ভূমি ও গৃহহীন ১৭৫ পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান করা হবে

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেছেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। তিনি স্বপ্ন দেখতেন দেশের সকল মানুষ অন্ন ,বস্ত্র, আশ্রয় এবং উন্নত জীবন পাবে। তার এ স্বপ্নকে বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছি। আগামী রোববার জেলায় ১৭৫টি বাড়ি ১৭৫ জন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান করা হবে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিন কর্তৃক ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে (২য় পর্যায়ে) জমি ও গৃহ প্রদান সংক্রান্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার এসব কথা বলেছেন। এবারের প্রতিপাদ্য ‘আশ্রয়নের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার।’ আগামী ২০ জুন রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় চুয়াডাঙ্গা জেলার সদর উপজেলায় ৫০টি, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৪৫টি, দামুড়হুদা উপজেলায় ৩০টি এবং জীবননগর উপজেলায় ৫০টি বাড়ি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিারের মাঝে হস্তান্তর করা হবে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রেসব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনিরা পারভীন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাজিয়া আফরীন, সদর উপজেলা নির্বাহী নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান, আরডিসি জান্নাতুল ফেরদৌস, সহকারী কমিশনার হাবিবুর রহমান এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার আরো বলেন, গত আড়াই মাস আগে চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১ম পর্যায়ে ১৩৪টি বাড়ি ১৩৪ জন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে জমি ও গৃহ প্রদান করা হয়। ওই সময়ে প্রতিটি বাড়ির জন্য ২শতক জমি এবং রঙিন টিনের দুটি ঘর, রান্নাঘর ও বাথরুমের বাড়ি নির্মাণ করে দেয়া হয়। প্রতিটি বাড়ি নির্মাণে খরচ হয় ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। এবার ২য় পর্যায়ে ১৭৫টি বাড়ি নির্মাণে প্রতিটি বাড়ির জন্য ব্যয় করা হয়েছে এক লাখ ৯১ হাজার টাকা। এ বাড়ি আগামী ২০ জুন বাড়ির মালিক স্বামী-স্ত্রীর নামে দলিল ও চাবি হস্তান্তর করা হবে। প্রতিটি বাড়ি খাস জমিতে করা হয়েছে। এখন চ্যালেঞ্জ খাস জমি পাওয়া। লোকালয়ে জমি দরকার। যারা অন্ন, বস্ত্র ও আশ্রয় পাবে, তাদের কথা কারা ভাবে। সামুদ্রিক জোন কাজে লাগাতে পেরেছি। মাছ ধরা ছাড়া কিভাবে সম্পদ আহরণ করা যায়। যারা ভাবে তাদেরকে সারাজীবন মনে রাখবে। ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলা। চার উপজেলা কানেক্টেট থেকে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত হয়ে উপকারভোগীদের কাছে চাবি হস্তান্তর করা হবে। ভূমিহীন ছাড়া এ বাড়ি পাবার কোনো সুযোগ নেই এবং রাজনৈতিক প্রভাবও নেই। উপজেলা পর্যায়ে টাস্কফোর্স কমিটি ভূমিহীন ও গৃহহীনদের নামের তালিকা তৈরী করেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক আরো জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্ফারে ক্ষতিগ্রস্ত ১৫টি পরিবারের জন্য বাড়ি নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৬টি, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৬টি এবং জীবননগর উপজেলায় ৩টি বাড়ি রয়েছে। ক্ষুদ্র-নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠির জন্য ২০টি বাড়ি তৈরী করে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৫টি, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৫টি, দামুড়হুদা উপজেলায় ৫টি এবং জীবননগর উপজেলায় ৫টি বাড়ি রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি/বেসরকারি উদ্যোগে ৩৬টি বাড়ি নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি বাড়ির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২৭টি বাড়ির কাজ শিগগিরই সম্পন্ন হবে। এর আগে ১ম পর্যায়ে ১৩৪টি পরিবারের মাঝে এবং এবার ১৭৫টি মাঝে জমি ও বাড়ি বরাদ্দ হয়েছে। এরা ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত। ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত জেলায় ৯ হাজার ৯৫৪টি বাড়ি নির্মাণ করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। যার জমি আছে, ঘর নেই। এমন লোকদের ঘর করে দেয়া হবে। ‘খ’ শ্রেণির ১ হাজার ৮৪৮টি বাড়ি করে দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিছু সংখ্যক ব্যক্তিকে উপস্থিত করে চাবি হস্তান্তর করা হবে। মহামারী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে জেলা প্রশাসক সকলকে আহ্বান জানিয়েছেন।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More