নিঝুম রাতে চাঁদ ঢলে পড়ে বটতল নদীর বুকে

সৌন্দর্যের লীলা ভূমি শিবনগর ডিসি ইকোপার্ক :

রতন বিশ্বাস: ডিসি ইকোপার্ক নদীয়া এস্টেটের জমিদার শ্রী নফর চন্দ্রপাল চৌধুরী দামুড়হুদা উপজেলার শিবনগরের বৃহৎ এলাকাজুড়ে বিভিন্ন ফলের গাছের সমন্বয়ে একটি বাগান তৈরি করে। বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য প্রবেশ পথের দুই পাশে সারিবদ্ধ করে শত শত তালগাছ রোপণ করেন। নফর চন্দ্র পাল চৌধুরী ১৯৪০ সালে পরলোকগমন করেন। তার দুইপুত্র ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর ভারতে চলে যান। পরবর্তীতে বাগানটি সরকারের মালিকানায় চলে আসে। বহু বছর পরিচর্যার অভাবে বাগানটি প্রায় বৃক্ষ শূন্য হয়ে পড়ে এবং ঘন জঙ্গলের সৃষ্টি হয়।
২০১৩ সালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে মো. ফরিদুর রহমান যোগদানের পর বাগান ও জলাশয়কে নতুনভাবে সাজিয়ে সরকারি সম্পদ রক্ষা ও সরকারি আয় বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। বাগানটির সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য এখানে শতশত প্রজাতির দেশি-বিদেশি ফলজ, বনজ এবং ওষধি গাছ রোপণ করেন। তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুস সামাদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ২০১৪ সাল হতে আমবাগান বটতলের বিলজুড়ে একটি ইকোপার্ক নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসাইন ২০১৫ সালে ২২ জুন পার্কটি উদ্বোধন করেন। বর্তমানে ইকোপার্কটি প্রকৃতিপ্রেমী মানুষদের বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। যা উপজেলাকে আকর্ষণ ও সম্মান বৃদ্ধি করছে। সৌন্দর্যের লীলা ভূমি আজকের ডিসি ইকোপার্কে প্রতিদিন দূর দূরান্ত হতে দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটছে। চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর জেলাসহ বাইরের জেলা থেকে পার্কটি পিকনিক স্পট হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। সবুজের বিস্তারের মাঝে রয়েছে রঙবে-রঙের বাহারি ফুল। বিনোদনের ব্যবস্থাটিও সুন্দর। এখানে বনভোজনের জন্য রয়েছে অনেকগুলো স্পট। নদীর পাড়ে রয়েছে বিশ্রামগৃহ। ছুটির দিনে প্রকৃতির প্রেমে মাততে এখন অনেকে চলে আসেন। নিঝুম রাতে পূর্ণিমার চাঁদ ঢলে পড়ে বটতলের বুকে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত কুমার সিংহ বলেন, প্রকৃতির নিসর্গ রূপ দেখার এক অন্যতম জায়গা। পার্কে প্রচুর দর্শনার্থী আসে। আশাকরি একটি সুন্দর ও সুস্থ পরিবেশে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম বেড়ে উঠবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তার বলেন, শিবনগরের ডিসি ইকোপার্কে রয়েছে ফুল ও ফলের বাগান, শিশু উদ্যান, দোলনা, ফোয়ারা, প্যাডেল বোট ইত্যাদি নানান মজার মজার আয়োজন। বিলের তীরে অবস্থিত পার্ক থেকে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার মতো। এখানে না আসলে বোঝা যাবে না এর সৌন্দর্য কতো। বিলের ধারে পিকনিকের জন্য দারুণ একটি স্পট। এই পার্ক ঘিরে মেগা প্রকল্প নেয়া হয়েছে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More