আওয়ামী লীগ-বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি আগামীকাল ৩০ ডিসেম্বর। ২০১৮ সালের এইদিন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে টানা তৃতীয়বারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে। নির্বাচনে বিএনপির চরম ভরাডুবি হয়। কারচুপির অভিযোগ এনে ভোটের ফল বর্জন করে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানায় দলটি। দিনটিকে আওয়ামী লীগ ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ ও বিএনপি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। কয়েকটি বামপন্থী দলও ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালন করবে। দিনটিকে কেন্দ্র বড় দু’দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণায় বছরের শেষদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তবে নির্বাচনের বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে রাজপথে কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সে ব্যাপারে সক্রিয় রাখা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। নির্বাচনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ঘিরে ইতোমধ্যে আলোচনাসভা, আনন্দ র‌্যালি, বিজয় মিছিলসহ নানা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। পাশাপাশি তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোরও নানা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকার পরিকল্পনা আছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ঘোষিত কর্মসূচি স্বাস্থ্যসুরক্ষা বিধি মেনে যথাযথভাবে পালনের জন্য দেশের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানা আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, প্রতিটি নির্বাচনের মধ্যদিয়ে গণতন্ত্র সুসংহত হয়। গণতন্ত্র অব্যাহত রাখার এই ধরাকে আমরা জণগণ ও গণতন্ত্রের বিজয় হিসেবেই মনে করি। তাই দিনটিকে আমরা ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ হিসেবে পালন করব। এ উপলক্ষে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি সারা দেশে কর্মসূচি পালন করা হবে। বুধবার সকাল ১১টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আলোচনাসভার আয়োজন করবে। একইদিন বিকেল ৩টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনাসভায় আয়োজন করবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। এসব কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
এদিকে বর্ষপূর্তি পালনে জোটগতভাবে ১৪ দল এখন পর্যন্ত কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করেনি। জানতে জাইলে জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, বর্ষপূর্তি ঘিরে আমাদের দলের কোনো কর্মসূচি নেই। জোটগতভাবে ১৪ দলেরও এখন পর্যন্ত কোনো কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।
অন্যদিকে বিএনপি দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালনে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। ওইদিন ঢাকাসহ দেশের সব মহানগর ও জেলা শহরগুলোতে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি পালন করবে দলটি। কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর যৌথভাবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সকাল ১১টায় সমাবেশ করবে। এ দিন বিএনপি নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবে। কেন্দ্রীয়সহ সারাদেশের দলীয় কার্যালয়গুলোতে উত্তোলন করা হবে কালো পতাকা। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোনো ফাঁদে পা না দিতে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে।
তবে অনুমতি ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করতে দেবে কি না তা নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। অনুমতির দোহাই দিয়ে কর্মসূচিতে বাধা এমনকি নেতাকর্মীদের আটক করা হতে পারে বলেও অনেকে আশঙ্কা করছেন। আগামীকাল ৩০ ডিসেম্বর গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালন করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি। ওইদিন ৩টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ২০১৮ সালে ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আগের রাতে ভোট ডাকাতির ও তথাকথিত একটি প্রহসনের কলঙ্কিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের মানুষ এই দিনটিকে ক্ষোভ ও ঘৃণার সঙ্গে স্মরণ করে। এই প্রহসনের নির্বাচনে বর্তমান অনির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকার, অযোগ্য নির্বাচন কমিশন ও রাষ্ট্রযন্ত্রের যোগসাজশে জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করে ক্ষমতা দখল করে। ভোটাধিকারকে হরণ করে ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রয়োজন। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দ্রুত একটি নির্বাচনের দাবি আমরা করে আসছি। এ দাবিতে আমাদের চলমান কর্মসূচি অব্যাহত আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More