সরকারের বিরুদ্ধে জনগণ আগ্নেয়গিরির মতো ফুঁসে উঠছে : ফখরুল

 

স্টাফ রিপোর্টার: সরকারের বিরুদ্ধে জনগণ আগ্নেয়গিরির মতো ফুঁসে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় প্রেসক্লাবে গতকাল বুধবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় বিএনপির বিভিন্ন বিভাগীয় গণসমাবেশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার কতো কাপুরুষ, কাওয়ার্ড দেখেন। এই যে সমাবেশগুলো হচ্ছে প্রত্যেকটা সমাবেশ কতো শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কোথাও কোনো রকম সমস্যা হচ্ছে না। এর মধ্যেও তারা আমাদের ৫০০ বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে ফেলেছে, মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। আবার গায়েবি মামলা দেয়া শুরু হয়েছে। ১৫ বছর ধরে তো এই মামলা বহু দিয়েছ, বহু মানুষ খুন করেছ, ৬০০ মানুষকে গুম করে দিয়েছ। এসব করে রোখা যাবে না। তিনি বলেন, এখন জনগণ আগ্নেয়গিরির মতো ফুঁসে উঠেছে। এই ফুঁসে উঠার মধ্য দিয়েই এই সরকারের পতন হবে। আমরা বিশ্বাস করি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে, জনগণের বাংলাদেশ তৈরি হবে।

‘বিভাগীয় সমাবেশে অভূতপূর্ব সাড়া’ : মির্জা ফখরুল বলেন, এটা আশার কথা। আপনারা নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন, এই বিভাগীয় সমাবেশগুলোতে যোগ দিচ্ছে কারা? দেখবেন, লুঙ্গি পরে আসছে, হাতে একটা ব্যাগ নিয়ে আসছে এবং তিন দিনের প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে চিঁড়া-মুড়ি-গুড় নিয়ে। এসে তারা সমাবেশগুলোকে সফল করছে। এটা অভূতপূর্ব। তিনি বলেন, আমরা যদি এটাকে ধারণ করে বাংলাদেশের মানুষের জন্য, তাদের মুক্তির জন্য কাজে লাগাতে পারি তাহলে আমরা সফল হবো। কে কোথায় কী বলল না বলল, সে দিকে বেশি কান দেয়ার দরকার নাই। কে কী বলছে, খেলা বলছে না কী বলছে- বলতে দিন। আমরা আমাদের লক্ষ্যে অটুট থাকব। এবার আমাদের বিজয় অর্জন করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

‘আমরা কঠিন যুদ্ধ শুরু করেছি’ : মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা কঠিন যুদ্ধ শুরু করেছি। আমরা কঠিন লড়াই শুরু করেছি। এই লড়াইয়ে আমাদের জয়ী হতে হলে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে প্রতি মুহূর্তে স্মরণ করতে হবে। কিভাবে উনি হেঁটে হেঁটে ফারাক্কা বাঁধে গেছেন, কিভাবে উনি মানুষকে সাথে নিয়ে গ্রামের পর গ্রাম ঘুরেছেন, কিভাবে উনি মানুষের দুঃখের সময়ে মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন।

আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানও কিন্তু সেই পথ (ভাসানীর পথ) দেখিয়েছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শুধু ৯ বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেননি, উনি এখনো চার বছর ধরে ভয়াবহ ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের নির্যাতনে কারাগারে বন্দী হয়ে আছেন। আমাদের নেতা তারেক রহমান নির্বাসিত হয়ে বিদেশে আছেন। ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা।

জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বিএনপির গঠিত মৃত্যুবার্ষিকী পালন জাতীয় কমিটির উদ্যোগে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়।

১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর মওলানা ভাসানী মারা যান। দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি দুইদিনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আজ বিএনপির নেতারা টাঙ্গাইলের সন্তোষে মরহুম নেতার কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে তাকে শ্রদ্ধা জানাবেন।

মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে বিরল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অভিহিত করে তার আদর্শ অনুসরণ করার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, এখন তো রাজনীতি বদলে গেছে। এই সময়ে মওলানা ভাসানীকে স্মরণ করা, তাকে অনুসরণ করার লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না। তিনি (ভাসানী) নিজের জন্য কোনো কিছু চাননি। ১৯৫৪ সালে তার দল নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেছে কিন্তু মওলানা ভাসানী মন্ত্রিত্ব নেননি। এই হচ্ছে মওলানা ভাসানী।

জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য নজমুল হক নান্নু, আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, মীর সরফত আলী সপু, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, মৎস্যজীবী দলের আব্দুর রহিম, মওলানা ভাসানীর স্বজন মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More