ইসি নিয়োগ নিয়ে কেন এই বিতর্ক : সব মহলে চলছে আলোচনা

বিএনপি বলেছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন না হলে তীব্র আন্দোলন করা হবে
আ.লীগ বলেছে সার্চ কমিটি গঠন করে দুই দফায় নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার: নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সব মহলে চলছে আলোচনা। চলছে নানা বিতর্ক। বিএনপি বলেছে, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন না হলে তীব্র আন্দোলন করা হবে। এ দাবি নিয়ে তারা সরকারবিরোধী দলগুলোকে এক প্ল্যাটফরমে আনার প্রয়াস চালাবে বলেও ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে দেশের ৫৩ বিশিষ্ট নাগরিক গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য এখনই আইন প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছেন। সরকারি দল আওয়ামী লীগ বলেছে, সার্চ কমিটি গঠন করে ইতিমধ্যে দুই দফায় নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। দুই দফায় যেভাবে সার্চ কমিটি করা হয়েছে এবারও সেভাবেই নতুন কমিশন গঠন করা হবে। আওয়ামী লীগের কথা-সার্চ কমিটিও একটি আইনি প্রক্রিয়া। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা কমিশনের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এর পরই নতুন কমিশন গঠিত হবে। আর নতুন কমিশনের ওপরই বর্তাবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ কারণেই নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়োগ নিয়ে আলোচনা সর্বত্র। সবার দৃষ্টি এখন সেদিকে। ইসি গঠন নিয়ে যখন চারদিকে আলোচনা তখন সিইসি কেএম নূরুল হুদা সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন হওয়া উচিৎ বলে মন্তব্য করেন। গতকাল কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। সিইসি জোর দিয়ে বলেন, অবশ্যই পরবর্তী কমিশন ঐকমত্যের ভিত্তিতে হওয়া উচিৎ। নতুন কমিশন যেন সবার সমর্থনযোগ্য হয়। কমিশন গঠনে আইন প্রণয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইন তো তৈরি করে সংসদ। আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমাদের আইনগুলো হয়। অবশ্য দেশের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের আশায় গ্রহণযোগ্য ইসি চান। প্রশ্ন হলো- স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরেও দেশে ইসি গঠনে কেন কোনো আইন প্রণয়ন হলো না? রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো এ পর্যন্ত কেন ইসি গঠনে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়নি? এক্ষেত্রে বিএনপি কি জবাব দেবে? তারাও তো দেশ স্বাধীনের পর একাধিকবার ক্ষমতায় ছিল। তারা কেন সংবিধানের নির্দেশনা মোতাবেক ইসি গঠনে আইন প্রণয়নে উদ্যোগ নেয়নি?
১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের (অতঃপর মূল সংবিধান হিসাবে উল্লিখিত) ১১৮ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে এবং রাষ্ট্রপতি সময়ে সময়ে যেরূপ নির্দেশ করবেন, সেরূপ সংখ্যক অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকবে এবং এ বিষয়ে প্রণীত কোনো আইনের বিধানাবলী-সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগদান করবেন। ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারের সংখ্যা অনধিক চারে নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে তিনটি রাজনৈতিক দল-আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি সরকার পরিচালনা করেছে। আওয়ামী লীগ দু’দশকের বেশি সময় দেশ শাসন করেছে এবং দলটি বর্তমানেও রাষ্ট্রক্ষমতায়। বিএনপি একযুগের বেশি সময় দেশ শাসন করেছে। প্রেসিডেন্ট এরশাদ নয় বছর দেশ শাসন করেছেন। এ তিনটি দলের কোনোটিই সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী ইসি গঠনে আইন প্রণয়নে উদ্যোগী হয়নি। এ পর্যন্ত ১৩ জন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে ইসি গঠিত হয়েছে। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগের শাসনামলে প্রথম ইসি গঠিত হয় বিচারপতি মো. ইদ্রিসের নেতৃত্বে। ১৯৭৭ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে বিচারপতি একেএম নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে এবং ১৯৮৫ সালে হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের আমলে বিচারপতি চৌধুরী এটিএম মাসুদের নেতৃত্বে গঠিত হয় ইসি। এ সময়ে সকল নির্বাচন নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে গণআন্দোলনের মুখে এরশাদ সরকারের পতন হলে ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে সিইসি ছিলেন বিচারপতি আবদুর রউফ। এ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হিসেবে দেশে-বিদেশে স্বীকৃতি পেলেও তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ এ নির্বাচনে সূক্ষ্ম কারচুপির অভিযোগ আনে। ওই সরকারের আমলে মাগুরা উপনির্বাচনে অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনের মুখে ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি ষষ্ঠ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়। বিচারপতি একেএম সাদেকের নেতৃত্বাধীন ইসি’র পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে বিএনপি ছাড়া বড় কোনো রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি। নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি বিরোধী দলগুলোর দাবি পূরণে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রবর্তন করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। এরপর সংসদ বিলুপ্ত ঘোষিত হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সাবেক সচিব মোহাম্মদ আবু হেনার নেতৃত্বাধীন ইসি’র পরিচালনায় ১৯৯৬ সালের ১২ই জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষতার জন্য এ নির্বাচনও প্রশংসিত হয়। কিন্তু বিএনপি নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ আনে। আবু হেনার নেতৃত্বাধীন ইসি’র মেয়াদ শেষ হলে আওয়ামী লীগ সরকার সাবেক সচিব এমএ সাঈদের নেতৃত্বে ইসি গঠন করে। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এ ইসি’র পরিচালনায় ২০০১ সালের ১লা অক্টোবর অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট জয়লাভ করে। কিন্তু আওয়ামী লীগ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ আনে। এমএ সাঈদের নেতৃত্বাধীন ইসি’র মেয়াদ শেষ হলে বিএনপি সরকার ২০০৫ সালের মে মাসে বিচারপতি এমএ আজিজের নেতৃত্বে ছয় সদস্যবিশিষ্ট ইসি গঠন করে। যা ছিল দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ইসি। বিচারপতি আজিজ এবং একাধিক নির্বাচন কমিশনার বিএনপিপন্থি বলে অভিযোগ ওঠে। মেয়াদ শেষের আগে বিএনপি সরকার সংবিধান মোতাবেক নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের পদক্ষেপ না নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের সর্বশেষ পন্থা হিসেবে তাদের মনোনীত রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমদকে নিজ দায়িত্বসহ প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে। প্রধান বিরোধী দল ও অন্যসব বিরোধী দল এ ব্যবস্থা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টা নিজ নিজ পদে ইস্তফা দিলে ২০০৭ সালের ১১ই জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত হয় সেনা-সমর্থিত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিচারপতি এমএ আজিজের নেতৃত্বাধীন ইসি পদত্যাগ করলে সাবেক সচিব ড. এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বে ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন ইসি গঠিত হয়। এ ইসি’র পরিচালনায় ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নবম সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। মহাজোট সরকারের আমলে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি সার্চ কমিটির সুপারিশের আলোকে সাবেক সচিব কাজী রকিব উদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত হয় পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট ইসি। এ কমিশন আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। কাজী রকিব উদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত ইসি’র মেয়াদ শেষে সার্চ কমিটির সুপারিশের আলোকে কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্বে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে গঠিত হয় বর্তমান ইসি। যার মেয়াদ আগামী ফেব্রুয়ারিতে শেষ হবে। এ ইসি পরিচালিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন এবং বিশেষত একাদশ সাধারণ নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
সংবিধানের নির্দেশনা মোতাবেক ইসি নিয়োগে কোনো আইন প্রণয়ন না হওয়ায় সরকারগুলো তাদের দলীয় ভাবধারায় বিশ্বাসী ব্যক্তিদের নিয়ে ইসি গঠন করেছে। তাছাড়া, ক্ষমতাসীন কোনো দলের অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে সে দলের পরাজিত হওয়ার নজিরও দেশে নেই। আর ইসি নিয়োগে সুপারিশ প্রদানের জন্য সার্চ কমিটি গঠনের যে ব্যবস্থা বর্তমান ইসি ও তার আগের ইসি নিয়োগের সময় নেয়া হয়েছে, তা ইসি নিয়োগে সংবিধান নির্দেশিত আইন প্রণয়নের দাবিকে এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল বলেই মনে করে বিশেষজ্ঞরা। সার্চ কমিটি যে সরকারের পছন্দসই ব্যক্তিদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করবে, তা বলাই বাহুল্য। কারণ সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে এসব পদে নিয়োগদানে কোনো ক্ষমতা দেয়নি। তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগদানে সাংবিধানিকভাবে বাধ্য।
এমতাবস্থায়, সবার আগে দরকার ইসি গঠনে সংবিধান নির্দেশিত আইন প্রণয়ন। যা দেশের ৫৩ বিশিষ্ট নাগরিক গত ২৫শে সেপ্টেম্বর এক বিবৃতির মাধ্যমে দাবি তুলেছেন। বিবৃতিতে তারা বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৮ (১) অনুচ্ছেদে বলা আছে যে, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকিবে এবং উক্ত বিষয়ে প্রণীত কোনো আইনের বিধানাবলী-সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগদান করিবেন।’ সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে ‘আইনের বিধানাবলী-সাপেক্ষে’ নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ প্রদানের নির্দেশনা থাকলেও, গত ৫০ বছরে কোনো সরকারই এমন একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। গত দুটি নির্বাচন কমিশন নিয়োগের আগে মহামান্য রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে দুটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেন। এডহক ভিত্তিতে সৃষ্ট ওই দুটি অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশে গঠিত রকিব উদ্দীন কমিশন ও নুরুল হুদা কমিশন তাদের চরম পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের মাধ্যমে আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে, যার ফলে জনগণের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের ওপর ব্যাপক অনাস্থা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে তীব্র শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান নুরুল হুদা কমিশনের মেয়াদ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ হবে, তাই নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠনের উদ্যোগ এখনই শুরু করতে হবে, যার প্রাথমিক পদক্ষেপ হবে সাংবিধানিক নির্দেশনা অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের লক্ষ্যে একটি আইন প্রণয়ন করা। এ ব্যাপারে অনতিবিলম্বে উদ্যোগ নেয়ার জন্য আমরা সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি, যাতে নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে ও সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত থেকে নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে সব ধরনের আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।
এ বিবৃতির পরই আওয়ামী লীগ নেতারা সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদটিতে বিভিন্ন শব্দ ও টার্মের ব্যাখ্যা করেছেন। ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘আইন’ অর্থ কোনো আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন, বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য আইনগত দলিল এবং বাংলাদেশে আইনি ক্ষমতাসম্পন্ন যেকোনো প্রথা বা রীতি। এখানে ‘বিজ্ঞপ্তি’ কে আইন বলা হয়েছে। সার্চ কমিটিও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হয়। এ কারণে এই বিজ্ঞপ্তিই আইন, এমনটাই বলছেন ক্ষমতাসীন নেতারা। আওয়ামী লীগ নেতারা আরও বলেন, সার্চ কমিটি গঠন করে ইতিমধ্যে দুই দফায় নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। দুই দফায় যেভাবে সার্চ কমিটি করা হয়েছে এবারও সেভাবেই নতুন কমিশন গঠন করা হবে। এখন প্রশ্ন হলো- কেন ক্ষমতাসীনরা ইসি গঠনে আইন প্রণয়ণ করতে অনীহা দেখায়। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পার হওয়ার পরও এ আইন না হওয়াই অনীহার বিষয়টি স্পষ্ট। বিশেষজ্ঞদের মত হলো- আইন করে ইসি নিয়োগ হলে সে ইসি হবে স্বাধীন। আইন অনুযায়ী তারা চলতে বাধ্য হবে। বর্তমানে যে প্রক্রিয়ায় ইসি গঠিত হচ্ছে তাতে সরকারি দলের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটছে। আর এতে করেই এত বিতর্ক।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More