শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় এইচ টি ইমামের চিরবিদায়

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। এর আগে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার কফিনে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পরে বাদ আসর গুলশান আজাদ মসজিদে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় মরহুমের আত্মীয়স্বজন, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বর্তমান ও সাবেক সচিব, সরকারের বিভিন্ন দফতরের পদস্থ কর্মকর্তা, তার দীর্ঘ কর্মজীবনের সহকর্মী এবং সহযোদ্ধারা অংশ নেন। জানাজার আগে মুসল্লিদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত কথা বলেন এইচ টি ইমামের ছেলে তানভীর ইমাম এমপি। তিনি তার বাবার পক্ষে সবার কাছে ক্ষমা ও দোয়া চান।
কিডনি জটিলতায় প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দিবাগত রাত ১টা ১৫ মিনিটে এইচ টি ইমাম মারা যান।
বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ হেলিকপ্টারে জন্মস্থান সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় নেয়া হয়। সেখানে আকবর আলী সরকারি কলেজ মাঠে এইচ টি ইমামের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা দেড়টার দিকে এইচ টি ইমামের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হলে সেখানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যবস্থাপনায় বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষ তার কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদের পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী কফিনে ফুল দেন। এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর পক্ষ থেকে সংসদের সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস কমোডর এম এম নাঈম রহমান শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুখ্য সচিব ডক্টর আহমদ কায়কাউস।
মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্ব পালন করা এইচ টি ইমাম ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সরকারের চাকরিতে থাকা অবস্থায় পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য ত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন এইচ টি ইমাম। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রিপরিষদ সচিবও তিনি।
আওয়ামী লীগের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মুকুল বোস, সভাপতিম-লীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপদফতর সম্পাদক সায়েম খান ফুল দিয়ে দলের উপদেষ্টা পরিষদ এই সদস্যকে শেষ বিদায় জানান। শ্রদ্ধা জানাতে আসেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম; সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ এবং ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে সংগঠন দুটির নেতাকর্মীরাও এইচটি ইমামের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান ও প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তারাও শ্রদ্ধা জানান।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More