একদিন আগেই জনতার ঢল : ধর্মঘটের মধ্যেই সিলেটে সমাবেশ আজ

মোটরসাইকেল নৌকায় ও হেঁটে গেলেন নেতাকর্মীরা : পথে পথে বাধা পুলিশি তল্লাশি

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটে বিএনপির সমাবেশ আজ। সব ধরনের পরিবহন ধর্মঘটের মধ্যেও একদিন আগেই সমাবেশস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। সিলেট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী এসে জড়ো হয়েছেন সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে। সেখানেই রাত্রিযাপন করছেন তারা। দলের পক্ষ থেকে সেখানে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মহাসমাবেশে যোগ দিতে মোটরসাইকেল, নৌকায় ও হেঁটে আসতে দেখা গেছে নেতা-কর্মীদের। তবে পথে পথে প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। এদিকে পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জের মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। গণসমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সমাবেশস্থলে দেখা যায়, নেতা-কর্মীদের মিছিল আর স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছে। থাকা-খাওয়ায় কিছুটা কষ্ট হলেও সবার মাঝে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসবের আমেজ। অনেক নেতা-কর্মী ঢোল-বাদ্য বাজিয়ে নেচে-গেয়ে আনন্দ করছেন। অনেকে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সরকারের অত্যাচার-নির্যাতন নিয়ে খোশগল্পে মেতে ওঠেন।

মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, নেতা-কর্মীরা মিছিল, স্লোগানে মুখর করে তুলেছেন পুরো এলাকা। দলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বিভাগের হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার থেকে রাতেই বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী মোটরসাইকেল, নৌকায় ও হেঁটে এসেছেন। এর একটি অংশ সমাবেশস্থলে এসেছেন, বাকিদের সিলেট শহর ও আশপাশে রাখা হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সহসভাপতি নুরুল ইসলাম সাজু বলেন, তিনদিন আগে থেকেই তারা এখানে অবস্থান করছেন। কেউ হোটেলে কেউ বা বাসায়। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, শুক্রবার রাতের মধ্যেই সিলেট নগর জনসমুদ্রে পরিণত হয়ে গেছে। এই বিভাগীয় গণসমাবেশের প্রধান সমন্বয়কারী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, সিলেটের ইতিহাসে এত বড় সমাবেশ আর কখনো হয়নি- এমন প্রস্তুতি তারা নিয়েছেন। হবিগঞ্জের বানিয়াচর থেকে আসা ষাটোর্ধ কৃষক এওর মিয়া বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে তারা দিশাহারা। তাদের জীবন আর চলে না। কৃষির জন্য সারের দামও বাড়ানো হয়েছে। ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। এভাবে তারা আর চলতে পারেন না বলে ক্ষোভে এই সমাবেশে এসেছেন। এখন তিনি পরিবর্তন চান। মৌলভীবাজার পৌর কৃষক দলের সদস্য সচিব মোনাহিস কবির জানান, পথে পথে প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বাধা দিয়েছেন, হামলা করেছেন। এদিকে গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে সিলেটের বিভিন্ন সড়কে পুলিশি তল্লাশি শুরু হয়েছে। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতা-কর্মীরা বাসে করে সমাবেশে আসার চেষ্টা করেছিলেন। রাস্তায় তাদের বাস আটকে দেয়া হয়েছে। সিলেট জেলা বিএনপি নেতা ফয়সল আহমদ চৌধুরী বলেন, গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশ বাস আটকে তল্লাশি করে। এ সময় সমাবেশে আসার জন্য ভাড়া করা বাসগুলো আটকে নেতা-কর্মীদের নামিয়ে দেয় পুলিশ। সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার নিশারুল আরিফ বলেন, বিএনপির সমাবেশ ঘিরে যাতে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা না ঘটে সেজন্য পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। শহরের ১৯টি পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। কেউ কোনো ধরনের নাশকতা কিংবা মানুষের জানমালের ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করলে পুলিশ তা শক্ত হাতে প্রতিহত করবে। ধর্মঘটে ভোগান্তি : পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সিলেট থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার জন্য যাত্রীদের টার্মিনালে গিয়ে ফেরত আসতে হয়। এ ছাড়া হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জের মানুষ ধর্মঘটের কারণে দিনভর ভোগান্তির শিকার হন। নৌপথে সিলেটমুখী স্রোত : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, মধ্যনগর, ধর্মপাশা ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার হাওর এলাকা থেকে শতাধিক ইঞ্জিন নৌকায় বিএনপির হাজারো নেতা-কর্মী নৌপথে রওনা দিয়েছেন। জেলা বিএনপির সহ সভাপতি আনিসুল হক বলেন, হাওর এলাকা থেকে নৌকায় এবং সড়কপথে মোটরসাইকেলে হাজার হাজার নেতা-কর্মী দুইদিন আগেই রওনা দিয়েছেন। সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জ থেকে কয়েক হাজার মোটরসাইকেল নিয়ে সিলেটের বিভাগীয় গণসমাবেশে গিয়েছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। তবে গণসমাবেশে যেতে ইচ্ছুক নেতা-কর্মীদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানাভাবে হয়রানির অভিযোগ করেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা। হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জের সব অভ্যন্তরীণ সড়কে বাস চলাচল বন্ধ। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন জেলার গ্রামগঞ্জ থেকে আসা সাধারণ যাত্রীরা। মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারে পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন। সিলেটে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে এটি সরকারের চক্রান্ত বলে জানায় মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More