মেহেরপুর হিজুলীর কৃষক নূর ইসলাম হত্যা মামলায় রায় : ৫ আসামির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ-াদেশ

মেহেরপুর অফিস: মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি ইউনিয়নের হিজুলী গ্রামের নুর ইসলাম হত্যা মামলায় সাগর, মোহাম্মদ হক, মোহাম্মদ সোনা, আলফাজ উদ্দিন ও হামিদুল ইসলাম নামের ৫ ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা; অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদ-াদেশ প্রদান করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক রিপতি কুমার বিশ্বাস ওই রায় দেন।
সাজাপ্রাপ্ত সাগর হিজুলী গ্রামে আইজুদ্দিনের ছেলে, মোহাম্মদ হক একই গ্রামের আলী মহালদারের ছেলে, হামিদুল ইসলাম নজর উদ্দিনের ছেলে, আলফাজ উদ্দিন একই গ্রামের তাহাজ উদ্দিনের ছেলে, মোহাম্মদ সোনা হিজুলী গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে। সাজাপ্রাপ্ত সাগর ও মোহাম্মদ হককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত অপর আসামি আলফাজ উদ্দিন, হামিদুল ইসলাম ও মোহাম্মদ সোনা পলাতক রয়েছে।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ২০১০ সালের ২০ মার্চ রাতে হিজুলি গ্রামের নুর ইসলামকে নির্মমভাবে খুন করা হয়। পরদিন সকালে হিজুলী গ্রামের মাঠ থেকে নুর ইসলামের লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় নুর ইসলামের স্ত্রী সাকেলা খাতুন বাদী হয়ে বাঃ দঃ বিঃ ৩০২/৩৪ পেনাল কোড ধারায় সাগর, মোহাম্মদ হক, মোহাম্মদ সোনা, আলফাজ উদ্দিন, হামিদুল ইসলাম, বাবর আলী, খালেক, নিপুন, উজ্জ্বল, রিকাতুল্লা, মহিউদ্দিন সহ মোট ১১ জনকে আসামী করে মেহেরপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ১৪, তাং- ২১/৩/১০।
পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মেহেরপুর সদর থানার এসআই কামাল প্রাথমিক তদন্ত শেষে আদালতে সাগর, মোহাম্মদ হক, মোহাম্মদ সোনা, আলফাজ উদ্দিন ও হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় মোট ১৪ জন সাক্ষী তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন। এতে আসামি সাগর, মোহাম্মদ হক, মোহাম্মদ সোনা, আলফাজ উদ্দিন ও হামিদুল ইসলাম দোষী প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ-ের আদেশ দেন। মামলায় সাজাপ্রাপ্ত অপর পলাতক আসামিরা আটকের দিন থেকে তাদের সাজা শুরু হবে।
মামলায় রাষ্ট্র পক্ষে অতিরিক্ত পিপি কাজী শহীদুল হক এবং আসামি পক্ষে অ্যাড. আসাদুল আজম খোকন কৌশলী ছিলেন।
ফ্লাসব্যাক ঃ গত ২০ মার্চ/১০ দিনগত গভীর রাতে মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি ইউনিয়নের হিজুলী গ্রামের নজিমউদ্দিনের বড় ছেলে ৩ সন্তানের জনক নূর ইসলাম রাতের খাওয়া শেষে বাড়ি থেকে প্রায় ৪শ’ গজ দূরে হিজুলী-দীনদত্ত ব্রিজ সড়কের পাশে বৈদ্যুতিক মোটরে ধানের জমিতে পানি সেচ দিয়ে ওই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলো। গভীর রাতে অজ্ঞাত অস্ত্রধারীরা তাকে মোটরের ঘর থেকে বের করে রাস্তার ওপর কুপিয়ে ও জবাই করে লাশ ফেলে রেখে যায়। সকালে পথচারীরা পুলিশে খরব দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। তাৎক্ষণিকভাবে হত্যার কারণ জানা না গেলেও নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী অঙ্গুরা ও এলাকাবাসীর দেয়া তথ্যমতে জানা যায়, হিজুলী গ্রামের ৯ একর সরকারি খাস খতিয়ানের জমি ও পুকুর দখলের ঘটনায় বলি হয়েছে নূর ইসলাম। ৯ একর জমির মধ্যে ৩৫ শতক জমি ছিলো নূর ইসলামদের দখলে। তা নিয়ে চলছিলো সরকারের সাথে মামলা। ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৯ টার দিকে ওই খাসজমি ও পুকুর নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে গ্রামের হাজি গ্রুপ ও দেওয়ানবাগী গ্রুপের মধ্যে। ওই রাতেই নৃশংসভাবে খুন হয় নূর ইসলাম। পরের দিন থানায় একটি এজহার দাখিল করা হয়। ঘটনার পর আলফাজ উদ্দিন আটক হওয়ার পর জানা যায় তিনি ওই গ্রামের তাহাজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোতা ইউনিয়নের গোভীপুর গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে থাকত এবং কাঠ মিস্ত্রির কাজ করতেন। মামলায় প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন মেহেরপুর থানা পুলিশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম। পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা হন এস আই কামাল। আলফাজ উদ্দিন আটক হওয়ার পর নূর ইসলাম হত্যা রহস্য পরিস্কার হতে থাকে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More