দর্শনার শহিদুল হত্যা মামলার প্রধান সুজন গ্রেফতার

দর্শনা অফিস: দর্শনা পৌর এলাকার ঈশ্বরচন্দ্রপুরে শহিদুল হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হত্যাকা-ের ৪৮ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার ভোর পৌনে ৪টায় ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী মানিকদিহি গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করে দর্শনা থানা পুলিশ। হত্যাকা-ের পর আসামি সুজন সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলো বলে পুলিশ জানায়। বাকি আসামিদের গ্রেফতার অভিযান রয়েছে অব্যাহত। মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় দর্শনা থানায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর ও দামুড়হুদা সার্কেল) মো. জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দর্শনা থানার ওসি মাহবুবুর রহমান, পরির্দশক (তদন্ত) শেখ মাহবুব, পরির্দশক (অপারেশন) আবু সাঈদসহ থানার অন্য কর্মকর্তারা।
গত শনিবার দুুপুর দেড়টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌরসভার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে সুজন (২০), আশানুর রহমানের ছেলে জাকির হোসেন (১৬) ও শহিদুল ইসলামের ছেলে ইলফাজ (১৬) গ্রামের বড় মসজিদ মোড়ে দোকানে বসে মোবাইলফোনে অনলাইনভিত্তিক ফ্রি-ফায়ার গেমস খেলছিলো। এ সময় খেলা নিয়ে জাকিরের সঙ্গে সুজনের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জাকিরের পক্ষে ইলফাজ কথা বললে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে জাকির ও ইলফাজকে মারধর করে। পরে ইলফাজের বাবা শহিদুল (৪৫) প্রতিবাদ করলে সুজন বাসা থেকে ছুরি এনে বাবা শহিদুল ও ছেলে ইলফাজকে ছুরিকাঘাত করে। এতে শহিদুল ও ইলফাজ মারাত্মকভাবে জখম হয়। এরপর পালিয়ে যায় সুজন। আহত শহিদুলকে উদ্ধার করে প্রথমে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত শহিদুল ইসলাম ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের তাহার আলীর ছেলে। এ ঘটনায় নিহত শহিদুলের মেয়ে আমেনা খাতুন বাদী হয়ে সুজনকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের বিরুদ্ধে দর্শনা থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলার বাকি আসামির তালিকায় রয়েছে গফুর মিয়ার ছেলে আমজাদ আলী (৪৫), আমজাদ আলীর ছেলে শামীম হোসেন (২৬), আমজাদ আলীর স্ত্রী গোলেহার খাতুন (৪২) মশিউর রহমান ছোটনের স্ত্রী কাজল (৩০) ও বকশ ম-লের ছেলে সোলাইমান (৩৮)। গত সোমবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলামের নির্দেশে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মাহব্বুর রহমান রহমান কাজলের নেতৃত্বে, পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মাহবুবুর রহমান, পরিদর্শক (অপরেশন) আবু সাঈদ, এসআই সুমন্ত বিশ্বাস, জীবননগর থানার এসআই মেফাউল হাসান এবং এএসআই ইমামুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালান চালান ঝিনাইদাহ জেলার মহেশপুর উপজেলার ঘুগরি পান্তাপাড়া ইউনিয়নের মানিকদিহি গ্রামে। ওই গ্রামের জনৈক ব্যক্তির বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত খুনি সুজনকে। সুজনকে গ্রেফতারের পর করা হয় পুলিশি জিজ্ঞাবাদ। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকা-ের ঘটনার কথা স্বীকার করেছে। এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর আবু সাঈদ জানান, গ্রেফতারকৃত সুজনকে আজ বুধবার সোপর্দ করা হতে পারে আদালতে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুজনকে রিমান্ডের আবেদনও করা হতে পারে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More