মেহেরপুরে ঝরে যাচ্ছে আমের গুটি : দুশ্চিন্তায় চাষিরা

মেহেরপুর অফিস: সুস্বাদু আমের জন্য যে জেলার পরিচিতি সবার কাছে তা হলো মেহেরপুর। চলতি মরসুমে জেলায় আমের ফলন কেমন হবে তা নির্ভর করছে গুটি টেকার ওপর। আমের গুটি ঝরে যায় মূলত মাটিতে রসের অভাব হলে। আম বৃদ্ধির প্রাথমিক পর্যায়ে অর্থাৎ মার্চ-এপ্রিলে বৃষ্টিপাত কম হলে দেখা দেয় এ সঙ্কট। গাছে গাছে আমের গুটি দেখা গেলেও দীর্ঘ ৫ মাস ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় এবার আমের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে চিন্তিত হয়ে পড়েছে আম ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা। জেলায় উৎপাদিত আমের মধ্যে হিমসাগর, বোম্বাই, ল্যাংড়া, আ¤্রপালি প্রসিদ্ধ। এছাড়াও গোপালভোগ, ক্ষীরসাপাতি, আশ্বিনা, গবেষণাকৃত বারি-৩, বারি-৪, বারোমাসি কাটিমন জাতের বাগান তৈরির ক্ষেত্রেও আগ্রহী হয়ে উঠছে অনেকে। মেহেরপুরের হিমসাগর দেশের বাজার ছাড়িয়ে রফতানি হয় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ মরসুমে প্রায় ৯৮ ভাগ গাছেই মুকুল আসে। জেলার ৩ উপজেলায় ছোট বড় গাছ মিলে প্রায় ৩ হাজার ৩শ ৫০ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষের মুখে হাসি নেই, যেনো মলিন হয়ে গেছে। স্বাদের দিক থেকে মেহেরপুরের আমের নাম রয়েছে। মুজিবনগরে বৃটিশ শাসনামলে তৈরী মুজিবনগর আ¤্রকাননে ১২শ’ আমগাছ আছে। ওই বাগানে ১২শ’ আমগাছ ১২শ’ জাতের। মেহেরপুর জেলায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সব জাতের আমেরই চাষ হচ্ছে।
সরজমিনে দেখা গেছে, সদর উপজেলার মেহেরপুর, আমঝুপি, বামনপাড়া, আমদাহ, উজলপুর, বন্দর, আশরাফপুর, পিরোজপুর, কোলা, রায়পুর এবং মুজিবনগরের মোনাখালি, দারিয়াপুর, শিবপুর, আনন্দবাস, বাগোয়ান, সোনাপুর, মহাজনপুর এবং গাংনীর গাড়াডোব, ধানখোলা, বামুন্দী, কাজিপুর, নওদাপাড়া কাথুলীসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের বাগান ঘুরে দেখা যায় আমের গুটি। কোনটি আকারে ছোট, আবার কোনটি একটু বড়। বৃষ্টি না হওয়ায় আমের গুটি স্বাভাবিক কারণে বড় হচ্ছে না। এতে করে আম চাষিসহ বাগান মালিকদের ভাবিয়ে তুলেছে।
আমচাষি শাহরিয়ার লিয়ন জানান, অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যার কারণে এ বছর আমের বাগানে ব্যাপক মুকুল এসেছিলো। সে হিসেবে প্রচুর গুটি ধরেছে। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো ফলন পাবার প্রত্যাশা করছি। তবে বৃষ্টির কারণে গুটি ঝরে যাচ্ছে।
গাংনীর ভোমরদহ গ্রামের আমচাষি জাহিদুল হাসান জানান, আমাদের জেলার আম খেতে খুবই সুস্বাদু। বিগত দশ বছরের থেকে এবার প্রতিটি গাছেই বেশি বেশি গুটি ধরেছে। বাম্পার ফলনের আশায় আছি কিন্তু আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় আমের গুটি ঝরে যাচ্ছে। বাগানে নিয়মিত যতœ নিতে অনেক খরচ হয়ে যাচ্ছে।
সদরের আমবাগান মালিক মোমেনুল ইসলাম জানান, এবছর পর্যাপ্ত পরিমাণ মুকুল এসেছিলো। আর সময়মত গুটি আসায় আশার সঞ্চার জেগেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বৃষ্টি না হওয়ায় বেশ চিন্তার মধ্যে পড়তে হয়েছে। তবে, সামর্থ্য অনুযায়ী আমগাছে পানি দিয়ে স্প্রে এবং গাছের গোড়ায় পানি দেয়া হচ্ছে। খরচের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে, তদুপরি এ মুহূর্তে করার কিছুই নেই।
আম ব্যবসায়ী জহির উদ্দিন জানান, এবছর আমের গুটি ভালোই এসেছে, তবে গত বছরের অক্টোবর মাসে থেকে অদ্যাবধি বৃষ্টি না হওয়ায় ফলন বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। আশায় বুক বেঁধেছি হয়তো ফলন ভালো হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক স্বপর কুমার খাঁ জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি বছর মেহেরপুরে আমের ব্যাপক ফলনের আশা করা হচ্ছে। আমের ফলন যাতে ভালো হয় তার জন্য প্রতিনিয়ত সঠিক পরিচর্যা ও পোকামাকড় দমনে বালাইনাশক প্রয়োগ করার পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগের মাঠ-কর্মীরা। তবে বৃষ্টি না হওয়ার কারণে কিছু গাছে গুটি পড়ে যাচ্ছে। এই মুুহূর্তে বৃষ্টি হলে ফলন ভালো হবে, না হলে আম উৎপাদনে ব্যাহত হতে পারে। যদিও খরচ বেশী পড়বে, তারপরও আমচাষিদের গাছে পানি দেয়ার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

 

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More