দুর্যোগ মোকাবেলা আর খাদ্য নিরাপত্তায় ব্রি ধান ৮৯ নতুন আশার আলো

মাজেদুল হক মানিক: বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত ব্রি ধান ৮৯ নিয়ে মেহেরপুরের চাষিদের মাঝে নতুন আগ্রহ দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে বেশি ফলনশীল এ জাত সদ্য সমাপ্ত বোরো মরসুমে ফলন আর ঝড়-বৃষ্টি মোকাবেলার মধ্যদিয়ে চাষিদের আস্থা অর্জন করেছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ও ক্রমবর্ধমান খাদ্য চাহিদা পূরণে এ জাতটি নতুন আশার আলো বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কৃষি কর্মকর্তারা।
চাষি ও কৃষি বিভাগসূত্রে জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত বোরো মরসুমে গাংনী উপজেলার শিশিরপাড়া মাঠে বীজ উৎপাদন প্লটে ব্রি ধান ৮৯ আবাদ করে স্বদেশ সীড নামের একটি বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতি বিঘায় ৩০ মণের উপরে ফলন হয়েছে বলে জানান কৃষকরা। সার্বিক দিকবিবেচনায় আগামী বোরো মরসুমে এ জাতটি চাষিদের কাছে নতুন আস্থার প্রতীক হিসেবে দেখা যাবে বলে মনে করছেন বীজ উৎপাদনকারী কৃষকরা।
ব্রি ধান ৮৯ আবাদকারী কৃষক শিশিরপাড়া গ্রামের জিনারুল ইসলাম দিপু বলেন, ধান গাছের উচ্চতা ব্রি ধান ২৮ এর চেয়ে কিছুটা বেশি। তবুও ঘূর্ণিঝড় আম্পানের মতো দুর্যোগে ধান গাছ হেলে পড়েনি। শিষ থেকেও ধান ঝরেনি। এ বিষয়টি চাষিদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ধান গাছ খাড়া থাকায় কাটা মাড়াই ব্যয় কমেছে এবং গো খাদ্যের জন্য বিচলি তৈরি সম্ভব। মাঝারি চিকন এ ধানের চাল খেতে সু-স্বাদু ও ভাত ঝরঝরে। চাষাবাদ পদ্ধতি ও খরচ স্বাভাবিক। অপরদিকে ব্রি ধান ২৯ এর চেয়ে এক সপ্তাহ আগাম কর্তন করা যায়। ফলন অন্যান্য জাতের চেয়ে অনেক বেশি তাই এ জাতের ধান আবাদ খুবই লাভজনক।
একই গ্রামের কৃষক তানজিরুল ইসলাম বলেন, কৃষক জিনারুল ইসলামের ক্ষেতে ব্রি ধান ৮৯ জাতের ধান দেখতে চাষিরা ভিড় করতেন। ফলন যেমনি বেশি তেমনি ক্ষেত দেখতেও মন জুড়ানো। আগামী বোরোতে আমরা এ জাতটি আবাদ করবো।
এদিকে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারাও এ জাতটি নিয়ে আশাবাদী। ধান আবাদে চাষিদেও বেশি লাভ ও দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণের বিষয়টি মাথায় রেখে মাঠ পর্যায়ে এ জাতের ধান আবাদ সম্প্রসারণের চেষ্টা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ব্রি ধান ৮৯ আবাদের সার্বিক বিষয় আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি। এ জাতটি খুবই দুর্যোগ সহনশীল ও উচ্চ ফলনশীল। যা করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি উত্তরণ ও ক্রমবর্ধমান খাদ্য চাহিদা মেটাতে সময়োপযোগী একটি জাত। ১৯৯৪ সালে ব্রি উদ্ভাবিত ব্রি ধান ২৮ ও ব্রি ধান ২৯ এর চেয়ে এ জাতটি বেশি জনপ্রিয় হবে বলে আশা করছি।
বিগত ৪০ বছরে দেশে ধান আবাদ তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে কৃষিবীদ কেএম শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ আরও বলেন, চালের চাহিদা স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখতে ব্রি ধান ৮৯ জাতটি আবাদ এখন সময়ের দাবি। ভালোভাবে আবাদ করতে পারলে হাইব্রিড জাতের কাছাকাছি ফলন দিতে সক্ষম এ জাতটি।
ব্রি সূত্রে জানা গেছে, ২৮.৫ শতাংশ অ্যামাইলোজ সমৃদ্ধ এ জাতটি ব্রির জীবপ্রযুক্তি বিভাগে ব্রি ধান ২৯ এর সাথে সংকরায়ণ করা হয়। ব্রির বিজ্ঞানীদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে কয়েক বছর ধরে ব্রি গবেষণা মাঠ ও বিভিন্ন এলাকায় কৃষকের মাঠে পরীক্ষা নিরীক্ষা সন্তোষজনক হলে ২০১৮ সালে বোরো মরসুমে আবাদের জন্য জাতটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় জাতীয় বীজ বোর্ড।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More