পবিত্র লাইলাতুল কদর আজ

স্টাফ রিপোর্টার: আজ পবিত্র লাইলাতুল কদর। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) লাইলাতুল কদর তালাশ করার জন্য সম্ভাব্য যে পাঁচটি বিজোড় রাতের কথা বলেছেন তার মধ্যে আজকের দিবাগত সাতাশের রাতটি অন্যতম। মুমিন বান্দারা আজ সারারাত ইবাদত-বন্দেগিতে পার করবেন। রোজা পালনকারী ইমানদাররা চোখের পানি ফেলে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে কায়মনে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের প্রতিটি মসজিদে সারারাত নফল নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, তওবা-ইস্তিগফার, দোয়া দরুদ ও দ্বীনি আলোচনায় ব্যস্ত থাকবেন মুসিল্লরা। আর যারা মসজিদে আসতে পারবেন না, তারা বাড়িতে পার্থিব সব ব্যস্ততা ঝেড়ে ফেলে পরওয়ারদেগারের কাছে পানাহ চাইবেন এবং নিমগ্ন হবেন প্রভুর ধ্যানে। নারীরাও আজ রাতে ইবাদতে অংশ নেবেন। আমরা জানি রাসূল (সা.)-এর সময় নারীরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমা ও ঈদের নামাজে হাজির হতেন। এমনকি রমজানের শেষ ১০ দিন মসজিদে তাবু স্থাপন করে ইতিকাফের মাধ্যমে লাইলাতুল কদরও তালাশ করতেন। রাসূল (সা.) বলেছেন, তোমাদের নারীরা যদি মসজিদে (নামাজ ও ইবাদত-বন্দেগির জন্য) যেতে চায়, তাহলে তোমরা নিষেধ করো না। তবে তাদের জন্য ঘরই উত্তম। কেননা ঘরই তাদের জন্য বেশি পর্দা রক্ষাকারী। এখানে তাদের একাগ্রতা ও ধ্যান হবে বেশি।
আজকের রাতে আমাদের পরিবার-পরিজন সবার উচিত আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ করা। কেননা লাইলাতুল কদর এমন একটি রাত যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। মাহে রমজানের বিশেষ ফজিলত ও গুরুত্ব অনেকাংশে মহিমান্বিত এ রাতের কারণেই বৃদ্ধি পেয়েছে। লাইলাতুল কদর বা শবেকদরের অর্থ হচ্ছে সম্মান ও মর্যাদাপূর্ণ রাত। বছরের যে কটি দিন ও রাত বিশেষভাবে মহিমান্বিত, তার মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম ও বরকতময় হলো এ শবেকদর। পবিত্র রমজানের এ রাতে লাওহে মাহফুজ থেকে নিম্ন আকাশে মহাগ্রন্থ আল কুরআন অবতীর্ণ হয়। কুরআন নাজিলের মাস হিসাবে রমজান যেমন বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত, তেমনি কুরআন নাজিলের কারণেই শবেকদর অতি ফজিলত ও তাৎপর্যপূর্ণ। আল্লাহ বলেন, এ কুরআন আমি লাইলাতুল কদরে নাজিল করেছি। অন্য আয়াতে বলেন, রমজান মাস, এ মাসেই কুরআন অবতীর্ণ হয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা লাইলাতুল কদরকে হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম বলে অভিহিত করেছেন। এর অর্থ হলো, সাধারণ এক হাজার মাস তথা তিরাশি বছর চার মাস প্রতি রাত জাগ্রত থেকে নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদি নফল ইবাদত করলে যে সওয়াব হবে, এই এক রাতের ইবাদতে তার চেয়েও অনেক বেশি সওয়াব পাওয়া যাবে। এ রাতের ফজিলত সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা ‘আলফ’ তথা ‘হাজার’ শব্দ ব্যবহার করেছেন। আলফ আরবি গণনার সর্বোচ্চ সংখ্যা। মুফাসসিররা বলেন, যদি এর চেয়ে বড় আরও কোনো সংখ্যা প্রচলিত থাকতো, তাহলে আল্লাহতায়ালা হয়তো তা-ই ব্যবহার করতেন। এছাড়া শবেকদরের ফজিলত তো আর হাজার মাসের মধ্যে সীমিত করা হয়নি। বরং বলা হয়েছে, লাইলাতুল কদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। তার সঠিক পরিমাণ কতো, তা আল্লাহই ভালো জানেন। এখানে সংখ্যার হিসাব মুখ্য নয়, আল্লাহর অশেষ দানটিই প্রধান হিসাবে বিবেচিত হবে। লাইলাতুল কদর মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতের জন্য সৌভাগ্য। আর কোনো নবীর উম্মতকে এ ধরনের ফজিলতপূর্ণ রাত বা দিন দান করা হয়নি।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More