দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্দেশনা : জেলা উপজেলায় সরকারি কমিটি

সামাজিক সম্প্রীতি বাড়ানোর জন্য সমাবেশ করতে জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ
স্টাফ রিপোর্টার: ভোট সামনে রেখে দেশের সব জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করেছে সরকার। জেলা পর্যায়ের কমিটিতে জেলা প্রশাসককে (ডিসি) প্রধান করা হয়েছে। ২৩ সদস্যের কমিটিতে সংশ্লিষ্ট জেলার সব সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান/প্রশাসককে উপদেষ্টা রাখা হয়েছে। পুলিশ সুপারও এ কমিটির সদস্য। একইভাবে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের কমিটি ২৪ সদস্যের। এ কমিটির সভাপতি ইউএনও (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা)। ওই উপজেলার সংসদ সদস্যকে প্রধান উপদেষ্টা ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে উপদেষ্টা করা হয়েছে। আর ইউনিয়ন পর্যায়ের ১৪ সদস্যের কমিটির প্রধান করা হয়েছে ইউপি চেয়ারম্যানকে। সদস্যসচিব সংশ্লিষ্ট ইউপি সচিব। ২৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আলাদা তিনটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘সামাজিক-সম্প্রীতি কমিটি’ নামে এ কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ২০১৩ সালে এ ধরনের কমিটি গঠন করেছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সেই কমিটির আদলেই এবারও জাতীয় নির্বাচনের এক বছর আগে কমিটি গঠন করা হলো।
এসব কমিটিকে সারা দেশের জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সম্প্রীতি সমাবেশ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর এসব সমাবেশের ব্যয় নির্বাহ করা হবে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের রাজস্ব থেকে। এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ ছাড়া ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সচেতনতা বাড়াতে ২৫ কোটি টাকার একটি নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মিডিয়া পরামর্শক হিসেবে বাংলাঢোল লিমিটেড ও আইসিটি পরামর্শক হিসেবে রিভ সিস্টেম লিমিটেডকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ২১ জুলাই ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলালের উপস্থিতিতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে এ-সংক্রান্ত চুক্তি সই হয় প্রতিষ্ঠান দুটির সঙ্গে।
ওই অনুষ্ঠানে ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিড়–ল হক খান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চেতনা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বদ্ধপরিকর। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের ঘটনা মাঝেমধ্যে ঘটে, এগুলোর ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স। কোনো অবস্থাতেই কোথাও যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য সম্প্রীতি বাড়াতে ধর্ম মন্ত্রণালয় কর্মসূচিগুলো হাতে নিয়েছে। আগামী নির্বাচন ব্যাহত করার জন্যই মাঝেমধ্যে কিছু দুষ্টপ্রকৃতির লোক ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’ নতুন গঠিত কমিটির কার্যপরিধির বিষয়ে তিনটি প্রজ্ঞাপনেই বলা হয়েছে, কমিটির সদস্যরা তাদের নিজ নিজ এলাকায় সম্প্রীতি সমাবেশ করবেন। ধর্মীয় উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ, সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় প্রচার কার্যক্রম চালাবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার রোধে মানুষকে সচেতন করে তুলবেন। মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ সব উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমিটি সহযোগিতা করবে। সব ধর্মীয় উৎসব যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মাধ্যমে উদ্যাপনের পরিবেশ ভালো রাখতে এসব কমিটি কাজ করবে। বিভিন্ন ধর্মের শান্তি ও সৌহার্দ্যরে বাণী প্রচারের ব্যবস্থা করবে এসব কমিটি।
এসব কমিটির বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামাজিক সম্প্রীতি সমাবেশ করার নামে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জেলা-উপজেলায় ডিসি-ইউএনওদের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হচ্ছে। সরকারি টাকায় নেয়া হচ্ছে এ-সংক্রান্ত প্রকল্প। মূলত এসব কমিটি ও প্রকল্পের মূল টার্গেট থাকবে জাতীয় নির্বাচন। এর আগে ২০১৩ সালের ৭ মার্চ ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দেশের সব মহানগর, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ‘সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন করেছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ডিসিদের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সদস্য ছিলেন পুলিশ সুপার (ডিএসবি), এনএসআই, র‌্যাবের প্রতিনিধি, জেলার কমান্ডার আনসার, ভিডিপি উপ-পরিচালক ও একজন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং আলেমসমাজের প্রতিনিধিরা। একই আদলে হয়েছিল মহানগর, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ কমিটি। আবার জেলা সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ কমিটিকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেয়ার জন্য কোর কমিটি গঠন করেছিল সরকার। এর আগে গত বছর ২৪ অক্টোবর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট ও জনগণের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টির জন্য কিছু মহলের অপতৎপরতা রোধে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ঢাকার দুই মেয়র, খুলনা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শুরু করে সিটি করপোরেশন পর্যন্ত জনপ্রতিনিধিরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সমাজে যারা ধর্মীয় বিবাদ/বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় তাদের চিহ্নিত করবেন। চিহ্নিতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধর্মীয়, পেশাগত শ্রেণি বা শিক্ষাগত ভিন্নতার কারণে নিজেদের মধ্যে সম্প্রীতি নষ্ট করা যাবে না। জনপ্রতিনিধিরা এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করবেন। জনপ্রতিনিধিরা ধর্মীয় নেতাসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে নিজ নিজ এলাকার ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা করবেন।

 

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More