পুলিশকে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাইবার ক্রাইম, অর্থ ও মানবপাচার, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের মতো মারাত্মক সামাজিক অপরাধ দমনে পুলিশের আরও আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। অপরাধের ধরন বদলাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আধুনিক প্রযুক্তির যুগ এবং সাইবার ক্রাইম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এটা আমাদের দমন করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী রোববার সকালে রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমিতে ৩৭তম ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও লিংকের সাহায্যে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। আইজিপি (মহাপরিদর্শক) ড. বেনজীর আহমেদ স্বাগত বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল খন্দকার গোলাম ফারুক, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং সরকারের জ্যেষ্ঠ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ গ্রহণকালে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পুরস্কার বিতরণ করেন। সব বিষয়ে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সহকারী পুলিশ সুপার স্নেহাশিষ কুমার দাস ‘বেস্ট প্রবেশনার’ পুরস্কার পান। অনুষ্ঠানে শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদেরকে শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানো হয় এবং তিনি কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী একটি স্থবির অবস্থার সৃষ্টি হলেও পুলিশ অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করেছে।’ মৃতের সৎকার বা রোগাক্রান্তকে চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া বা ঘরে ঘরে রিলিফ পৌঁছে দেয়ায় পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী কর্তব্য পালনকালে মৃত্যুবরণকারী পুলিশ সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে আত্মীয়স্বজন লাশ ফেলে চলে গেছে কিন্তু আমার পুলিশ সদস্যরা সেখানে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।’ পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসার জন্য রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের পাশাপাশি হাসপাতাল ভাড়া করে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথাও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের পুলিশে প্রথম মেডিকেল ইউনিট গঠন করা একান্তভাবে দরকার বলে মনে করি। তাদের নিজস্ব মেডিকেল ইউনিট থাকুক যারা এ চিকিৎসাসেবা দেখবে।’
ঢাকার বাইরের পুলিশ হাসপাতালগুলোর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, বলেন তিনি। তিনি বলেন, পুলিশের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে কেউ ফোন করলে তাৎক্ষণিকভাবে পৌঁছে যাচ্ছে পুলিশ এবং তাদের সেবা প্রদান করছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্যান্য মারাত্মক সামাজিক ব্যাধির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা-নির্যাতনসহ নিত্যনতুন সামাজিক অপরাধ। এসব আরও দক্ষতার সঙ্গে দমন করতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, শুধু দেশে নয়, বিদেশে পাঠিয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এটা অব্যাহত রাখা দরকার। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, একটা সময় অন্তর তাদের প্রশিক্ষণ দিলে তারা যতোক্ষণ কাজে থাকবেন তাদের কর্মদক্ষতা আরও বৃদ্ধি পাবে। সে ব্যবস্থাও করতে হবে।’

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More