দর্শনা থানা প্রতিষ্ঠা ও সাফল্যের দু’বছর

৬৩৮ মধ্যে ৩৯৬ মাদক মামলা : গ্রেফতার ১৪২৭

দর্শনা অফিস: দর্শনা শহর নানাভাবে ঐতিহ্যমন্ডিত। জেলার অতিগুরুত্বপূর্ণ শিল্প শহর হিসেবে দর্শনার পরিচিতি গোটা দেশেই। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজি আলী আজগার টগরের নিরলস প্রচেষ্ঠার ফসল হিসেবে দর্শনা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে থানা হিসেবে উন্নীত হয় গত ২০২০ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল আনুষ্ঠানিকভাবে থানার উদ্বোধন করেন।

থানার প্রথম অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ইন্সপেক্টর মাহাবুর রহমান কাজল। (তদন্ত) ইন্সপেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন শেখ মাহবুবুর রহমান। দক্ষতা, দিক নির্দেশনা ও সমসন্বয়ের মাধ্যমে দুই ইন্সপেক্টর মাদক ও চোরাচালান বিরোধীসহ অপরাধ দমনে কঠোর ভ‚মিকা রেখেছেন। শেখ মাহবুবুর রহমান আগে-ভাগে বদলি হলেও গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর চুয়াডাঙ্গা জেলা গোয়েন্দা বিভাগে বদলি হন মাহবুর রহমান কাজল। একই দিনে ওই বিভাগের ইন্সপেক্টর এএইচএম লুৎফুল কবীর দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করেন। দুজন ইন্সপেক্টর, একদল চৌকস এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল নিয়ে সন্ত্রাস, অস্ত্র, ছিনতাই, ডাকাতি, ইভটিজিং, মাদক, চোরাচালানসহ অপরাধবিরোধী ঝটিকা অভিযান চলমান রাখেন ওসি কবীর। দর্শনা থানা প্রতিষ্ঠার ২ বছর পেরিয়েছে গত ২৮ ফেব্রæয়ারি। গত দুবছরে থানা পুলিশের রয়েছে ব্যপক সফলতা।

থানা স‚ত্রে জানা গেছে, গত দুবছরে দর্শনা থানার মামলা সংখ্যা সর্বমোট ৬৩৮টি। যার মধ্যে ৫৯৫টি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে আদালতে। এর মধ্যে মাদক মামলার সংখ্যা ৩৯৬টি। মাদকসহ সর্বমোট আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে ১৪২৭ জনকে। ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে ৭৫৮১ বোতল, গাঁজা ২৪১ কেজি ৩৫৫ গ্রাম, গাঁজা গাছ ১৪টি, হেরোইন ৩ পুরিয়া, ইয়াবা ২২১৫ পিস, কেরুজ বাংলা মদ ৪৪৯ লিটার, বিদেশি মদ ১০ বোতল, ¯^র্ণ ৫ কেজি ৪শ ৬০ গ্রাম, রূপা ৫৮ কেজি, ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ১২৮৩৬ পিস, ভারতীয় কীটনাশক ১১ বোতল, থ্রি পিস ৩১, শাল চাদর ১১, শাড়ী ১৬৩, বেডশিট ৪, ক্রিম ২০০ পিসসহ ৪টি বাইসাইকেল। এ থানায় অফিসার ইনচার্জসহ ৩ জন ইন্সপেক্টর রয়েছেন। এসআই ৮, এএসআই ৮, নারী এএসআই ১, কনস্টেবল ২৬, নারী কনস্টেবল ৫জনসহ রয়েছেন ১ জন বেতার ব্যবস্থাপক। থানার আওতাধীন রয়েছে হিজলগাড়ি, বেগমপুর ও তিতুদহ পুলিশ ক্যাম্প। দর্শনা থানায় উন্নীত হওয়ার পর থেকে মাঝে-মধ্যে অশান্ত হলেও সিংহভাগ সময় আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি অনেকটাই ¯^াভাবিক। দর্শনা শহরে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বসবাস। জেলার ঐহিত্যবাহী কেরুজ চিনিকল, কাস্টমস সার্কেল, কলেজ, হাটবাজার, রেলস্টেশন, বন্দর ইয়ার্ডসহ অসংখ্য সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দর্শনাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে তৎকালীন বৃটিশ শাসনামলে স্থাপন করা হয় পুলিশ ফাঁড়ি। দর্শনা পুরাতন বাজার সংলগ্ন পরিত্যক্ত জমিদার বাড়িতে দীর্ঘদিন পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থার কারনেই পুলিশ ফাঁড়ি স্থানান্তর করা হয়। পুলিশ ফাঁড়ি থেকে উন্নীত করে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে ঘোষণা দেয়া হয় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে। দর্শনা পোস্ট অফিসের সামনে সরকারি জমিতে নির্মাণ করা হয় দর্শনা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ভবন। ১৯৯৯ সালের ২৪ জুলাই এ ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন আ.লীগ সরকারের ¯^রাষ্ট্র, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। সেই থেকেই দর্শনা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়।

এ ব্যাপারে থানার ওসি এএইচএম লুৎফুল কবীর বলেন, যেকোন ম‚ল্যের বিনিময়ে মাদককে শ‚ন্যের কোটায় আনার ঘোষণা ¯^য়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। মাদকমুক্ত দেশ গঠনের ¯^প্নকে বাস্তবায়ন করতে প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। সে নির্দেশ মোতাবেক চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম স্যার মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছেন। পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশে মাদকমুক্ত থানা গঠনের অঙ্গিকার নিয়ে মাঠে রয়েছি আমরা। দর্শনা থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান রয়েছে অব্যাহত। দর্শনা থানাবাসীর সহযোগিতা এভাবেই অব্যাহত থাকলে অবশ্যই মাদকমুক্ত এলাকা গড়া সম্ভব হবে। তাই আসুন আমরা। মাদককে না বলি, মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে মাদককারবারী, চোরাচালানী ও অপরাধীদের আইনের হাতে তুলে দিতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলি।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More