ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবেলায় সরকারের ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ

সমুদ্রবন্দরগুলোতে আজ ২ কাল ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত

স্টাফ রিপোর্টার: পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট বিশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি ঘনীভূত হয়ে প্রথমে নি¤œচাপ এবং পরে গভীর নি¤œচাপে পরিণত হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত রূপ লাভ করতে পারে ‘ইয়াস’ নামের ঘূর্ণিঝড়ে। তীব্রতা বিবেচনায় এটি পরিণত হতে পারে সুপার সাইক্লোনেও। এমন পরিস্থিতি হলে ২৬ মে বিকেলের দিকে বাংলাদেশ-ভারতের উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ইতোমধ্যে সমুদ্রবন্দরগুলোয় বাতাসের দাপট বেড়েছে। এ কারণে দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরেই এক নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আজ রোববার ২ নম্বর ও কাল সোমবার চার নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হতে পারে। শনিবার সচিবালয়ে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির জরুরি সভায় এ কথা জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আবহাওয়া অধিদফতর রোববার দুই নম্বর সতর্ক সংকেত দেবে। আর ২৪ মে (সোমবার) চার নম্বর সতর্ক সংকেত দেয়া হবে। পাশাপাশি গভীর সাগরে অবস্থান করছে এমন নৌযান, বিশেষ করে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে আজকের মধ্যে উপকূলে ফিরে আসতে বলেছে আবহাওয়া বিভাগ (বিএমডি)। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। শনিবার এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ইয়াস সুপার সাইক্লোনে পরিণত হতে পারে। এ ব্যাপারে উপকূলবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। নিম্নচাপটি ২৩ বা ২৪ মে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে উপকূলের দিকে অগ্রসর হবে।’ শতভাগ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে এনে মৃত্যুহার শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা হবে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জোর করে ধরে নিয়ে এসেও যদি কাউকে বাঁচানো যায়, সেটা ভালো। প্রয়োজনে চ্যাংদোলা করে নিয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রীও তাই বলেছেন। যেমন করেই হোক সবাইকে শেল্টারে আনতে হবে, একজনকেও রেখে আসা যাবে না।’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ফণি, বুলবুল, আম্ফান মোকাবিলা করেছি। মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। আমি বিশ্বাস করি অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে এবারও ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারব। শতভাগ মানুষকে শেল্টার সেন্টারে নিয়ে মৃত্যুর হার শূন্যের কোটায় নিয়ে যাব।’ যারা আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করেন তাদের মধ্য থেকেই বেশি মারা যায় উল্লেখ করে এনামুর রহমান বলেন, ‘সবাইকে শেল্টারের ভেতর রাখতে হবে, তাই মৃত্যুহার জিরো হবে। এবার আমরা টার্গেট রাখবো মৃত্যুহার যেন জিরো হয়।’ পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি পরবর্তী সময়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে ভারত হয়ে বাংলাদেশের খুলনা উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এর নাম হবে ‘ইয়াস’। সভার শুরুতে আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এটি এখনও হাজার কিলোমিটার দূরে রয়েছে। তাই এক নম্বর দূরবর্তী সংকেত দেয়া হয়েছে। নিম্নচাপ হওয়ার পর ধীরে ধীরে উপকূলের দিকে এলে পরবর্তীতে সংকেত বাড়ানো হবে।’ ঘূর্ণিঝড়ের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) জানিয়েছে, তাদের সব সদস্যদের এর মধ্যে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা প্রচারণা শুরু করেছে। সাইক্লোন শেল্টারগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করছে। কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমে প্রচারণা করছে। ফায়ার সার্ভিসও প্রস্তুত রয়েছে। স্কাউটের ৬ লাখ স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। শুকনা খাবার মজুত রয়েছে। রোববার থেকে বিভিন্ন জেলায় এসব খাবার পাঠিয়ে দেয়া হবে।’ এনামুর রহমান আরও বলেন, ‘এর আগে ১৪ হাজার ৬৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে দুর্গত লোকদের রাখা হয়েছে। করোনার কারণে আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হবে। তিনগুণ আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবহার করবো। আশ্রয়কেন্দ্রে আগতদের মাস্ক, স্যানিটাইজার দেয়া হবে। করোনা রোগী পাওয়া গেলে তাদের আলাদা রুমে রাখা হবে।’
এদিকে, সৃষ্টি হতে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’-এর কারণে বঙ্গোপসাগরে সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে আজ রোববারের মধ্যে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে ঘূর্ণিঝড় সতর্কবার্তায় এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। সতর্কবার্তায় বলা হয়, উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। পরবর্তীতে এটি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২৬ মে নাগাদ উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশের খুলনা উপকূলে আঘাত হানতে পারে। আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, বাংলাদেশ-ভারতের দিকে ধেয়ে আসতে যাওয়া এই ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয়েছে ইয়াস (ণধংং)। এর নামকরণ করেছে ওমান।

 

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More