ভ্যাকসিন পেতে ব্যর্থ হলে আন্তর্জাতিক আইনের আশ্রয় নিতে হবে: বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার: করোনা ভ্যাকসিন পেতে ভারত সরকারের সঙ্গে বোঝাপড়ায় ব্যর্থ হলে আন্তর্জাতিক আইনের আশ্রয় নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে জনগণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দাবি জানিয়েছে দলটি। গত শনিবার অনুষ্ঠিত দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে বিএনপির নেতারা এ আহ্বান জানিয়েছেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠকে নেয়া এ সিদ্ধান্ত সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন। সভায় কভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন আমদানি অনিশ্চিত হয়ে পড়ার জন্য সরকার এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা ও দুর্নীতিকে দায়ী করা হয়। গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানান, আওয়ামী লীগ সরকার আর্থিক স্বার্থ হাসিলের জন্য করোনা ভ্যাকসিন আমদানির দায়িত্ব তাদের পছন্দমতো চিহ্নিত দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়। একটিমাত্র উৎস ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে এ ভ্যাকসিন সংগ্রহ করার পরিকল্পনা করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এই উৎস্যকে দেড় কোটি ভ্যাকসিনের অগ্রিম মূল্য পরিশোধ করা হলেও বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত দুই কিস্তিতে মাত্র ৭০ লাখ ডোজ পেয়েছে। যেখানে সাড়ে ১২ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিনেটেড করে হার্ড ইমিউনিটি আনা প্রয়োজন, সেখানে অযোগ্যতা, ব্যর্থতা ও দুর্নীতির কারণে পুরো জাতি আজ বিপদগ্রস্ত। বৈঠকে দলের নেতারা জানিয়েছেন, এতবড় এই বৈশ্বিক মহামারির সময় সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে জনগণ এখন টিকা পাচ্ছে না বা আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। কারণ করোনাভাইরাস মোকাবিলা করতে গিয়ে সরকার শুধু নিজেদের দুর্নীতির সুযোগ খুঁজেছে। এ জন্য ভবিষ্যতে এই সরকারকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। দলের স্থায়ী কমিটির সভায় নেতারা জানান, গত বছর করোনাজনিত পরিস্থিতিতে বিএনপি ও নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে প্রায় দুই কোটি মানুষকে সহযোগিতা করা হয়েছিলো। কিন্তু এবার স্বাধীনতা দিবসে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সরকার ২০ জন মানুষকে গুলি করে হত্যার পর বিরোধী দল ও বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা এবং গ্রেফতার করে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছে। এরপরও পরিস্থিতি বিবেচনা করে দুস্থ জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিএনপিসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীর প্রতি আহ্বান জানান নেতারা। চালের মজুদে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, সরকার মধ্যস্বত্ব ভোগীদের স্বার্থরক্ষায় জনগণের খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নে চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছে। সরকারের দুর্নীতি ও অযোগ্যতার কারণে খাদ্য সংকট সৃষ্টি হতে পারে বলে সভায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। সভায় জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More