মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিতেই চুয়াডাঙ্গাসহ ৩৪ জেলা আওয়ামী লীগ

কোরবানী ঈদের পর সম্মেলনের প্রস্তুতি : অক্টোবরে জাতীয় কাউন্সিল

স্টাফ রিপোর্টার: দলের জাতীয় সম্মেলন ঠিকমতো হলেও নজর নেই জেলা-উপজেলা কিংবা থানা-পৌর আওয়ামী লীগের কমিটিতে। আওয়ামী লীগের ৭৮ সাংগঠনিক জেলা কমিটির মধ্যে ৩৪টি মেয়াদোত্তীর্ণ। একইভাবে সাড়ে ছয়শ উপজেলা-পৌর কমিটির অর্ধেকের মেয়াদ শেষ। দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় এসব জেলা-উপজেলায় নতুন নেতৃত্ব আসছে না। ফলে হতাশ পদপ্রত্যাশীরা। পাশাপাশি ঝিমিয়ে পড়ছে সাংগঠনিক কর্মকা-। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা বলছেন, করোনা ও বন্যার কারণে যথাসময়ে সম্মেলন করা সম্ভব হচ্ছে না। বন্যা ও করোনার প্রকোপ কমলে আসছে ডিসেম্বরের মধ্যেই এসব জেলা-উপজেলায় সম্মেলন শেষ করা হবে।

দলীয় সূত্রমতে, কোথাও কোথাও এক থেকে দেড়যুগ সম্মেলন নেই। কত হাজার ইউনিয়ন-ওয়ার্ড কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ সে পরিসংখ্যান নেই দলের কাছে। সর্বত্র বেহাল অবস্থা। জেলা-উপজেলা মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিতে চলছে আওয়ামী লীগ। ফলে দীর্ঘদিন দল ক্ষমতায় থাকায় ‘ক্ষমতা’ কুক্ষিগত করার সুযোগ পাচ্ছেন একশ্রেণির নেতা। এ কারণে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দল বেড়েই চলেছে। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা-উপজেলা এবং থানা ও ইউনিয়ন কমিটির মেয়াদ তিনবছর। ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের মাধ্যমে দলের কাউন্সিলররা তাদের নেতা নির্বাচন করবেন। কিন্তু অনেক জেলায় কমিটির মেয়াদ তিন বছরের জায়গায় চার-পাঁচ বছর কিংবা এরও বেশি হয়ে গেছে। অনেক থানা-উপজেলা ও ইউনিয়নে সাত-আট বছর কিংবা তারও বেশি আগে কমিটি হলেও নতুন সম্মেলনের কোনো খবর নেই। পুরনো কমিটি দিয়ে ঢিমেতালে চলছে দলের কার্যক্রম। ফলে গতিহীন হয়ে পড়ছে তৃণমূল, উঠে আসছে না নতুন নেতৃত্ব। অনেক থানা-উপজেলা কিংবা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি সর্বশেষ কবে হয়েছে তা-ও ভুলতে বসেছেন খোদ ওই কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কেউ কেউ। এ বছরের অক্টোবরে আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার কথা।

খুলনা বিভাগে মোট সাংগঠনিক জেলা ১১টি। উপজেলা ৬৪টি। এ বিভাগের দুই জেলা মেয়াদোত্তীর্ণ বলে জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক। অনেক উপজেলা সম্মেলন এখনো বাকি। এ প্রসঙ্গে খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বিভাগের দুটি জেলা সম্মেলন বাকি- ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা। ১৬ ও ১৭ মে সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিলো। চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অসুস্থ থাকায় তা সম্ভব হয়নি। একইভাবে একটি পৌরসভার ভোটের কারণে ঝিনাইদহ জেলার সম্মেলন করা যায়নি।’ কোরবানি ঈদের পর সম্মেলন করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

ঢাকা বিভাগে ১৭টি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। তিনটি জেলার সম্মেলন হয়েছে। বাকিগুলোর সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে। ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিট ও ওয়ার্ড সম্মেলন করছে। অন্য জেলাগুলোয় উপজেলার সম্মেলন চলছে। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, ‘ঢাকা বিভাগে ১৪টি জেলা সম্মেলন বাকি। তিনটি জেলার সম্মেলন করা হয়েছে। এখন উপজেলা ও ওয়ার্ড সম্মেলন চলছে। ডিসেম্বরের আগেই সব জেলায় সম্মেলন শেষ করা হবে।’

চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিভাগে নয়টি জেলার সম্মেলন করা প্রয়োজন। প্রতিটি জেলায় তৃণমূল সম্মেলনের কাজ চলছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে নিচের টায়ারের সম্মেলন সম্পন্ন না করে ওপরের টায়ারের সম্মেলন করার বিরুদ্ধে। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে আসছে অক্টোবরের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের সব মেয়াদোত্তীর্ণ ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা সম্মেলন সম্পন্ন করা হবে।’

সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, তার বিভাগে মোট পাঁচটি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি সিলেট মহানগর। মেয়াদোত্তীর্ণ মাত্র সুনামগঞ্জ জেলা। বন্যার কারণে সুনামগঞ্জে সম্মেলন করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

বরিশাল বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন বলেন, ‘ছয়টি জেলার মধ্যে তিনটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে একটি জেলার সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। ১১ জুন ভোলা জেলার সম্মেলন হয়েছে।’ ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল বলেন, ‘পাঁচটি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে পাঁচটিরই মেয়াদ শেষ হয়েছে। জেলা সম্মেলন করার জন্য উপজেলাগুলোয় পুরোদমে সম্মেলন করছি। আশা করছি সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের মধ্যে এ পাঁচ জেলার সম্মেলন শেষ করা হবে।’

রংপুর বিভাগে সাংগঠনিক জেলা রয়েছে ১০টি। এর মধ্যে গাইবান্ধা ও দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। ৫৮ উপজেলার অধিকাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে। ডিসেম্বরের আগেই এ বিভাগে সম্মেলন শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক। এ প্রসঙ্গে রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সফিক বলেন, ‘রংপুর বিভাগে দুই জেলার সম্মেলন বাকি। গাইবান্ধা ও দিনাজপুর। এর মধ্যে গাইবান্ধার সব উপজেলা সম্মেলন করা হয়েছে। দিনাজপুরের উপজেলাগুলোয় দ্রুত সম্মেলন চলছে।’ রাজশাহী বিভাগের আর কোনো জেলা সম্মেলনের বাকি নেই। এ বিভাগে মোট নয়টি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। ৮৪টি সাংগঠনিক উপজেলার মধ্যে ৭৪টির সম্মেলন হয়েছে। বাকিগুলো ঈদের পর শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা। এ প্রসঙ্গে রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, ‘জেলার সম্মেলন শেষ। উপজেলার সম্মেলনও শেষ পর্যায়ে।’

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More