সচিবালয়ে বিএসআরএফ সংলাপ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চক্রান্তকারী ও ইন্ধনদাতারা তালিকা প্রকাশ করা হবে : ধর্মীয় সহিংসতায় ২ শতাধিক মামলা : গ্রেফতার ৭ শতাধিক
স্টাফ রিপোর্টার: কুমিল্লায় কোরআন অবমাননার কথিত অভিযোগ তুলে পূজাম-প এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, দোকানপাটে হামলা, লুটপাট ও নির্যাতনকারী ও ইন্ধনদাতারা সবার ‘পরিচিত’। শিগিগরই এই সহিংসতায় ইন্ধনদাতাদের নাম প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এই হামলায় এখন পর্যন্ত পাঁচ জন নিহত হয়েছেন। এ পর্যন্ত ২০০ শতাধিক মামলা হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছেন সাত শতাধিক। রংপুর ও নোয়াখালীর ঘটনায় ইন্ধনদাতাদের নাম বলেছে গ্রেফতারকৃতরা। তবে আমরা শতভাগ নিশ্চিত হয়ে জনসম্মুখে নাম প্রকাশ করব। সেখানে বিএনপি-জামায়াত আছে কি না, সে বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে চান না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কুমিল্লার ঘটনার পর থেকেই বলে এসেছি যে, এর পেছনে কোনো চক্রান্ত রয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের কোনো মানুষ এই কাজ করতে পারে না। নোয়াখালীতে হামলার ঘটনায় কয়েক জন গ্রেফতার হয়েছে এবং অনেকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের জবানবন্দিতে যেসব নাম এসেছে তাদের প্রায় সবাইকে আপনারা চেনেন।
প্রসঙ্গত, নোয়াখালীর ঘটনায় গ্রেফতার জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা ইতিমধ্যে আদালতে ‘স্বীকারোক্তিমূলক’ জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে ‘বিএনপি-জামায়াতের ১৫ নেতার সম্পৃক্ততার কথা বলেছেন তিনি। আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন। বঙ্গবন্ধু বলে গেছেন, এ দেশ সবার। এ দেশে ধর্ম নিয়ে বৈষম্য হবে না। এ দেশ হবে ধর্মনিরপেক্ষ। আমরা সেই আদর্শই ধারণ করে চলেছি। আমি দেখেছি হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই যার যার ধর্ম পালন করে আসছেন এখানে। কিন্তু ইদানিং দেখি পূজাম-পে সহিংসতা হচ্ছে। পূজাম-পে কে বা কারা কোরআন শরিফ রেখে দিয়ে একটা বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। একটা উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।’ তিনি বলেন, ‘কোরআন শরিফ রাখার পর আমরা এ ঘটনা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম, আমাদের পুলিশের সব পর্যায়ের টিম সেখানে পাঠিয়েছিলাম, যাতে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন হয়। আমরা দেখলাম, মসজিদের পাশে একটা পুকুর। পুকুরে মাছ চাষ হতো। পুকুরের মাছ চাষি মসজিদের বারান্দায় একটা ক্যামেরা বসিয়েছেন। যেখানে পরিষ্কার দেখা গেছে, কেউ মসজিদ থেকে কোরআন নিয়ে হনুমানের গদার স্থানে রেখে গদা নিয়ে বেরিয়ে এলেন।’ মন্ত্রী বলেন, ‘যখন এ ঘটনা সামনে চলে এলো, তখন তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। আমরা তাকে গ্রেফতার করেছি, তার নাম প্রকাশ করেছি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’ আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, কুমিল্লার ঘটনায়ও সেরকম নাম আসছে আর রংপুরেও একই। তবে আমরা শতভাগ নিশ্চিত হয়ে আপনাদের সামনে নাম প্রকাশ করব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেখানে বিএনপি-জামায়াত আছে কি না, সেটা এখনই বলতে চাচ্ছি না। আমরা নিশ্চিত হয়েই আপনাদের জানাতে চাই। গ্রেফতারদের জবানবন্দি নেয়া হচ্ছে, শিগিগরই সেই ইন্ধনদাতাদের নাম প্রকাশ করা হবে।
চাঁদপুর ও রংপুরের সহিংসতায় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নামও এসেছে, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে দেখা হয়, এখানে রাজনৈতিক পরিচয় নেই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নের কথা তুলে ধরে কামাল বলেন, তিনি বলে গেছেন এদেশ সবার, এদেশে ধর্ম নিয়ে বৈষম্য হবে না। এদেশ হবে ধর্মনিরপেক্ষ। আমরা সে আদর্শই ধারণ করে চলেছি। আমি দেখেছি হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই যার যার ধর্ম পালন করে আসছেন। গতকাল সচিবালয়ে বিএসআরএফের সংলাপে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More