হেফাজতের মদদদাতা বিএনপি-জামায়াত: প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরে বাধা দিতে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে বিএনপি হাত মিলিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বিএনপির কর্মকা-ে অবাক লাগে। বিএনপি-জামায়াত হেফাজতের মদদদাতা। এখানে জ্বালাও-পোড়াও যত কিছু করতে হবে সেটার পরামর্শ তারা দিয়েছে। পরে তাদের কর্মকা-ে সমর্থনও দেয়। রোববার সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী এ সময় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ বিশ্বব্যাপী মারাত্মক আকার ধারণ করছে। দেশেও আবার দেখা যাচ্ছে দ্বিতীয় ঢেউ। এটা সামলাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। হেফাজতের কর্মকা- সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, কিছু লোকের জন্য ইসলাম ধর্মের বদনাম কখনোই মেনে নেয়া যায় না। ধর্মের নাম নিয়ে অধর্মের কাজ জনগণ কখনও মেনে নেবে না। জনগণ কখনও সহ্য করবে না। পবিত্র ধর্মকে কেউ অসম্মান করবে, সেটা চাই না। এ ধরনের অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, আজকে কী ঘটনা ঘটিয়েছে তারা। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে হেফাজত শুরু করলো তা-ব। এই হেফাজত তো একা নয়। হেফাজতের সঙ্গে জামায়াত-বিএনপি জড়িত। তাদের প্রত্যেকটি কর্মকা-ে তা দেখা যায়। হেফাজতের সবারই যে এর মধ্যে জড়িত তাও কিন্তু নয়। ২৬ মার্চ ও তার আগে-পরের ঘটনার কিছু স্থিরচিত্র সংসদে পাওয়ার পয়েন্টে দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৬ মার্চ হেফাজত গুজব ছড়ালো, বায়তুল মোকাররমে মানুষ মারা হয়েছে। ২৬ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত তারা দেশে সহিংসতা চালায়। ২৭ ও ২৮ তারিখে হেফাজতের পক্ষে বিএনপি-জামায়াতের বিবৃতি দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতার অংশ। ২৮ মার্চ হরতাল ডেকে বিনা উসকানিতে সারাদেশে তা-ব চালায় হেফাজত। ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম ধর্মের নামে জ্বালাও-পোড়াও কেন? ২০১৩ সালেও আমরা বিএনপির জ্বালাও-পোড়াও দেখেছি। হেফাজতকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, কোনোকিছু হলেই আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের অফিস ও বাসায় আগুন দেয়। আগুন নিয়ে খেলছে তারা। এক ঘরে আগুন লাগলে তো তা অন্য ঘরেও চলে যেতে পারে। সেটা কী তাদের হিসাবে নেই? আজকে রেলস্টেশন থেকে শুরু করে ভূমি অফিস, ডিসি অফিস সব জায়গায় আগুন দিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের মাদরাসা, তাদের বাড়িঘরে যদি আগুন লাগে তখন তারা কী করবে? জনগণ কী বসে বসে এগুলো সহ্য করবে? তারা তো সহ্য করবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশ কেন ধৈর্য দেখিয়েছে- এ প্রশ্ন এই সংসদে এসেছে। আমরা ধৈর্য দেখিয়েছি এগুলো বিরত করার জন্য। সংঘাতে সংঘাত বাড়ে, আমরা তা চাইনি। সুবর্ণজয়ন্তী ভালোবেসে উদযাপন করতে চেয়েছি। শেখ হাসিনা আরও বলেন, একজন মুসলমান হয়ে আরেক মুসলমানের জানমাল রক্ষা তাদের দায়িত্ব। কিন্তু হেফাজতের নামে তারা জ্বালাও-পোড়াও করে যাচ্ছে। এটা সব মুসলমানের জন্য লজ্জার। পবিত্র ধর্মকে তারা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করে দিচ্ছে। তাদের কর্মকা-ে বহু মানুষের জীবন গেছে। ২৬ মার্চও অনেক মানুষের জীবন গেছে। এর জন্য দায়ী তো তারা। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই অনুষ্ঠানে আমি গিয়েছিলাম। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়াও যান। সেখানে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রপতি ইয়াসির আরাফাত খালেদা জিয়াকে দেখে হাত বাড়ালেন। খালেদা জিয়া হাত গুটিয়ে বসে থাকলেন। কিন্তু সেই খালেদা জিয়াকে দেখলাম মোদি সাহেবের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করা ছবি। সেই হাত যেনো আর ছাড়েন না। তার সঙ্গে টেলিফোনে- সেই খিল খিল করা হাসির আওয়াজও সবার কানে বাজে। আবার সুবর্ণজয়ন্তীতে যখন মোদি আসবেন সেখানে বাধা দেয়া আর হেফাজতের সঙ্গে হাত মেলানো কেন? এ প্রশ্নের জবাব কোত্থেকে পাবো জানি না। তবে এ প্রশ্ন রেখে গেলাম। আগামী এক সপ্তাহ সরকার ঘোষিত লকডাউনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, জানি সবার একটু কষ্ট হবে। মানুষের একটু সমস্যা হবে। তারপরও বলব, জীবনটা বড়। জীবনটা আগে। জীবন বাঁচানোটাই সকলের করণীয়। এক সপ্তাহের লকডাউন মানলে অন্তত কিছুটা হলেও করোনা নিয়ন্ত্রণে আসবে। তিনি বলেন, এর আগে বয়স্করা সংক্রমিত হতেন। কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে, তরুণরা এমনকি শিশুরাও সংক্রমিত হচ্ছে। তাদেরও সুরক্ষিত রাখতে হবে। চিকিৎসা, টিকাসহ সব ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। এক দফা টিকা দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ডোজও শুরু হবে। সঙ্গে সঙ্গে নতুনভাবে টিকা নিয়ে আসার ব্যবস্থা করবো।
‘অপবিত্র কাজ করে ধরা’: সোনারগাঁয়ের একটি রিসোর্টে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক যে নারীকে নিয়ে অবস্থান করেছিলেন, তিনি পার্লারে কাজ করেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাদের চরিত্রটা কী তা বলতে চাই না, গতকালই আপনারা দেখেছেন। ধর্মের নাম, পবিত্রতার নাম বলে অপবিত্র কাজ করে ধরা পড়ে। তা ঢাকার জন্য নানা রকম চেষ্টাও করছে। তাকে বউ হিসেবে পরিচয় দেয়। আবার নিজের বউয়ের কাছে বলে যে, অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমি এটা বলে ফেলেছি। যারা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করে, তারা এ রকম মিথ্যা কথা বলতে পারে? কাজেই তারা কী ধর্ম পালন করবে? মানুষকে কী ধর্ম শেখাবে? সরকারপ্রধান বলেন, হেফাজতের সদস্যদের অনুরোধ করব, তারা যেনো বুঝে নেন যে, কেমন নেতৃত্ব তাদের। জ্বালাও-পোড়াও করে তিনি বিনোদন করতে গেলেন একটি রিসোর্টে একজন সুন্দরী মহিলা নিয়ে। তারা ইসলাম ধর্মের কলঙ্ক। ইসলাম ধর্মকে তারা ছোট করছে। কিছু লোকের জন্য আজকে এ ধর্মটা জঙ্গির নাম, সন্ত্রাসের নাম। আর এখন যে চরিত্র দেখাল- দুশ্চরিত্রের নাম। সব নাম জুড়ে দিচ্ছে।

 

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More