চীনা টিকা কেনার চুক্তি সম্পন্ন আসছে উপহারের ৬ লাখ

স্টাফ রিপোর্টার: সিনোফার্মের টিকা কিনতে চীনের সঙ্গে ক্রয় চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এ ছাড়া চীন থেকে উপহার হিসেবে আসছে আরও ৬ লাখ ডোজ টিকা। এর আগে চীন আরও ৫ লাখ ডোজ টিকা উপহার দিয়েছে।
করোনায় প্রাণ হারানো জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহমুদ মনোয়ারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল আয়োজিত শোক সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্য সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল বাসার খুরশীদ আলমসহ সংশ্লিষ্টরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
গতকাল আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দুটি ‘সি ১৩০জে’ পরিবহন বিমান করোনাভাইরাসের টিকা আনার জন্য রাতে (গতকাল) চীনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এর আগে টিকার দাম প্রকাশ হওয়ায় আমাদের সমস্যা হয়েছে। এ জন্য চুক্তি অনুযায়ী কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে। ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর গত ২৯ এপ্রিল দেশে সিনোফার্মের টিকা জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা রপ্তানি স্থগিত করলে এই সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। এরপর গত ২৯ মে অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় সিনোফার্মের কাছ থেকে টিকা কেনার এ সিদ্ধান্ত হয়।
অনুষ্ঠানে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনের কড়া সমালোচনা করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, স্বাস্থ্য খাত নিয়ে মিথ্যাচার করেছে দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। টিআইবির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা প্রতিরোধের কার্যক্রমে রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা, লকডাউন, টিকা ক্রয় ও বিতরণে স্বচ্ছতা, সুশাসন এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় ছিল না। গত মঙ্গলবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে করোনা মোকাবিলায় ১৯টি সুপারিশ তুলে ধরে টিআইবি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে টিআইবি একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে। এটা খুবই দুঃখজনক। করোনা প্রতিরোধে বিশ্বের সব দেশ বা সংস্থা প্রশংসা করেছে বাংলাদেশকে। বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা বাংলাদেশকে প্রশংসা করেছেন। টিআইবি ঘরে বসে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। আমরা করোনা শনাক্ত করতে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করিনি- এমন মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়েছে। অথচ করোনা শনাক্তে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’ দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘তারা (টিআইবি) বলছে, আমরা কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা করিনি করোনা রোগীদের জন্য। অথচ সারা দেশে ১৫ হাজার বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে শুধু করোনা রোগের চিকিৎসার জন্য। যে কারণে ভারতের মতো এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এখনো অনেক দেশ যথাযথভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন করতে পারেনি। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো লকডাউন চলমান।’
টিকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অস্বচ্ছতার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমরা টিকা নিয়ে স্পষ্ট চুক্তি করে টিকা ক্রয় করেছি। আমাদের টিকা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ছিল। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে করোনার সামনের সারির যোদ্ধাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেয়া হয়েছে।’

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More