দেশের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও চুয়াডাঙ্গায় রেকর্ড

স্টাফ রিপোর্টার: মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের পর গতকাল মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আজ চুয়াডাঙ্গায় দেশের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এক দিনের ব্যবধানে ২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে শৈত্যপ্রবাহ থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিয়েছে। তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশ থাকায় সোমবারের তুলনায় শীত কম অনুভূত হচ্ছে। গত রোববার জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার একবারে তা নেমে দাঁড়ায় ৭ ডিগ্রিতে। আবার গতকাল ২ দশমিক ৫ ডিগ্রি বেড়ে পৌঁছেছে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রিতে।
চুয়াডাঙ্গার হাটকালুগঞ্জে অবস্থিত প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামাদুল হক বলেন, আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা সারা দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায় ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তাপমাত্রার ওঠানামাকে প্রাণিকুলের জন্য হুমকি বলে মনে করছেন চিকিৎসাবিদেরা। শৈত্যপ্রবাহের কারণে সদর হাসপাতালে শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা সদর হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা মেডিসিন বিভাগে সোমবার রাতে শয্যার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ রোগীকে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাকিল আরসালান বলেন, সোমবার রাত আটটা থেকে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ভর্তি হওয়া রোগীর ৯০ শতাংশই অ্যাজমা, হাঁপানি, সর্দি-কাশিসহ শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ রোগে আক্রান্ত।
তাপমাত্রা ওঠানামা করায় চিকিৎসকেরা প্রসূতি, নবজাতকসহ শিশুদের বিশেষ যতেœর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরে অবস্থিত মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ায় সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। শৈত্যপ্রবাহ চলাকালে গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের গরম পানিতে গোসল করতে হবে। ঠান্ডা পানি পান করা যাবে না। খালি পায়ে হাঁটা যাবে না। বাতাসে দাঁড়ানো যাবে না। দুধ-ডিমসহ পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। নবজাতকসহ শিশুসন্তানকে সব সময় শরীরের স্পর্শে, অর্থাৎ ক্যাঙারু মা পদ্ধতিতে যতেœ রাখতে হবে।
চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, চলতি বছর বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্র্যাক হতদরিদ্রদের জন্য কম্বল বিতরণ করেছে। বেসরকারি উদ্যোগে এই তৎপরতা আরও জোরদার হওয়া দরকার। এ জন্য সামর্থ্যবানদের এগিয়ে আসতে হবে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More