করোনায় মারা গেলেন আরও ১০১ জন : শনাক্ত ২ হাজার ৯২২ জন

স্টাফ রিপোর্টার: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে এক দিনে আবারও শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেছে ১০১ জনের। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১১ হাজার ৫৩ জনে। করোনা সংক্রমণের বিস্তার রোধে কঠোর লকডাউনের মধ্যেই ১৫ এপ্রিল দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ১০ হাজারের মাইলফলক পেরিয়েছিলো। তার সঙ্গে আরও এক হাজার নাম যুক্ত হতে সময় লাগল মাত্র ১০ দিন। মৃত্যুর সঙ্গে বেড়েছে শনাক্তও। এক দিনে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ২ হাজার ৯২২ জন। সবমিলিয়ে দেশে করোনায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৩২২ জন হলো। সরকারি হিসাবে আক্রান্তদের মধ্যে আরও ৪ হাজার ৩০১ জন গত এক দিনে সুস্থ হয়েছেন। সবমিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৬ লাখ ৫৭ হাজার ৪৫২ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রোববার এ তথ্য জানানো হয়েছে। করোনা শনাক্তের পর গত বছর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যু হয়। এর মধ্যে ১৯ এপ্রিল রেকর্ড ১১২ জনের মৃত্যু হয়েছিলো। ১৬ থেকে ১৯ এপ্রিল চার দিন দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা ছিলো একশর বেশি। এরপর তা কিছুটা কমে নব্বইয়ের নিচে নেমে এলেও পাঁচ দিন পর ফের একশ ছাড়ালো দৈনিক মৃত্যু।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথম মৃত্যুর আড়াই মাস পর গত বছরের ১০ জুন মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছিলো। এরপর ৫ জুলাই ২ হাজার, ২৮ জুলাই ৩ হাজার, ২৫ আগস্ট ৪ হাজার, ২২ সেপ্টেম্বর ৫ হাজার ছাড়ায় মৃতের সংখ্যা। এরপর কমে আসে মৃত্যু। ৪ নভেম্বর ৬ হাজার, ১২ ডিসেম্বর ৭ হাজারের ঘর ছাড়ায় মৃত্যু। এ বছরের ২৩ জানুয়ারি ৮ হাজার এবং ৩১ মার্চ মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়ায়। সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর ১৫ দিনেই এক হাজার কোভিড-১৯ রোগীর মৃত্যু ঘটে, ১৫ এপ্রিল মৃতের মোট সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর পরের এক হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটাতে আরও কম, মাত্র দশ দিন সময় নিল করোনাভাইরাস। এ ভাইরাসে এর আগে এত দ্রুত এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়নি দেশে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৩৫০টি ল্যাবে ২১ হাজার ৯২২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৫৩ লাখ ৪৫ হাজার ৮টি নমুনা। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৯ লাখ ৫৭ হাজার ৪৫৪টি। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হয়েছে ১৩ লাখ ৮৮ হাজার ৪৭টি। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৮ দশমিক ২১ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
এক দিনে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ৫২ জন পুরুষ আর নারী ৪৯ জন। তাদের ৬৯ জন সরকারি হাসপাতালে, ৩২ জন বেসরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ৬৫ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ১৮ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছর, ১১ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছর, তিনজনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছর, তিনজনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছর এবং একজনের বয়স ১০ বছরের কম ছিল। মৃতদের মধ্যে ৫৪ জন ঢাকা বিভাগের, ২৩ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, একজন রাজশাহী বিভাগের, পাঁচজন খুলনা বিভাগের, সাতজন বরিশাল বিভাগের, আটজন সিলেট বিভাগের, দুজন রংপুর বিভাগের এবং একজন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ১০ হাজার ৮৬৯ জনের মধ্যে আট হাজার ১২০ জনই পুরুষ এবং দুই হাজার ৯৩৩ জন নারী।

 

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More