শ্বশুর-পুত্রবধূসহ কালবোশেখীতে প্রাণ গেলো ৭ জনের

স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকাসহ কয়েকটি দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবোশেখী ঝড় বয়ে গেছে। গতকাল বুধবার ভোরে ও বিকেলে ঝড়ের তা-বে ৫ জেলায় ৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া ঘরবাড়ি ও গাছপালার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে অনেক জেলায়। চট্টগ্রাম বন্দরের একটি বাল্কহেড ডুবে গেছে কর্ণফুলীতে।
জানা গেছে, বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে শ্বশুর ও পুত্রবধূ, চট্টগ্রামের সীতাকু-ু ও ফটিকছড়ি, মানিকগঞ্জের দৌলতপুর, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর এবং কুমিল্লার মুরাদনগরে একজন করে মারা গেছেন।
বরিশাল ব্যুরো জানিয়েছে, বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে কালবোশেখী ঝড়ে ঘরচাপা পড়ে রুস্তম আলী হাওলাদার (৭৫) এবং তার পুত্রবধূ জয়নব বিবি (৩৫) মারা গেছেন। এছাড়া ঝড়ে ১৫-২০টি বসত ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে উপজেলার আলিমাবাদ ইউনিয়নের গাগুরিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
শ্রীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহামদু বেপারী জানান, রুস্তম আলী হাওলাদার পরিবার নিয়ে শ্রীপুরের মিয়ারচর এলাকার থাকতেন। নদী ভাঙনের কবলে পড়ে তিনি পরিবার নিয়ে আলিমাবাদের গাগুরিয়ায় নতুন করে ঘর তুলে বসবাস শুরু করেন। বুধবার পৌঁনে ৫টার দিকে হঠাৎ করে ঝড় শুরু হলে গাগুরিয়া গ্রামের ১৫ থেকে ২০টি ঘর বিধ্বস্ত হয়। নিজ ঘরেই চাপা পড়েন রুস্তম ও তার পুত্রবধূ জয়নব। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হুমায়ন কবির নামে এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছে, বুধবার সকালে চট্টগ্রামে হঠাৎ বয়ে গেছে কাল বৈশাখী ঝড়। সঙ্গে হয়েছে বৃষ্টিও। ঝড়ে জেলার ফটিকছড়িতে গাছের ডাল ভেঙে রিনা আক্তার (৪০) নামে গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের একটি বাল্কহেড ডুবে গেছে কর্ণফুলীতে। তবে বেশ কয়েকদিনের অসহ্য গরমের পর বৈশাখি ঝড়ের সঙ্গে বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তিও ছিলো নগরবাসীর মধ্যে।
বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে যায়। এরপরই শুরু হয় দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে হিমেল দমকা হাওয়াসহ কালবোশেখী ঝড়। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়ে রিনা আকতার (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। সকালে উপজেলার উত্তর কাঞ্চননগর ঝরঝরি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রিনা আকতার ওই এলাকার শাহ আলমের স্ত্রী।
এদিকে চট্টগ্রামের সীতাকু-ে কালবোশেখীর কবলে পড়ে একটি স্পিডবোটডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়ায় গাছের নিচে চাপা পড়ে রুহুল আমিন (৬২) নামের এক বৃদ্ধের মারা গেছেন। উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের মধ্য কেরোয়া গ্রামে বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই গ্রামের মাঝি বাড়ির মৃত শফি উল্লাহর ছেলে। বৃদ্ধের ছেলে বিল্লাল হোসেন জানান, সকাল ৮টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে সংলগ্ন দোকানে যান। ঝড়ো হাওয়া শুরু হলে বাড়ির দিকে ফিরতে থাকেন। তাদের বাড়ির পাঞ্জেগানা মসজিদের সামনে পাকা সড়কের কাছে আসলে একটি নারিকেল গাছ পড়লে তিনি তার নিচে চাপা পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কুমিল্লা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, কুমিল্লার মুরাদনগরে কালবোশেখী ঝড়ের তা-বে গাছের নিচে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা চাপা পড়ে শিশু মিয়া (৬০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শিশুসহ আরও ৫ জন। বুধবার সকালে উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন সলফা গ্রামের রামচন্দ্রপুর-শ্রীকাইল সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু মিয়া উপজেলার পূবধইর-পূর্ব ইউনিয়নের খোশঘর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও নিহতের পরিবারসূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কাজে নিহত শিশু মিয়া তার পরিবারের লোকজন নিয়ে বুধবার সাড়ে ৯টার দিকে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা নিয়ে মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর-শ্রীকাইল সড়ক হয়ে রামচন্দ্রপুর ফেরিঘাট এলাকায় যাচ্ছিলেন। এ সময় সিএনজিটি সলফা গ্রামে পৌঁছুনো মাত্র হঠাৎ কালবোশেখী ঝড় শুরু হয়। এ সময় সড়কের পাশে থাকা একটি গাছের ডাল ভেঙে সিএনজি চালিত অটোরিকশার ওপর পড়লে গাছের নিচে চাপা পড়েন ও অটোরিকশার যাত্রীরা। এ সময় অটোরিকশায় থাকা শিশু মিয়া ঘটনাস্থলেই মারা যান। এছাড়া অটোরিকশার চালকসহ পাঁচ যাত্রী আহত হয়।
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় কৃষাণী ফিরোজা বেগম (৫৫) জমিতে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হয়েছে। বুধবার সকালে খলসী ইউনিয়নের রৌহা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফিরোজা ওই গ্রামের আবুল হোসেনের স্ত্রী। তিনি ৩ সন্তানের জননী।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ফিরোজা বাড়ি থেকে অর্ধ কিলোমিটার দূরে নিজ জমিতে সকালে ভুট্টা ক্ষেতে কাজ করতে যায়। এ সময় হঠাৎ ঝড়ো বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে তার শরীরের বেশ কিছু অংশ ঝলসে যায়। গুরুত্বর অবস্থায় আশেপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে বাড়ি নেয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More