মুজিববর্ষে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের ঘর উপহার হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী : ঘর দিতে পারলাম এটিই আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব

স্টাফ রিপোর্টার: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষে’ গৃহহীন ও ভূমিহীনদের ঘর উপহার দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য এটি সবচেয়ে বড় উৎসব। এর চেয়ে বড় উৎসব বাংলাদেশের মানুষের হতে পারে না। গতকাল শনিবার তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রায় ৭০ হাজার গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের হাতে ঘরের চাবি বুঝিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় একইসঙ্গে প্রতিটি পরিবারের জন্য বরাদ্দ করা দুই শতাংশ জমির মালিকানার কাগজপত্রও তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন ৬৬ হাজার ১৮৯টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে দুই শতাংশ খাস জমির মালিকানা দিয়ে দুই কক্ষবিশিষ্ট একক গৃহ মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে পেয়েছেন। একইসঙ্গে ২১টি জেলার ৩৬টি উপজেলায় ৪৪ প্রকল্পে আরও তিন হাজার ৭১৫টি পরিবারকে ব্যারাকে পুনর্বাসন করা হয়। অর্থাৎ আনুষ্ঠানিকভাবে মোট ৬৯ হাজার ৯০৪ পরিবারকে ঘর ও জমি দেয়া হয়েছে। একসঙ্গে এতো বিপুলসংখ্যক মানুষকে বিনামূল্যে ঘর করে দেয়ার মধ্যদিয়ে বিশ্বে অনন্য নজির সৃষ্টি করলো বাংলাদেশ। গৃহহীনদের জন্য নির্মিত চারটি উপজেলার আশ্রয়ণ নিবাসের উপকারভোগী মানুষ সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা-মেরেহপুর ঝিনাইদহসহ সারাদেশে দেশের ৬৪টি জেলার সব উপজেলার মানুষও টেরেস্টিয়ালে এই অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আজকে আমার আনন্দের দিন। যাদের কিছুই নেই তাদের ঘর করে দিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিতে পেরেছি। যখন এই মানুষগুলো এই ঘরে থাকবে তখন আমার বাবা-মার আত্মা শান্তি পাবে। লাখো শহীদের আত্মা শান্তি পাবে। কারণ এসব দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই তো ছিলো আমার বাবার লক্ষ্য। মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় পুর্নব্যক্ত করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, মুজিববর্ষে একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। ঠিকানাহীন থাকবে না। আমরা সবার জন্য ঠিকানা করে দেব, সবাইকে ঘর করে দেব। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ যেন সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারে সেটাই আমার লক্ষ্য। একসঙ্গে এতো বিপুল সংখ্যক মানুষকে ঘর দেয়ার বিরল নজির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি না পৃথিবীর কোনো দেশে কখনো অথবা আমাদের দেশে কোনো সরকার এতো দ্রুত এতোগুলো ঘর করেছে। এই ঘরগুলো তৈরি করা সহজ কথা নয়।’ এজন্য সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এতোটা সমন্বিত কার্যক্রম এর আগে দেশে এভাবে হয়ওনি। করোনাভাইরাসের মধ্যেও দেশকে এগিয়ে নিতে তার সরকার গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, করোনা যেমন একদিকে অভিশাপ, তেমনি আমাদের জন্য আশির্বাদও বয়ে এনেছে। কারণ এই সময়ে আমরা এই কাজগুলো ভালোভাবেই করতে পেরেছি। দেশের মানুষের দোয়া চাই, যেন এই দেশটাকে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। প্রতিটি মানুষ যেন ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারে। তারা যেন সুন্দরও ও উন্নত জীবন পায়, সকলের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। সারাদেশে যারা ঘর পেয়েছেন তাদের ঘরের সামনে একটি করে গাছ, বিশেষ করে ফলজ গাছ লাগানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। নদীভাঙনে যাতে আর কেউ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। পরে মোনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মুফতি মিজানুর রহমান।
চুয়াডাঙ্গায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে জমির দলিল বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সদর উপজেলার ৩৪টি পরিবারের মাঝে এ দলিল হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবু তারেক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ সামসুল আবেদীন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাজিয়া আফরীন, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুল হক বিশ্বাস, অধ্যক্ষ (অব.) সিদ্দিকুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সী আলমগীর হান্নান, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইশরাত জাহান, সহকারী কমিশনার আমজাদ হোসেন ও জান্নাতুল ফেরদৌস, ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ এবং উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সহকারী কমিশনার হাবিবুর রহমানে সঞ্চালনায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এ সময় উপকারভোগী খাড়াগোদার বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হাসান ও সাংবাদিক অ্যাড. রফিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১১ হাজার মানুষকে ঘর বরাদ্দ দেয়া হবে। প্রথম পর্যায়ে চার উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন ১ হাজার ১৩১ পরিবারের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১৩৪টি পরিবারের মাঝে জমি ও ঘর বরাদ্দ দেয় হলো। অবশিষ্ট ক ও খ তালিকাভুক্ত ঘরগুলো শিগগিরই তৈরি শুরু হবে। দুস্থ, আসহায় ও দরিদ্র মানুষের অসহায়ত্ব দূর করতে হবে। প্রতিটি মানুষের উন্নয়ন ঘটাতে হবে এবং কেউ যেন পিছিয়ে না থাকে। ঘর থাকলে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করাতে পারবেন। আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ২ শতক জমি ও গৃহ করা প্রদান করা হয়েছে। যাদের জমি আছে, ঘর নেই তাদেরটাও শুরু হবে। ঘর নির্মাণে কোন অভিযোগ পাইনি। প্রকৃত দুস্থদের ঘর দেয়া হয়েছে। এ কাজে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা জড়িত ছিলেন। আমাদের আন্তরিকতা যদি থাকে তাহলে সফলভাবে কাজটি সম্পন্ন করতে পারবো।
আলমডাঙ্গা ব্যুরো জানিয়েছে, আলমডাঙ্গার ১০ ইউনিয়নে প্রথম পর্যায়ে ৫০টি গৃহহীন-ভূমিহীনদের একক ঘরের দলিল, খতিয়ান, ঘর দেয়া সনদ হস্তান্তর করা হয়। আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিটন হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন গৃহহীন ভূমিহীনদের হাতে তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. সালমুন আহমেদ ডন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মারজাহান নিতু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব মাস্টার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হুমায়ন কবীর, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহিল কাফি, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান খান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হক, আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম সরোয়ার মিঠু, মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ নুর মোহাম্মদ জকু, ইউপি নজরুল ইসলাম, আবু সাঈদ পিন্টু, মোস্তাফিজুর রহমান রুন্নু, আবুল কালাম আজাদ, মাসুদ পারভেজ, আবু তাহের আবু, তরিকুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম, কাওছার আহমেদ বাবলু, আব্দুল হালিম। এছাড়ার উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অফিসার আফাজ উদ্দিন, আলমডাঙ্গা থানার এসআই সনজিত কুমার, বিআরডিবি কর্মকর্তা শায়লা শারমীন, খাদ্য পরিদর্শক রাকিবুল ইসলাম, মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল মালেক, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাকছুরা জান্নাত প্রমুখ।
দামুড়হুদা অফিস জানিয়েছে, দামুড়হুদায় ভূমিহীন ও গৃহহীন ৩২টি পরিবারকে অনুষ্ঠানিকভাবে ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার সময় ভিডিও কনফারেন্স ভার্চুয়াল আলোচনাসভার মাধ্যমে সারা দেশে ভূমিহীন-গৃহহীনদের ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরই অংশ হিসেবে দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলার ৩২টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারে ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলি মুনছুর বাবু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমান, জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক ও দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান মঞ্জু, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত কুমার সিংহ, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাহিদা খাতুন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.মশিউর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মতিন, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ, জেলা পরিষদের সদস্য ও দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল কবির ইউসুফ, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী, সকল ইউপি চেয়ারম্যানগণ, সাংবাদিকবৃন্দসহ উপকারভোগী ৩২জন ঘর মালিক উপস্থিত ছিলেন।
জীবননগর ব্যুরো জানিয়েছে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে জীবননগরে নিজস্ব ঠিকানা পেলো ১৮ গৃহহীন পরিবার। গতকাল শনিবার দুপুরে গৃহহীন ও ভূমিহীন ১৮ পরিবারের হাতে দু’শতক করে জমির দলিল এবং বাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তুলে দেয়া হয়। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজি মো. আলী আজগার টগর গৃহহীনদের হাতে জমির দলিলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তুলে দেন। জীবননগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গতকাল শনিবার দুপুরে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের ঘরের কবুলিয়তনামা বিতরণের জন্য এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মুনিম লিংকনের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সৈয়দ আব্দুল জব্বারের সঞ্চালনায় ঘরের কবুলিয়তনামা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি চুয়াডাঙ্গায়-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজি মো. আলী আজগার টগর বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের অন্ন ও বস্ত্রের সমস্যা সমাধান অনেক আগেই করেছেন। এখন গৃহহীনদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন, মুজিববর্ষে আমরা গৃহহীনদের ঘর করে দেবো। সেই ঘোষণা শুধু ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তিনি তার রাষ্ট্রযন্ত্র ও দলকে কাজে লাগিয়ে হাজার হাজার ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন- জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি মো. হাফিজুর রহমান, জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. গোলাম মোর্তূজা, সাধারণ সম্পাদক উপধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, জীবননগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ঈশা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়েশা সুলতানা লাকি, আন্দুলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ শফিকুল ইসলাম মোক্তার, জীবননগর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মিজানুর রহমান, জীবননগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মুন্সী মাহবুবর রহমান বাবু, উপকারভোগী ইব্রাহিম আলী প্রমুখ।
মেহেরপুর অফিস জানিয়েছে, মুজিববর্ষে মেহেরপুরের তিনটি উপজেলার ২৬টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে জমি ও গৃহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল শনিবার সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জমিসহ ব্যারাকে পুর্নবাসনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার সময় মেহেরপুর সদর উপজেলা হলরুমে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় সদর উপজেলা হলরুমে উপস্থিত ছিলেন- মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মুজাহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুল আলম, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. ইয়ারুল ইসলাম।
এদিকে এ উপলক্ষে মুজিবনগর উপজেলা পরিষদ হলরুমে এক আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন সরকারের সভাপতিত্বে গৃহ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান। সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুল আলমের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সিভিল সার্জন ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হাফিজ আল আসাদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক অ্যাড. এসএম ইব্রাহীম শাহীন, পাবলিক প্রসিকিউটর পল্লব ভট্টাচার্য, মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়া উদ্দীন বিশ্বাস, মুজিবনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হাশেম, মুজিবনগর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মোল্লা প্রমুখ।
অপর দিকে গাংনী উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে এ উপলক্ষে আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরএম সেলিম শাহনেওয়াজ। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুর-ই-আলম সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ খালেক। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. রাশেদুল হক জুয়েল, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিন, গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বজলুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিরঞ্জন চক্রবর্তী প্রমুখ।
মহেশপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মহেশপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন ৬৩টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার। মহেশপুর উপজেলা পরিষদ ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাশ্বতী শীলের সভাপতিত্বে এ উপজেলার ৬৩জন উপকারভোগীদের নিকট ফোল্ডার হাস্তন্তর করা হয়। হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শফিকুল আজম খাঁন চঞ্চল। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ময়জদ্দীন হামীদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাজ্জাদুল ইসলাম সাজ্জাদ। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুল হক আজা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হাসিনা খাতুন হেনা, ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, আরিফান হাসান চৌধুরী লুথান, শহিদুল ইসলাম, জেলা পরিষদের সদস্য এমএ আসাদ, শেখ হাশেম আলী প্রমুখ। প্রধান অতিথি সকল উপকাভোগীদের মাঝে দলিল হস্তান্তর করেন।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে জমিসহ একটি করে দুই কক্ষ বিশিষ্ট ঘর পেলেন কুষ্টিয়ার ১৫৭টি পরিবার। গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। পরে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক এবং স্ব স্ব উপজেলা নির্বাহী কমকর্তাগণ এসব ঘরের চাবি, জমির কাগজ বুঝিয়ে দেন উপকারভোগীদের। এ উপলক্ষে সকালে মিরপুর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাসের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওবাইদুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জোয়ার্দ্দার, মর্জিনা খাতুন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. আব্দুল হালিম, উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নজরুল করীম প্রমুখ। পরে অতিথিরা জমিসহ মিরপুর উপজেলার ৫৬টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে ২ শতাংশ করে জমির কাগজ এবং ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন।
জেলা প্রশাসকের কার্যলয়সূত্রে জানা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ প্রথম ধাপে কুষ্টিয়া জেলার ১৫৭টি গৃহহীন পরিবারের মাঝে নতুন ঘর বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। যার নির্মাণ ব্যয় ২ কোটি ৪৮ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ১টি, মিরপুর উপজেলায় ৫৬টি এবং ভেড়ামারা উপজেলায় ১০০টি ঘর। এছাড়া একই প্রকল্পের আরও ১৮০টি গৃহনির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। যার ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ কোটি ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এর মধ্যে কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ৩২টি, কুমারখালী উপজেলায় ৫৭টি, খোকসা উপজেলা ৩০টি এবং দৌলতপুর উপজেলায় ৬১টি। যেগুলোর কাজ চলমান রয়েছে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More