যশোরে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই হয় গডফাদারের ছত্রছায়ায়

স্টাফ রিপোর্টার: যশোরে থানার একশ’ গজের মধ্যে বোমা ফাটিয়ে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একজন গডফাদারের ছত্রছায়ায় এই অপরাধীরা থাকে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে। বুধবার বিকাল থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ চিহ্নিত অপরাধীকে আটক করা হয়। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে দুই লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা, দুইটি চাকু, ব্যাগ ও ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল। ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনাকারী আটক হলেও বাস্তবায়নকারীসহ চিহ্নিত আরও দুজনকে আটকের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক এ ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন। তিনি বলেন, অপরাধীরা একজন হোয়াইট কালার ক্রিমিনাল বা গডফাদারের ছত্রছায়ায় থাকে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পেলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

আটককৃতরা হলো যশোর শহরের পুলিশ লাইন টালিখোলা এলাকার শফি দারোগার বাড়ির ভাড়াটিয়া ফরিদপুর জেলার মুনসুর মোল্যার ছেলে টিপু (২৪), শহরের বারান্দি মোল্লাপাড়া এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে সাঈদ ইসলাম ওরফে শুভ (২৪), ধর্মতলা হ্যাচারিপাড়া এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে বিল্লাল হোসেন ওরফে ভাগনে বিল্লাল (২২), সিটি কলেজ ব্যাটারিপট্টি এলাকার নিজাম উদ্দিনের ছেলে রায়হান (২৮) ও পূর্ব বারান্দি মালোপাড়া এলাকার মুফতি আলী হুসাইনের ছেলে ইমদাদুল হক (২১)। এই টাকা লুটের ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী টিপু এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী জামাই রাজ্জাক ফকির এখনও আটক হয়নি।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর দিনে-দুপুরে থানার একশ’ গজের মধ্যে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের (ইউসিবিএল) সামনে বোমা ফাটিয়ে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ সময় ছুরিকাঘাত ও বোমার আঘাতে টাকা বহনকারী দুইজন আহত হন।

ব্রিফিংকালে পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেন বলেন, আরএন রোড এলাকার আগমনী মোটরসের মালিক ইকবাল হোসেনের মোটর পার্টস ও ফলের আড়তের ব্যবসা রয়েছে। তার ভাই এনামুল হক ফলের আড়তের ১৭ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেয়ার জন্য যাচ্ছিলেন। এই আড়তের দীর্ঘদিন শ্রমিকের কাজ করতো টিপু। মাঝে মধ্যেই এনামুল মোটরসাইকেলে করে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে যায়; বিষয়টি জানা ছিলো তার। টিপুই এই টাকা লুটের পরিকল্পনা করে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পাশের ফল ব্যবসায়ী রাজ্জাক ফকির ওরফে জামাই রাজ্জাককে সঙ্গে নেয়। জামাই রাজ্জাকই বাকি অপরাধীদের যুক্ত করে। পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেন আরও বলেন, ঘটনার সময় টিপু রাস্তার বিপরীত পাশে থেকে টাকা বহনকারী এনামুলকে সঙ্গীদের চিনিয়ে দেয়। এরপর তারা উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ককটেল ফাটিয়ে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর যশোর পুলিশ নড়েচড়ে বসে। গোয়েন্দা ও কোতোয়ালি পুলিশ অপরাধীদের শনাক্ত করে অভিযান শুরু করে। বুধবার বিকাল থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত সদরের ধর্মতলা, বসুন্দিয়া আলাদিপুর, বারান্দি মোল্লাপাড়া, সিটি কলেজ ব্যাটারিপট্টি ও পুলিশ লাইন টালিখোলায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করে।

টাকা ভাগবাটোয়ারা হয়ে যাওয়ায় এদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে দুই লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়াও ছিনতাইকালে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, একটি স্কুলব্যাগ ও দুইটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকেই হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন মামলার আসামি বলে জানিয়েছেন এসপি।

পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেন আরও জানান, পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী জামাই রাজ্জাক পিরোজপুরের কবির ফকিরের ছেলে। তার বিরুদ্ধে পিরোজপুর ও যশোরে একাধিক মামলা রয়েছে। যদিও সে ওই এলাকায় ফলের ব্যবসা করতো। এই জামাই রাজ্জাকসহ চিহ্নিত আরও দুজনকে আটকের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদের কাছেই বাকি টাকা রয়েছে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More