যুবসমাজকে উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ

স্টাফ রিপোর্টার: যুবসমাজকে চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ছেলে-মেয়েরা পড়ালেখা শেষে নিজেরাই মৎস্য খামার গড়ে, মাছ চাষের মাধ্যমে অর্থ আয় করে স্বাবলম্বী হতে পারে। বাংলাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে আমরা সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলার দিকে। মাছ ও মৎস্যজাত যে কোনো কিছু প্রক্রিয়াজাত করতে পারে সেই সুযোগটাও সৃষ্টি হচ্ছে। যুবসমাজ কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে জামানত ছাড়া ঋণ নিতে পারবে। সেখান থেকে ঋণ নিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে।
আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন মৎস্যজীবী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। শনিবার ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মৎস্যজীবী লীগের প্রতিটি সদস্যকে অভিনন্দন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে গেছে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবে। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে ১৯৯৮ সালেই দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করি। দ্বিতীয়বার সরকারে এসেও আমরা সেই লক্ষ্য পূরণ করি। খাদ্যের সঙ্গে পুষ্টি যাতে যোগ হয়, তার ব্যবস্থাও গ্রহণ করি। তিনি বলেন, আপনাদের সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করতে হবে। যাতে যুবসমাজ আরও এগিয়ে আসে ও মৎস্য উৎপাদনে মনোযোগী হয় সেদিকে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। কেননা এখানে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, একটা মানুষ যদি ৬০ গ্রাম মাছ খেতে পারে তা যথেষ্ট সেখানে একজনের খাদ্য তালিকায় আমরা ৬২ গ্রাম মাছ তুলে দিচ্ছি, সেই সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আর সেই সঙ্গে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ নদী-নালা, খাল-বিলের দেশ। এ দেশে শত শত নদী রয়েছে। আমাদের খাল-বিল ও জলাধারগুলো সংস্কার করে যাচ্ছি এবং সেখানে আরও বেশি পরিমাণ মাছ যাতে উৎপাদন হয় তার ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। তিনি বলেন, আমাদের মাছের উৎপাদন যেখানে ২৭ লাখ টন ছিল সেখানে আমরা ৫০ লাখ টনের কাছাকাছি উৎপাদন শুরু করেছি। আর সেই সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় যাতে মাছ থাকে তারও ব্যবস্থা নিয়েছি। আর ইলিশ উৎপাদনে আমরা এখন পৃথিবীর এক নম্বর অবস্থানে চলে এসেছি। ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রজননের সময়ে আমরা মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে থাকি, তাদের খাদ্য সাহায্য দেই।
তিনি বলেন, প্রত্যেককে প্রতি মাসে বিনা পয়সায় খাদ্য দিয়ে থাকি, চাল দিয়ে থাকি, আবার সেই সঙ্গে ঝাকায় করে মাছের চাষের উদ্যোগের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থানের উদ্যোগও নিয়ে থাকি যাতে আমাদের মৎস্যজীবীরা কোনোরকম কষ্ট না পান। সেদিকে আমরা বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এভাবে মাছ উৎপাদনে আমরা বিশেষ যতœ নিচ্ছি। এ কারণে আমরা খাদ্য নিরাপত্তার পর এখন পুষ্টি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়াতে মানুষ আর পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন না।
তিনি বলেন, সেই সঙ্গে আমি অনুরোধ করব খাদ্য তালিকায় শুধু বেশি করে ভাত খাওয়া নয় সেই সঙ্গে বেশি করে মাছ, শাক-সবজি এবং ফলমূল খাওয়াসহ পুষ্টিগুণ যেন থাকে সে ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চাই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমি এটুকু বলব, যে আদর্শ এবং নীতি নিয়ে তিনি এদেশ স্বাধীন করেছিলেন সেই পদাঙ্ক অনুসরণ করে দেশকে আমরা উন্নত, সমৃদ্ধ করব এবং জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব।
তিনি পুনরায় সবাইকে কোভিড-১৯ সম্পর্কে সতর্ক করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। যাতে করোনাভাইরাস কারো ক্ষতি করতে না পারে। সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। নিজেকে এবং অপরকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।’
বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি সায়ীদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শেখ আজগর নস্করের সঞ্চলনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় সদস্য শাহাবুদ্দীন ফরাজী, এবিএম রিয়াজুল কবির কাওছার, মৎস্যজীবী লীগের কার্যকরী সভাপতি সাইফুল আলম মানিকসহ কেন্দ্রীয় এবং মহানগর উত্তর-দক্ষিণের নেতাকর্মীরা। এর আগে সকাল ৮টায় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মৎস্যজীবী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন তারা। দুপুর ১টায় কেক কাটার মধ্যদিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেন মৎস্যজীবী লীগের নেতাকর্মীরা।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More