দর্শনা-মুজিবনগর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

স্বাধীনতা বিরোধী পরাজিত শক্তিরা মুজিবনগরের উন্নয়ন করেনি
মুজিবনগর প্রতিনিধি: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, মুজিবনগর নাম থাকার কারণে স্বাধীনতা বিরোধী পরাজিত শক্তিরা মুজিবনগরের উন্নয়ন করেনি। আমাদের জাতির পিতার নামে নামাঙ্কিত মুজিবনগর। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম সরকার এখানে শপথ গ্রহণ করে। মুজিবনগর নামাঙ্কিত করার জন্য যারা ৭১ এর স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিলো তারা এই মুজিবনগরের উন্নতি করেনি। গতকাল শুক্রবার মেহেরপুরে দর্শনা-মুজিবনগর মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্পে কেদারগঞ্জ মোড়ে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এটি হচ্ছে বাংলাদেশ সৃষ্টির সূতিকাগার, কিন্তু এই এলাকাকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছিলো। ১৯৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পরে আওয়ামী লীগ সরকার যখন দেশ পরিচালানার দায়িত্ব নিলো তখনই মুজিবনগরের উন্নয়ন শুরু হলো। কিন্তু ২০০১ সালে ষড়যন্ত্রের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকারকে পরাজিত করা হলো। এরপরে মুজিবনগরের নির্মাণ কাজ নিয়েও ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। ইতিহাস বিকৃতিও করা হয়েছে এখানে। ফরহাদ হোসেন বলেন, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি তালিকা করে মুজিবনগর কমপ্লেক্সের আধুনিকায়নের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ অর্থবছরে এখানকার উন্নয়ন কাজ শুরু হবে। মুজিবনগরবাসীকে মাথায় রাখতে হবে আওয়ামী লীগ সরকার থাকলে মুজিবনগরবাসীর উন্নয়ন হবে। বর্তমান সরকারের অধীনে বাংলাদেশে উন্নয়নের অগ্রযাত্রার সূচনা হয়েছে। এই অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রেখে দেশকে সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে সকলকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। ফরহাদ হোসেন বলেন, বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি ক্ষমতায় আছে বলেই দেশ আজ বিশ্বে সম্মানজনক অবস্থানে রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করা। সেই লক্ষ্য অর্জনে সকলকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ১৪৯ কোটি টাকা ব্যায়ে ২৮ কিলোমিটার মুজিবনগর-দর্শনা আঞ্চলিক মহাসড়কের উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন ঘোষণা করেন। যা বাস্তবায়ন করবে মেহেরপুর সড়ক বিভাগ। মেহেরপুর জেলা প্রশাসন ও সড়ক বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. মনসুর আলম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার রাফিউল আলম খান এবং সওজ, সড়ক সার্কেল কুষ্টিয়ার তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মাসুদ করিম। বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাড. ইব্রাহিম শাহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আয়ূব হোসেন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমাম হোসেন মিলু। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সড়ক ও জনপথ বিভাগ মেহেরপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম। সঞ্চলনায় ছিলেন জেলা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও পাঠাগার সভাপতি জাহিদ হাসান রাজিব প্রমুখ।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More