আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে : নির্বাচনী খেলা খেলতে দেয়া হবে না

ফরিদপুরে বিভাগীয় গণসমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

স্টাফ রিপোর্টার: নৌকার ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ফরিদপুরে ব্যাপক শোডাউন করেছে বিএনপি। বাস ধর্মঘটসহ নানা বাধা উপেক্ষা করে শনিবার ষষ্ঠ বিভাগীয় গণসমাবেশে যোগ দেন নেতাকর্মীরা। ফরিদপুর শহরের উপকণ্ঠে কোমরপুর আব্দুল আজিজ ইনস্টিটিউটশন মাঠে গণসমাবেশে প্রধান অতিথি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার যতোদিন পুনর্বহাল না হবে ততোদিন নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। গত দুটি নির্বাচনে মানুষকে প্রবঞ্চনা করে, মিথ্যা কথা বলে, ভুল বুঝিয়ে নির্বাচন নির্বাচন খেলা করে ক্ষমতায় চলে গেছে। কিন্তু এবার মানুষ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনী খেলা খেলতে দেয়া হবে না। মার খেতে খেতে আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এখন আর পেছনে ফেরার সময় নেই, সামনে এগোতে হবে। জনগণ রুখে দাঁড়িয়েছে। আমাদের এক দফা, এক দাবি। শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে। বক্তব্যের শুরুতে ফরিদপুরের কৃতী সন্তানদের নাম উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই মাটির ইতিহাস আন্দোলন-সংগ্রামের। এ মাটিতে হাজি শরিয়ত উল্লাহ, শেখ মুজিবুর রহমান, কেএম ওবায়দুর রহমান ও চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফসহ অসংখ্য গুণী মানুষ জন্ম নিয়েছেন। তারা ব্রিটিশ ঔপনিবেশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের স্বাধীনতার লড়াই সংগ্রাম করেছেন। আজকেও ফরিদপুরের জনগণ স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের লড়াইয়ে নেমেছে।

নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়, জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং চলমান আন্দোলনে পাঁচ কর্মী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে বিভাগীয় গণসমাবেশ করছে বিএনপি। ফরিদপুর শহর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে কোমরপুর আব্দুল আজিজ ইনস্টিটিউশন মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে একাধিক বক্তা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাশাপাশি শরীয়তপুর ডামুড্যা থেকে বিগত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মিয়া নূরুদ্দিন অপুর মুক্তি দাবি করেন।

এদিকে আওয়ামী লীগের দুর্গে বিএনপির গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ক্ষমতাসীনরা শহরে মহড়া দেয়। রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় গণসমাবেশ। সমাবেশকে কেন্দ্র করে গণপরিবহণ ধর্মঘট ডাকায় কার্যত বিচ্ছিন্ন ছিল ফরিদপুর। গ্রেফতার ও তল্লাশির পরও বিভাগের পাঁচ জেলা থেকে নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দেন।

এদিকে গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। নসিমন ও ব্যাটারিচালিত রিকশার পাশাপাশি কয়েক কিলোমিটার হেঁটে অনেকে তাদের গন্তব্যে পৌঁছান। খুলনা ও বরিশালে গণসমাবেশ শেষ হওয়ার পর ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ ছিলো। কিন্তু ফরিদপুরে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ইন্টারনেট সংযোগে বিঘœ ঘটে বলে অনেকে জানান।

গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে শহরের প্রবেশমুখ ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ভোর থেকে জেলা শহর ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে খ- খ- মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হন। সেখানে আসার পথে কোথাও কোথাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাধা দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শহরের সুপার মার্কেট এলাকায় একটি মিছিলে পুলিশ বাধা দেয়। এসময় পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা পুলিশের বাধা পেরিয়ে সমাবেশস্থলে যান। এদিন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের রাজপথে দেখা যায়নি। তবে তারা সতর্ক ছিলেন। দুপুর ১২টার আগে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশের মাঠটি লোকেলোকারণ্য হয়ে যায়। একপর্যায়ে মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটারজুড়ে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে কয়েক দিন ধরে নেতাকর্মীরা মাঠে অবস্থান করায় অনেককে বেশ ক্লান্ত দেখা যায়। মাঠে প্রচ- রোদ থাকায় অনেক নেতাকর্মী আশপাশের গাছের নিচে অবস্থান করেন।

গণসমাবেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকার অর্থনীতি ও দেশের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দিয়েছে। ভোটের অধিকার হরণ করে দেশের রাজনীতি ধ্বংস করে ফেলেছে। সরকারের কথা হলো, আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোটও আমি দেব। তারা বন্দুক, পিস্তল এবং রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে আছে।’ সংবিধানের বাইরে সরকার যাবে না, তত্ত্বাবধায়কে নির্বাচন হবে না-ক্ষমতাসীনদের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে কোনো প্রশ্ন ছিলো না। এ পদ্ধতিতে চার থেকে পাঁচটি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। তারপর তারাই ওই পদ্ধতি বাতিল করে সংবিধান ধ্বংস করে দিয়েছে। ১৯৭৫ সালেও সব দল নিষিদ্ধ করে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের সম্পদ লুট হয়ে গেছে। সরকারের লোকেরা ১০ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে। মেগা প্রকল্প, বেকার ভাতা, দুস্থ ভাতা চুরি করছে। এখন আর টাকা নেই। রিজার্ভের টাকা গিলে খেয়ে ফেলছে। এমন কোনো খাত নেই যে চুরি করেনি। সব জায়গায় দুর্নীতি আর ঘুস। দেশের ৪২ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে দাবি করে তিনি বলেন, সরকার ওয়াদা অনুযায়ী কোনো প্রতিশ্রুতি রাখেনি।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তিনি (ওবায়দুল কাদের) যুবলীগের মহাসমাবেশে বলেছেন, তারা গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চান। তার একথা শুনে ঘোড়াও হাসে। এ যেন ভূতের মুখে রাম নাম। সরকারের কাছে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা কী? অন্যদের সমাবেশ করতে দেব না, এটাই হচ্ছে আওয়ামী লীগের গণতন্ত্র। গুম, খুন ও ভোটাধিকার হরণ করে তারাই গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। তিনি আরও বলেন, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতকে নিয়ে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করেছে। ১৭৩ দিন হরতাল করেছে। খালেদা জিয়া এক রাতের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংসদে পাশ করে পদত্যাগ করেছেন। ওই নির্বাচনে বিএনপি হেরে গেছে। এ হচ্ছে গণতন্ত্র। আর আওয়ামী লীগ বলে আমি ক্ষমতা ছাড়ব না। আমার সোনার হরিণ চাই-ই চাই। এটা আর হবে না। সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিরোধীদের হয়রানি করা হয়, মিথ্যা মামলা দেয়া হয়। ক্যাসিনো সম্রাট জামিন পান। কিন্তু খালেদা জিয়া জামিন পান না। যারা লুটতরাজ করেছে তারা যুবলীগের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসেছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, অগ্নিসন্ত্রাসের পুরোনো কথা সামনে এনে নতুন কৌশল নিয়েছে সরকার। অগ্নিসন্ত্রাসের হোতা তো আওয়ামী লীগ। শাহবাগে গান পাউডার দিয়ে বাসে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করেছে। লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যা করে ওয়ান-ইলেভেন এনেছে।

র‌্যাবের কর্মকা-ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আবার ক্রসফায়ার শুরু হয়েছে। কথায় কথায় এই বাহিনীকে দিয়ে নিপীড়ন চালাচ্ছে। ক্ষমতায় গেলে কী করা হবে-এ প্রসঙ্গে কিছু অঙ্গীকার করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, রাষ্ট্র মেরামত করতে বিচার বিভাগে সংস্কার করা হবে। দুর্নীতি বন্ধ করা হবে। দেশে মানবাধিকার ফিরিয়ে আনা হবে।

দুপুর ২টায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বেলা ১১টায় শুরু হয় কর্মসূচি। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এএফএম কাইয়ুম জঙ্গির সভাপতিত্বে বিএনপির ষষ্ঠ বিভাগীয় গণসমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আরও বক্তব্য দেন, ভাইস চেয়ারম্যান ব্যরিস্টার শাজাহান ওমর, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া, যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা ডা. রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, কেন্দ্রীয় নেতা তাবিথ আউয়াল, খন্দকার মাশুকুর রহমান মাশুক, সেলিমুজ্জামান সেলিম, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মাহবুবুল হাসান ভূঁইয়া পিংকু, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার, সাবেক এমপি হেলেন জেরিন খান, আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, শাহ মো. আবু জাফর, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ঈসা, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্মসম্পাদক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, জাসাসের হেলাল খান, ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ, ওলামা দলের শাহ মো. নেছারুল হক, তাঁতীদলের আবুল কালাম আজাদ, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আফজাল হোসেন খান পলাশ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন জুয়েল, জেলা যুবদলের সভাপতি রাজিব হোসেন প্রমুখ। পর্যায়ক্রমে সভা সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একেএম কিবরিয়া স্বপন, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজ।

বিএনপির সমাবেশে বাধা প্রসঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন তুলে ধরে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমাবেশে বাধা দিলে সরকারের জনসমর্থন কমে। সরকারের তো জনসমর্থনই নেই। জনসমর্থন থাকলে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিত। তিনি বলেন, সরকার জলে-স্থলে, আকাশে-বাতাসে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। ফরিদপুরের জনগণও সরকারকে দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ফরিদপুরের জনগণ সরকারকে বার্তা দিয়েছে-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। ফরিদপুর এখন বিএনপির দুর্গ।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিগত নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেন, সামনে আন্দোলন-সংগ্রামের লড়াইয়ে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। গণতন্ত্র লড়াইয়ের যুদ্ধ তরুণদের করতে হবে। এ লড়াইয়ে আমি আপনাদের সঙ্গে রাজপথে থাকব।

সমাবেশস্থলে প্রবেশপথের প্রায় আধা কিলোমিটার আগে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের রাজবাড়ী মোড়ে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। কোনো ধরনের যান প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। অবশ্য, দুপুরের পর ওই সড়ক যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হলে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও তিন চাকার গাড়িতে যানজট সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা বলেন, গত কয়েকদিন নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সমাবেশস্থলের আশপাশের এলাকায় প্রাণচাঞ্চল্য থাকলেও গতকাল ছিলো অনেকটা ছন্নছাড়া। অনেকে সমাবেশ শেষ হওয়ার আগেই মাঠ ছাড়েন। পুরো সমাবেশকে ঘিরে আয়োজকদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা চোখে পড়ে। জেলা ও মহানগরে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই এ সমন্বয়হীনতা দেখা দেয় বলে জানান তারা।

গণপরিবহণ বন্ধে যাত্রীদের দুর্ভোগ : ফরিদপুরে বিএনপির গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে বাস ধর্মঘটে শনিবারও চরম ভোগান্তির শিকার হন যাত্রীরা। অনেকে জরুরি প্রয়োজনে ঢাকা বা আশপাশের জেলায় যেতে পারেননি। অন্য জেলা থেকেও ফরিদপুরে যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের। অনেকে বাস স্টেশন থেকে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। কেউ কেউ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভটভটিতে ভেঙে ভেঙে গন্তব্যে যান।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More