স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা পৌরএলাকা, সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়ন ও দামুড়হুদা উপজেলায় লকডাউন অব্যাহত রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবারও এসব এলাকায় লকডাউন পরিস্থিতি অনেকটা ঢিলেঢালা ভাব দেখা গেছে। যদিও স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার তাগিদ দেয়া হচ্ছে। তবে, লকডাউনকৃত এলাকা ঘুরে সবকিছুতেই গা ছাড়া ভাব চোখে পড়েছে। জেলার প্রবেশমুখে বাঁশের প্রতিবন্ধকতা চোখে পড়ে। এসব প্রতিবন্ধকতার পাশে কোথাও কোথাও পুলিশ সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবকদের দেখা যায়। তারপরও প্রতিবন্ধকতা তুলে লোকজন স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করতে থাকে। তবে শপিং মল ও দোকানপাঠ বন্ধ থাকতে দেখা যায়। অভ্যন্তরীণ পথে বাস বন্ধ থাকলেও সকাল থেকেই ইজিবাইক, রিকসা, ভ্যান ও শ্যালোইঞ্জিন চালিত যানবাহনগুলো অবাধে চলাচল করতে দেখা গেছে। অধিকাংশ মানুষকে মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। যেন এক প্রকার স্বাভাবিকভাবেই চলছে জীবনযাত্রা। লকডাউন উপেক্ষা করে জীবিকার তাগিদে কাজে বরে হচ্ছেন শ্রমজীবী মানুষ। লকডাউনের মধ্যেও বাইরে বের হয়েছেন রিকসা চালক হামিদুর রহমান। চুয়াডাঙ্গা শহীদ হাসান চত্বরে কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, লকডাউন হয়েছে আমি জানি। কিন্তু আমার সংসারে অনেক খরচ। কাজের জন্য না বের হলে খাব কি? সরকার থেকে যে সাহায্য দেয় তাতে কিছুই হয় না। আমাকে কিস্তির টাকাও দিতে হয়। তাই জরিমানা বা আটক করলেও আমার কিছুই করার নেই।
এদিকে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে জনসাধারণকে সচেতন করতে মাঠে কাজ করছে প্রশাসন। প্রচার প্রচারণাসহ প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাস্ক বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি অমান্যকারীদের জরিমানা করছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল মঙ্গলবার লকডাউনকৃত এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা পৌরএলাকা, সদর উপজেলার দৌলাতদিয়াড়, আলুকদিয়া ও ভালাইপুর বাজারে অভিযান চালান সদর উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে ১ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা করা হয়। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান ওই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাজে সহযোগিতা করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সার্টিফিকেট সহকারী সোবহান আলী।
এদিকে, দামুড়হুদা, জয়রামপুর কাঁঠালতলা, জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশন, দেউলী, চিৎলা, মোক্তারপুর, হাতিভাঙা, কুশাপুর এলাকায় গতকাল দিনব্যাপী অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় ১৪ জনকে ৫ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত কুমার সিংহ। এ সময় ২৭ জনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাজে সহযোগিতা করে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশের একটি দল। সকলকে মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, জনসাধারণকে সচেতনতার পাশাপাশি লকডাউনকৃত এলাকায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। স্বাস্থ্যবিধি অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় গত ১৫ জুন থেকে ১৪ দিনের জন্য লকডাউন করা হয় জেলার সীমান্তবর্তী দামুড়হুদা উপজেলা। ২০ জুন লকডাউন করা হয় চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকা ও সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়ন। ১৮ জুন থেকে ৭ দিনের বিশেষ বিধি নিষেধ জারি করা হয় জীবননগর উপজেলায়। পরে ২৩ জুন থেকে ওই উপজেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More