ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশে কর্মীদের প্রতি বিএনপি নেতারা

সরকার পতনে ‘এক দফা’ আন্দোলনের প্রস্তুতি নিন

স্টাফ রিপোর্টার: সরকার হটাতে ‘এক দফা’ আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে কর্মী-সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। তারা বলেছেন, পৌরসভা-সিটি নির্বাচনে ভোট ডাকাতি হয়েছে। বর্তমান সরকারকে আর কোনো নির্বাচনের সুযোগ দেয়া হবে না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এক দফার আন্দোলনে শরিক হতে হবে। আর সরকারের পতন ঘটিয়ে নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে তারা এসব কথা বলেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বীর-উত্তম খেতাব বাতিলের উদ্যোগের প্রতিবাদে সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ। সমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণসহ আশপাশের এলাকায় পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। পুরানা পল্টন মোড়, আবদুল গণি সড়ক, কদম ফোয়ারা ও সেগুনবাগিচা এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে চলাচল সীমিত করা হয়। এমন উপস্থিতির মধ্যেও সমাবেশে অনেক নেতাকর্মী উপস্থিতি ছিলেন। সকাল ১০টায় সমাবেশ শুরু হয়ে দুপুর ১টার দিকে শেষ হয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান বলেন, এ সরকার গণতন্ত্র ধ্বংস করে দিয়েছে। জাতীয় সংসদ ধ্বংস করে দিয়েছে। নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। গণতন্ত্রের মোড়কে এ সরকার একদলীয় শাসন ব্যবস্থায় আজকে পরিচালিত হচ্ছে। তাই জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে। নব্বইয়ের চেতনায় এ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে আবার জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারকে বলে দিতে চাই, জিয়াউর রহমানের বীর-উত্তম খেতাব বাতিলের চিন্তা করা হলে, আপনাদের হাত জ্বলেপুড়ে ছারখার হয়ে যাবে। এ সরকারের পায়ের নিচে মাটি নেই, তাদের সঙ্গে জনগণ নেই। সেজন্য তারা জনগণকে ভয় পায়। জনগণের সমাবেশে তারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা আব্দুস সালাম বলেন, পুলিশের অবস্থান দেখে মনে হচ্ছে, পুরো ঢাকা শহর বিএনপির দখলে। পুলিশকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা এভাবে কি আওয়ামী লীগকে রক্ষা করতে পারবেন?’

সমাবেশে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের কড়া সমালোচনা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক। শাজাহান খান কী ছিলেন জানি না। ১৯৭২ সালের পর থেকে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা বলে দাবি করেন তিনি। জিয়াউর রহমান ও শাজাহান কি এক জিনিস? এ শাজাহান এখন মিটিং করছেন, কীভাবে জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করা যায়।

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আপনাকে প্রস্তুত থাকতে হবে। শাজাহান খান শুধু খেতাব নয়, আপনার জীবনের জন্যও হুমকি হতে পারে। যদি একটা পট-পরিবর্তন ঘটে, এদের ভূমিকা কী হবে জানি না। কারণ ১৯৭২ থেকে ৭৫ সময়কালে আওয়ামী লীগের লোকজনদের খুঁজে খুঁজে মেরেছে এ শাজাহান খান। কারণ তিনি একজন গণবাহিনীর নেতা ছিলেন। মাদারীপুরে জাসদের নেতা ছিলেন।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ক্ষমতাসীনদের বলতে চাই- দয়া করে মনে রাখবেন, বিএনপি হচ্ছে সেই গরম পানি যেই গরম পানি নরম ডিমকে শক্ত করে আবার শক্ত আলুকে নরম করে। তাই বলি, যা করেছেন যথেষ্ট করেছেন। এবার থামেন। যাদেরকে গ্রেফতার করেছেন তাদের মুক্তি দিন।

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেন, আমাদের বহু মিছিলকে রাস্তায় বাধা দেয়া হয়েছে যাতে সমাবেশে আসতে না পারে। আমাদের ডানে এবং বামে সব জায়গায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে যাতে আমরা সমাবেশ করতে না পারি। এত ভয় কেন? আমাদের অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা বলতে চাই, অনতিবিলম্বে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দিতে হবে।

সমাবেশ পরিচালনা করে বিএনপি দক্ষিণের নেতা কাজী আবুল বাশার ও উত্তরের নেতা আবদুল আলীম নকি। আরও বক্তব্য দেন- বিএনপি নেতা শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, নাজিমউদ্দিন আলম, আমিনুল হক, আবদুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, নিপুণ রায় চৌধুরী, মহানগরের শেখ রবিউল আলম রবি, ইউনুস মৃধা, এজিএম শামসুল হক, তানভীর আহমেদ রবিন, যুবদলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, রফিকুল আলম মজনু, এসএম জাহাঙ্গীর, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, মৎস্যজীবী দলের আবদুস রহিম, শ্রমিক দলের সুমন ভূঁইয়া, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন প্রমুখ। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করে বিএনপি। সেই সমাবেশ প- হয়ে যায় পুলিশের লাঠিচার্জে।

 

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More