শনাক্ত দুই লাখ ছুঁই ছুঁই : মৃত্যু ছাড়ালো আড়াই হাজার

স্টাফ রিপোর্টার: দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। শনাক্তের ১৩২ দিনে শুক্রবার সরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়ে গেছে। শনাক্ত রোগীর সংখা পৌঁছেছে প্রায় দুই লাখে। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় নতুন আরও ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫৪৭।  একদিনে আরও ৩ হাজার ৩৪ জনের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে। দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এখন ১ লাখ ৯৯ হাজার ৩৫৭ জন। আইইডিসিআরের অনুমিতহিসেবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১ হাজার ৭৬২ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৮ হাজার ৭২৫ জন হয়েছে।  শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরেন। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিলো ৮ মার্চ, তা দেড় লাখ পেরিয়ে যায় ২ জুলাই। সেদিন ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা একদিনের সর্বোচ্চ। আর ১৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। ৫ জুলাই তা দুই হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৩০ জুন একদিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা একদিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু। বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮০টি পরীক্ষাগারে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৬৮১টি, পরীক্ষা করা হয়েছে ১৩ হাজার ৪৬০টি। এখন পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১০ লাখ ছয় হাজার ৭৯১টি। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৫৪ শতাংশ, এখন পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৮০ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ২৮ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ। নাসিমা সুলতানা জানান, মারা যাওয়া ৫১ জনের মধ্যে পুরুষ ৪০ জন, আর নারী ১১ জন। এখন পর্যন্ত মোট পুরুষ মারা গেছেন দুই হাজার ১১ জন, যা ৭৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং নারী ৫৩৬ জন, যা ২১ দশমিক শূন্য চার শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে মারা গেছেন ৪২ জন, আর বাড়িতে ৯ জন। এদের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে সাতজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ১১ জন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে দুজন রয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬ জন, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে ছয়জন করে, রাজশাহী ও সিলেটে তিনজন করে এবং রংপুর বিভাগে চারজন রয়েছেন। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে এক হাজার ২৫৫ জন, যা ৪৯ দশমিক ২৮ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৫৫ জন, যা ২৫ দশমিক ৭২ শতাংশ, রাজশাহী বিভাগে ১৩১ জন, যা ৫ দশমিক ১৪ শতাংশ, খুলনা বিভাগে ১৫৫ জন, যা পাঁচ দশমিক ৮৯ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে ৯৭ জন, যা তিন দশমিক ৮১ শতাংশ, সিলেট বিভাগে ১১৬ জন, যা চার দশমিক ৫৫ শতাংশ, রংপুর বিভাগে ৮৭ জন, যা তিন দশমিক ৪২ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৫৬ জন, যা দুই দশমিক ২০ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ৮১২ জন, আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৫৯৩ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৮ হাজার ২৫০ জন। ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছেন দুই হাজার ২৬১ জন, এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে গেছেন চার লাখ পাঁচ হাজার ৫৩০ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৬০ হাজার ২২৬ জন।

 

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More