আর্থিক সংকটে আপাতত ইভিএম প্রকল্প বাতিল : অধিকাংশ আসনে ভোট হবে ব্যালটে

নির্বাচন কমিশনের হাতে যে ইভিএম ও স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স আছে : তা দিয়েই আগামী নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি

স্টাফ রিপোর্টার: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দুই লাখ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনার প্রকল্প পাশ করছে না সরকার। অর্থনৈতিক সংকটের কথা জানিয়ে সরকার এ সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দিয়েছে। ফলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫০ আসনে ইভিএম ব্যবহার করে ভোটগ্রহণের যে সিদ্ধান্ত ছিল, তা থেকে সরে এসেছে ইসি। তবে ইসির হাতে যে সংখ্যক সচল ইভিএম রয়েছে, সেগুলো আগামী নির্বাচনে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। এতে ৫০-৬০ আসনে এ মেশিনে ভোটগ্রহণ সম্ভব হতে পারে। সোমবার দুপুর ১টায় নির্বাচন ভবনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে ইসি সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম ইভিএমের প্রকল্প পাশ না করার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানান। যদিও এর আগে বেলা ১১টার দিকে নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ইভিএম প্রস্তাবের বিষয়ে কোনো আপডেট আমরা জানি না। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির বৈঠকও হয়নি। এজন্য আমরা তো অনির্দিষ্টকাল বসে থাকতে পারি না। তিনি বলেন, আমাদের কাছে যত ইভিএম আছে, সেগুলো দেখে সিদ্ধান্ত নেব যে কত আসনে ইভিএমে ভোট হবে।

ইসি সূত্র জানায়, ইভিএম প্রকল্প পাশ হচ্ছে না জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। ওই চিঠি পাওয়ার পর সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের রুমে নির্বাচন কমিশনাররা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। ওই বৈঠকের পর ইসি সচিব জরুরি এ সংবাদ সম্মেলন করে ইসির অবস্থান জানান। এ প্রকল্প পাস না হওয়ায় ১৫০ আসনে ইভিএম ব্যবহারে ইসির সিদ্ধান্ত হোঁচট খেল। তবে পুরোনো ইভিএম মেশিন ব্যবহারে ইসির সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত অক্টোবরে ৮ হাজার ৭১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ লাখ ইভিএম কিনতে একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছিল ইসি। ওই প্রকল্পটি আপাতত পাশ হচ্ছে না জানিয়ে ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম বলেন, ‘নির্বাচনিব্যবস্থায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহার বৃদ্ধি এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রকল্প বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যালোচনা করে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সরকারের সামর্থ্য বিবেচনায় আপাতত প্রক্রিয়াকরণ না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অর্থাৎ এই মুহূর্তে এটা রান করবে না। পরে হয়তো রান করবে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আমি সরকারের বার্তা আপনাদের (গণমাধ্যম) জানিয়েছি। সরকারের সিদ্ধান্ত কমিশনকেও অবহিত করেছি। প্রকল্প পাশ না হওয়ায় কমিশন হতাশ কি না, তা কমিশনই বলতে পারবে বলেও জানান ইসি সচিব। আর্থিক সক্ষমতা থাকলে ভবিষ্যতে ইভিএম কেনার প্রকল্প আবারও নেওয়া হতে পারে বলে জানান ইসি সচিব। তিনি বলেন, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে হবে কি হবে না, সেটা কমিশন বলতে পারবে।

আগামী নির্বাচনে কত আসনে ইভিএম ব্যবহার হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে কমিশনের আগের সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নির্বাচন কমিশন তার রোডম্যাপে বলেছিল যদি নতুন ইভিএম কিনতে পারে তাহলে সর্বোচ্চ ১৫০টি আসনে ইভিএমে ভোট হবে। নতুন ইভিএম না পেলে বিদ্যমান ইভিএম দিয়ে যত আসনে ভোট করা সম্ভব, সেটা করা হবে। সেই সিদ্ধান্ত এখনো বহাল আছে। পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলো কমিশন জানিয়ে দেবে। তিনি বলেন, আগেই বলা হয়েছে, আমাদের হাতে যত ইভিএম আছে, তা নির্বাচনে ব্যবহার করা হবে। সেক্ষেত্রে ৫০টা হতে পারে, ৬০টা হতে পারে বা ৭০টা হতে পারে। কোয়ালিটি চেক করে বলতে পারব বাস্তবে কতটিতে ইভিএম করা যাবে। তিনি জানান, ইসির কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার ইভিএম মেশিন আছে। এর মধ্যে কিছু হয়তো সচল নাও থাকতে পারে। সেগুলোর গুণগত অবস্থা যাচাই করে তা নিয়ে নির্বাচন করা হবে।

সূত্র জানায়, ইভিএম প্রকল্প পাশ হওয়া নিয়ে তোড়জোড় চালালেও বিকল্প হিসাবে নির্বাচন কমিশনের হাতে যে ইভিএম ও স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স আছে, তা দিয়েই আগামী নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি সচিবালয়। ইতোমধ্যে সারা দেশে তিন লাখের কিছু বেশি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহারের উপযোগী বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০১৮ সালে কেনা ইভিএমগুলো ব্যবহারের উপযোগী কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইভিএম ও ব্যালট-দুই প্রক্রিয়ায় ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণও দেয়া হচ্ছে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More