ফলজ ও বনজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়। যা এখন আনেক বড় গাছ হিসেবে বিদ্যমান রয়েছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইলার উদ্দীন জানান, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল খুলবে। এ জন্য আমরা শিক্ষকরা স্কুল পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করাসহ নানান কাজের জন্য বিদ্যালয়ে অবস্থান করছি। গত শনিবার আকস্মিকভাবে বাঁকা গ্রামের আব্দুর রহিম শেখ, মেহেদী হাসান, মহিনুর ইসলাম, জাহাঙ্গীর হোসেন ও শামীম হোসেনের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একদল ব্যক্তি বিদ্যালয়ে চত্বরে ঢুকে জমি মাপযোগ শুরু করেন। তারা আমাদেরকে কিছু না বলে নিজেদের ইচ্ছামত ভবনটির চারপাশে খুঁটি পুতে সীমানা নির্ধারণ করেন। পরে তারা কাঁটাতারের বেড়া লাগিয়ে স্কুলটি ঘিরে নেয়ার চেষ্টা করলে আমরা তাতে বাঁধা সৃষ্টি করি। একপর্যায়ে দখলকারীরা আমাদের হুমকি-ধামকি দিয়ে পরে আসার কথা বলে তার কাটার বেড়া স্কুলের সামনে রেখে চলে যায়। তিনি জানান, এ সময় স্থানীয় দুই সাংবাদিক তাদের সাথে ছিলেন। এদের মধ্যে একজন সাংবাদিক নানাভাবে তাদেরকে বিরক্ত করছেন। তারা মূলত তথ্য নিয়ে দখলদারদের নিকট দেয়ার জন্য এমন করছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ২০৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল খুলবে। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন পর ক্লাস করার জন্য স্কুলে আসতে মুখিয়ে রয়েছে। এ অবস্থায় স্কুলটির দখল প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়া মারাত্মকভাবে বিঘিœত হবে। দখলকারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান।
দখলকারীদের মধ্যে মেহেদী হাসান নামের একজন জানান, এ জমি তাদের। জমি খারিজের কাগজপত্র আছে। দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি তাদের জমি দখল করে চালিয়ে আসছিলো। এখন আমরা দখলে নিলাম। এ জমিতো সরকারি খাস খতিয়ানভূক্ত এবং স্কুলটি ৬৪ বছর পূর্বে নির্মাণ করা হয়েছে, এ জমি কীভাবে আপনাদের হলো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি অবশ্য কিছু বলতে অস্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম রাসেল সাংবাদিকদের বলেন, অভিযাগ পেয়েছি। ইতোমধ্যে আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি। তিনি বলেন, কেউ যদি সরকারি জমি জবর দখল করার চেষ্টা করে তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More