দেশে করোনায় মৃত্যুর দ্বিগুণ আত্মহত্যা

স্টাফ রিপোর্টার: করোনার (কোভিড-১৯) সময়েও দেশে সবচেয়ে বেশি প্রাণ ঝরেছে আত্মহত্যা ও হৃদরোগে। করোনায় যে সময়ে ৫ হাজার ২০০ জন মারা গেছেন, ঠিক ওই সময়ে আত্মহত্যা করে মারা গেছেন প্রায় ১১ হাজার মানুষ। হৃদরোগে মারা গেছেন ১ লাখ ৮০ হাজার জন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ভবনে ‘স্টেকহোল্ডার (মিডিয়া) কনসালটেশন ওয়ার্কশপ’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ তথ্য জানান পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী। তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে দুটি কাজ করেছি। একটা পরিকল্পনামন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছেন। কিন্তু আরেকটি বিষয় তুলে ধরা হয়নি। করা উচিত ছিল পরে আমার মনে হয়েছে।
মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব আমাদের পরামর্শ দিয়েছিলেন। আমাদের পারসেপশন (ধারণা) এমন যে, করোনার সময়ে অন্য অসুস্থতায় মানুষ কম মারা যাচ্ছেন। করোনায় মানুষ মারা যাচ্ছেন এবং অন্য অসুখে কম যারা যাচ্ছেন। কিন্তু এই সময় মানুষ ডাক্তারের কাছেও কম যাচ্ছেন। করোনার সময়ে আমি প্রায় আড়াই মাস ফিল্ডে ছিলাম। ওখানে এই পারসেপশন সবার মধ্যেই ছিল। স্যার বলার পর আমাদের নতুন কোনো সার্ভে (জরিপ) করতে হয়নি। আমাদের চলমান যে সার্ভেগুলো আছে, সেগুলো থেকে তথ্য নিয়ে দেখলাম, আসলে আমাদের পারসেপশন সঠিক নয়। তিনি বলেন, আগের বছরের ১০ মাস এবং এই অর্থবছরের ১০ মাস নিয়ে এই স্টাডি করেছিলাম। স্টাডিতে দেখা গেছে, (১০ মাসে) করোনায় ৫ হাজার ২০০ জনের মতো লোক মারা গেছেন। কিন্তু করোনার এই সময়ে শুধু হার্ট অ্যাটাকে এবং হার্ট ফেইলিওর বা হার্টের অসুখে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষ মারা গেছেন। করোনায় যত মানুষ মারা গেছেন, তার চেয়ে আত্মহত্যায় বেশি মারা গেছেন। এ সময়ে আত্মহত্যায় মারা গেছেন প্রায় ১১ হাজার মানুষ। আমরা শুধু করোনার পেছনেই দৌড়েছি। কিন্তু আমাদের অন্য বিষয়েও যে ইন্টারফেয়ার (নজর দেওয়া) দরকার, করোনার জন্য হয়তো সেগুলোয় গুরুত্ব দিচ্ছি না।
এর আগে ৪ ফেব্রুয়ারি সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) এক ভার্চুয়াল সভায় জানানো হয়, মার্চ ২০২০ থেকে নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন ১ হাজার ৫৮ জন মানুষ। অন্যদিকে ২০১৯ সালের জুন থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২০- এই নয় মাসে এ সংখ্যা ছিল ৯৪০ জন। অর্থাৎ করোনার নয় মাসে আত্মহত্যার হার ১৩ শতাংশ বেড়েছে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More